খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মানুষের উন্মত্ত আচরণে ক্ষুব্ধ পৃথিবী

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
মানুষের উন্মত্ত আচরণে ক্ষুব্ধ পৃথিবী

কুকুর মানুষকে কামড়িয়েছে কিন্তু কখনো কি কুকুরকে মানুষকে কামড়িয়েছে? কিন্তু কুকুরকে মানুষ কামড়ানোর চেয়েও জঘন্য কাজ করছে এই জামানায়। শুধুমাত্র মজা লুটতে এই জঘন্য কাজে নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। যা মানবতার দেয়াল কাপিয়ে তুলেছে। ২০২৫ সালের নাটোর এলাকার একটি ঘটনা নেট দুনিয়া জুড়ে তোলপাড় করে। ঘটনাটি ছিল সদ্য ভূমিষ্ঠ ৭টি কুকুরের বাচ্চাকে পুকুরে মেরে ফেলা। কুকুর মায়ের অসহায় আকুতি মানুষকে কাঁদিয়েছিলো।

ঠিক এক বছর পর, ২০২৬ সালে আবারও ব্রিজের উপর একই দৃশ্য। “দিনদুপুরে নির্মমতা: ইট বেঁধে নদীতে ফেলে কুকুর হত্যা, আটক ১”। কয়েকজন মিলে একটি পূর্ণবয়স্ক কুকুরের গায়ে ইট বেঁধে নদীতে ছুড়ে দেয়। পানিতে প্রাণীটি ছটফট করে ডুবে যায়। পাশে দাঁড়ানো মানুষ উল্লাস করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একজনকে আটক করেছে। স্থানীয়রা বলছেন, জড়িত আরও তিনজন, তাদের একজন নারী।

 

দুটি ঘটনা, দুটি বছর, একই বর্বরতা। প্রশ্ন জাগে, আমরা কোন সভ্যতার দিকে যাচ্ছি?

 

১. ঘটনা থেকে আইন: নদীতে ভাসানো বিবেক

 

নাটোরের ঘটনায় সাতটি নবজাতক বাচ্চাকে পুকুরে ডুবিয়ে মারা হয়। মা কুকুরটি ঘাটে বসে আর্তনাদ করেছিল। মোবাইলে ধারণ করা সেই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে।

 

ব্রিজের ঘটনায় দৃশ্যটা আরও ভয়াবহ। কারণ এখানে পরিকল্পনা আছে। ইট সংগ্রহ, বাঁধা, ব্রিজে ওঠা, নিক্ষেপ, উল্লাস — প্রতিটি ধাপে একটু থামলেই হত্যাটা ঠেকানো যেত। কিন্তু কেউ থামেনি।

 

*আইন কি নীরব?*

বাংলাদেশ প্রাণী কল্যাণ আইন, ২০১৯ এর ধারা ৬ ও ৭ অনুযায়ী, কোনো প্রাণীকে অকারণে কষ্ট দেওয়া, পঙ্গু করা বা হত্যা করা অপরাধ। শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর কারাদণ্ড অথবা ৫০,০০ টাকা জরিমানা। ভারতের PCA Act, 1960, যুক্তরাজ্যের Animal Welfare Act, 2006 — সবখানেই একই কথা।

 

তাহলে সমস্যা কোথায়? সমস্যা হলো আইনের প্রয়োগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। “কুকুর মেরেছি, তো কি হয়েছে?” — এই বাক্যটিই আইনকে দুর্বল করে দেয়।

 

*২. কুকুর: অভিযুক্ত নাকি উপকারী?*

 

আমরা কুকুরকে শুধু “কামড়ায়” এই একটা কারণে শত্রু ভাবি। কিন্তু তার হিসাবের খাতা খুললে লজ্জা পেতে হয়।

 

*ইতিহাসের সাক্ষী:* মানুষ যখন গুহা ছেড়ে কৃষিতে গেল, কুকুর তখনই তার সঙ্গী হলো। হাজার বছরের বেশি সময় ধরে কুকুর মানুষের সবচেয়ে পুরনো বন্ধু।

 

*আজকের বাস্তবতা:*

1. *নিরাপত্তা:* গ্রামের বাড়ি, ফ্যাক্টরির গেট, এনজিও অফিস — কুকুরই প্রথম পাহারাদার। একটি কুকুর ১০ জন দারোয়ানের কাজ করে দেয়।

2. *জীবন রক্ষা:* বন্যায়, নদীতে, আগুনে কুকুর মালিককে টেনে বাঁচিয়েছে এমন খবর পত্রিকার পাতায় অহরহ।

3. *রাষ্ট্রীয় কাজ:* শাহজাল বিমানবন্দরে, বেনাপোল বন্দরে, সেনাবাহিনীর ক্যান্টনমেন্টে বিস্ফোরক ও মাদক ধরার কাজে প্রশিক্ষিত কুকুর ব্যবহার হয়। একটি প্রশিক্ষিত কুকুরের মূল্য কয়েক লাখ টাকা।

4. *মানবিক সঙ্গী:* একাকী বৃদ্ধ, অটিস্টিক শিশু, মানসিক রোগীদের জন্য ‘থেরাপি ডগ’ এখন চিকিৎসার অংশ।

 

যে প্রাণী আমাদের জান-মাল পাহারা দেয়, রাষ্ট্রের কাজ করে, অসুস্থ মানুষকে সাহস দেয়, তাকেই আমরা ইট বেঁধে নদীতে ফেলি। এটা কি শুধু পাপ, নাকি কৃতঘ্নতা?

 

*৩. কেন মারি? মনস্তত্ত্বের আয়নায়*

 

বিশেষজ্ঞরা একে শুধু “প্রাণী নির্যাতন” বলছেন না। বলছেন, “সমাজের সহিংসতার পূর্বাভাস”।

 

*ক. ক্ষমতার নেশা:* যারা নিজ জীবনে ব্যর্থ, বেকার, পারিবারিক বা সামাজিকভাবে কোণঠাসা, তারা দুর্বলের উপর ক্ষমতা দেখিয়ে নিজেকে ‘বড়’ প্রমাণ করতে চায়। ব্রিজের উপর দাঁড়িয়ে উল্লাস — এটা সেই নেশার প্রকাশ।

 

*খ. ‘অন্য’ তৈরি করা:* কুকুরকে “জলাতঙ্কের বাহক”, “নোংরা” ট্যাগ দিয়ে আমরা তাকে মানুষের কাতার থেকে বের করে দেই। একবার ‘অন্য’ হয়ে গেলে তার কষ্ট আর কষ্ট থাকে না। ইতিহাসে প্রতিটি গণহত্যার আগে প্রতিপক্ষকে ‘অমানুষ’ বানানো হয়েছে।

 

*গ. ডিজিটাল উন্মাদনা:* ভিডিও করো, ফেসবুকে ছাড়ো, কমেন্টে “সাহসী কাজ” লেখো। নাটোরের ঘটনাও ভাইরাল না হলে চাপা পড়ে যেত। আমরা এখন নিষ্ঠুরতাকেও কনটেন্ট বানাই।

 

*ঘ. শাস্তির অভাব:* ছোট অপরাধে যখন সমাজ ছাড় দেয়, বড় অপরাধের সাহস বাড়ে। “কুকুর মেরে কি আর জেলে যায়?” — এই ধারণাই ইট হাতে তুলে দেয়।

 

*৪. বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ: আমরা কি ব্যতিক্রম?*

 

*ভারত:* ২০২১ সালে কেরালায় কুকুর পিটিয়ে মারার ভিডিওতে সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করে। রায়ে বলা হয়, “Street dogs have a fundamental right to life under Article 21.”

 

*যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য:* এখানে Animal Cruelty একটি ‘Felony’। FBI ২০১৬ সাল থেকে এটিকে সহিংস অপরাধের তালিকায় রেখেছে। তাদের গবেষণা: শিশুকালে প্রাণী নির্যাতনকারী ৭০% ক্ষেত্রে বড় হয়ে মানুষের উপর সহিংস হয়। একে “Violence Link” বলে।

 

*মুসলিম বিশ্ব:* ইসলামে কুকুর নিয়ে দুটি দিক আছে। পাক-নাপাকির ফিকহি বিতর্ক আছে। কিন্তু নির্যাতন? কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। বুখারি ও মুসলিমের হাদিসে আছে: এক ব্যক্তি একটি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে জুতা দিয়ে পানি পান করানোয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে জান্নাত দিলেন। আরেকটি হাদিসে বিড়ালকে বেঁধে না খাইয়ে মারার জন্য এক নারীর জাহান্নামের কথা এসেছে।

 

তাহলে আমরা কোন ইসলাম চর্চা করছি?

 

*৫. ক্ষতিটা কার? হিসাবের খাতা*

 

*প্রাণীর:* স্পষ্ট। একটি প্রাণ অকালে ঝরে গেল।

*পরিবেশের:* কুকুর ময়লা-আবর্জনা খেয়ে ইঁদুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করে। নির্বিচারে মারলে ইঁদুর বাড়বে, রোগ বাড়বে।

*শিশুদের:* শিশু যখন দেখে বড়রা মজা করে কুকুর মারছে, সে শেখে: “শক্তি মানেই আঘাত করা”। এখান থেকেই স্কুলে বুলিং, পরে গ্যাং, পরে নারী নির্যাতন।

*জাতির:* একটি জাতি কতটা সভ্য, তা বোঝা যায় সে দুর্বলের সাথে কেমন আচরণ করে। ইট বাঁধা কুকুর আসলে আমাদের মানবিকতার মৃত্যুঘণ্টা।

 

*৬. ফেরার পথ: উন্মত্ততা থেকে মনুষ্যত্বে*

 

সমাধান চিৎকারে নয়, পরিকল্পনায়।

 

*১. শিক্ষা থেকে শুরু:* পাঠ্যবইয়ে ‘Compassion’ বা ‘দয়া’ নামে একটি অধ্যায় চাই। শিশুকে শেখাতে হবে, দুর্বলকে রক্ষা করাই বীরত্ব।

*২. দৃষ্টান্তমূলক বিচার:* নাটোর ও ব্রিজের ঘটনায় দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ফেসবুকে লাইভ করে বিচার দেখাতে হবে, যাতে দ্বিতীয় কেউ ইট হাতে না নেয়।

*৩. বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা:* WHO ও OIE এর সুপারিশ ABC: Animal Birth Control + Vaccination। হত্যা নয়, নির্বীজকরণ ও জলাতঙ্কের টিকা। ঢাকা ও খুলনা সিটি কর্পোরেশন এটা শুরু করলেও তদারকির অভাবে থেমে গেছে।

*৪. সামাজিক জাগরণ:* মসজিদের খুতবায়, স্কুলের সমাবেশে, ইউটিউব শর্টসে একটি বার্তা: “কুকুর মারবেন না। মানুষ হোন।”

*৫. নিজেকে প্রশ্ন:* আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিটি মানুষকে জিজ্ঞাসা করা উচিত: আমি কি সত্যিই সভ্য, নাকি স্যুট-টাই পরা বর্বর?

 

একটি কুকুরের মৃত্যুতে পৃথিবীর ঘূর্ণন থেমে যায় না। কিন্তু একটি জাতির পতন শুরু হয় এখান থেকেই।

 

নাটোরের পুকুরে সাতটি বাচ্চার রক্ত আর ব্রিজের নদীতে ইটের শব্দ মিলে একটা কথাই বলে: আমরা মানবতা হারিয়েছি।

 

কুকুর প্রভুর জন্য নিজের জীবন দেয়। আমরা প্রভু হয়ে কুকুরকে মৃত্যু উপহার দিই। এই লেনদেনের নাম যদি আধুনিকতা হয়, তবে পৃথিবীর ক্ষুব্ধ হওয়াই উচিত।

 

শেষ প্রশ্নটা আবার করি: একজন সভ্য মানুষ হিসেবে, অন্যের ক্ষতি না করে বেঁচে থাকা কি এতটাই কঠিন?

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।