সোনাইমুড়ি পৌর মেয়র নির্বাচনে উন্নয়নের স্বপ্নে জনতার প্রথম পছন্দ জসীমউদ্দীন
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন জনদরদী সমাজসেবক, মানবিক নেতা ও ত্যাগী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব জসীম উদ্দিন। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকা এই নেতা ইতোমধ্যেই জনগণের হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন। তাঁর প্রার্থিতাকে ঘিরে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে আশাবাদ ও উৎসাহের সঞ্চার হয়েছে।
বর্তমানে তিনি সোনাইমুড়ী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক এবং নোয়াখালী জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ২০১২ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সোনাইমুড়ী পৌরসভার সফল নির্বাচিত কাউন্সিলর এবং ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুনরায় নির্বাচিত কাউন্সিলর হিসেবে নিষ্ঠা, সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই সময়কালকে এলাকাবাসী উন্নয়নের স্বর্ণালী অধ্যায় হিসেবে বিবেচনা করেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি এসএসসি ও এইচএসসি কুমিল্লা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই নেতৃত্বের গুণাবলী ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৮৮-১৯৯০ সালে সোনাইমুড়ী সরকারি মডেল হাইস্কুলে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে ১৯৯২-১৯৯৩ সালে সোনাইমুড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত এ.জি.এস, ১৯৯৪ সালে কলেজ ছাত্রদলের সহ-সভাপতি, ১৯৯৫ সালে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৬-১৯৯৮ সালে থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯৯-২০০০ সালে আহ্বায়ক এবং ২০০১-২০০৩ সালে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব সুস্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। একই সময়ে তিনি নোয়াখালী জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে ২০০৪-২০০৭ সালে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক, ২০০৮-২০১০ সালে সভাপতি, ২০১০-২০১২ সালে জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি এবং ২০১১-২০১৬ সালে পুনরায় উপজেলা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১২-২০১৮ সালে উপজেলা বিএনপির যুব বিষয়ক সম্পাদক, ২০১৯-২০২১ সালে যুবদলের সদস্য সচিব এবং বর্তমানে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একইসঙ্গে তিনি নোয়াখালী জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে সংগঠন যেমন শক্তিশালী হয়েছে, তেমনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে দলের সম্পর্কও আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০১৫-২০১৮ সালে সোনাইমুড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন এবং পরে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সোনাইমুড়ী বায়তুল আমান জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে নানা রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও মামলার সম্মুখীন হলেও তিনি কখনোই জনগণের সেবা থেকে বিচ্যুত হননি। তিনি বলেন উনার নামে ১৩ টি মামলা হয়। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করে এতে ওনার পায়ের হাড় ও আঙ্গুলের হাড় ভেঙ্গে যায়,এবং শরীরে বিভিন্ন জায়গায় আঘাত প্রাপ্ত হন তাদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মাথা মাথা ফেটে যায় এবং বাইশটি সেলাই করতে হয়। দীর্ঘ এক বছরের উপরে পঙ্গুত্ব জীবনযাপন করতে হয় । এতেও ওনার মনোবল ভেঙ্গে যায়নি বরং আরও দৃঢ় প্রত্যয়ে তিনি জনসেবায় আত্মনিয়োগ করেছেন।
জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বিশেষভাবে প্রশংসিত। ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর থাকাকালীন সময়ে তিনি প্রতিটি বাড়ির আঙিনা পাকা করা, গুরুত্বপূর্ণ কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তাঘাট উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। তাঁর এসব উদ্যোগ এলাকার চেহারা বদলে দিয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।
২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় তিনি মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সরকারি সহায়তার অপেক্ষা না করে নিজের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ মানুষের হৃদয়ে গভীর কৃতজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে।
জসীম উদ্দিন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তিনি মেয়র নির্বাচিত হলে সোনাইমুড়ী পৌরসভা হবে একটি আধুনিক, উন্নত ও নিরাপদ জনপদ। তিনি মাদক ব্যবসা, মাদক সেবন এবং ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন। তাঁর লক্ষ্য একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
নিজের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের ভালোবাসার জন্য রাজনীতি করি। আমি এমন একজন মেয়র হতে চাই, যাকে মানুষ নিজের পরিবারের সদস্য মনে করে একজন সত্যিকারের মানবিক মেয়র।
সোনাইমুড়ী পৌরসভার সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা, জসীম উদ্দিনের মতো অভিজ্ঞ, সৎ, ত্যাগী ও জনবান্ধব নেতা মেয়র নির্বাচিত হলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং পৌরসভা একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।



আপনার মতামত লিখুন