ড্রোন হামলায় কাঁপল মস্কো, প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি রাশিয়ার
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ভোরে চালানো এ হামলায় তেল শোধনাগার, আবাসিক ভবন ও শপিং মলে আগুন লাগে। এতে অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর মস্কোর দক্ষিণাঞ্চলের আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও কালো ছাই ও ধোঁয়ার কণায় মিশ্রিত বৃষ্টির ফোঁটাও পড়তে দেখা যায়।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, হামলায় রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশাপাশি একটি শপিং মল ও আবাসিক ভবনে আগুন ধরে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেন।
হামলার কারণে মস্কোর বিমান চলাচলেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ রাখা হয় রাজধানীর প্রধান বিমানবন্দরগুলো। বিশেষ করে রাশিয়ার সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর Sheremetyevo International Airport থেকে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়।
এদিকে হামলার সময় রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin কাজান শহরে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নেতাদের নিয়ে একটি শীর্ষ সম্মেলনে ব্যস্ত ছিলেন। তবে দিনভর বিভিন্ন বিষয়ে বক্তব্য দিলেও এই হামলা নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী Sergey Lavrov হামলার প্রতিক্রিয়ায় কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।
অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy এই হামলাকে ‘ন্যায্য প্রতিক্রিয়া’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে কিয়েভে রুশ হামলায় একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রাল এবং ইউনেস্কো-সুরক্ষিত একটি প্রাচীন মঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, “রাশিয়ার জনগণকে বুঝতে হবে যে এই যুদ্ধের দায় সাধারণ মানুষের নয়, বরং পুতিনের সিদ্ধান্তের ফল। ইউক্রেন যদি পুড়ে, তাহলে মস্কোও আগুনের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকবে না।”
মস্কোর মেয়র Sergey Sobyanin জানান, রাজধানীর দিকে ধেয়ে আসা প্রায় ১৮০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। অন্যদিকে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, সারা দেশে রাতভর ৫০০টিরও বেশি ইউক্রেনীয় ড্রোন প্রতিহত করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার ভেতরে ড্রোন হামলার পরিমাণ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা মস্কোর যুদ্ধ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।
চার বছরের বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বড় ধরনের হামলা ও পাল্টা হামলার হুমকি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

আপনার মতামত লিখুন