খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ড্রোন হামলায় কাঁপল মস্কো, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৪২ অপরাহ্ণ
ড্রোন হামলায় কাঁপল মস্কো, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে চালানো এ হামলায় তেল শোধনাগার, আবাসিক ভবন ও শপিং মলে আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলের আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও কালো ছাই ও ধোঁয়ার কণায় মিশ্রিত বৃষ্টির ফোঁটাও পড়তে দেখা যায়।

রুশ কর্মকর্তারা জানান, হামলায় রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একটি শপিং মল ও আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন।

হামলার কারণে মস্কোর বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরগুলো। বিশেষ করে রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর Sheremetyevo International Airport থেকে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।

এদিকে হামলার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin কাজান শহরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন। তবে দিনভর বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিলেও এই হামলা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sergey Lavrov হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।

অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এই হামলাকে ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে রুশ হামলায় একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল এবং ইউনেস্কো-সুরক্ষিত একটি প্রাচীন মঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।

জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার জনগণকে বুঝতে হবে যে এই যুদ্ধের দায় সাধারণ মানুষের নয়, বরং পুতিনের সিদ্ধান্তের ফল। ইউক্রেন যদি পুড়ে, তাহলে মস্কোও আগুনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।”

মস্কোর মেয়র Sergey Sobyanin জানান, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ১৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সারা দেশে রাতভর ৫০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলার হুমকি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।