খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরও হাতকড়া : বিবেকের মৃত্যু

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪০ অপরাহ্ণ
লাইফ সাপোর্টে নেয়ার পরও হাতকড়া : বিবেকের মৃত্যু

একটি ছবি মাঝে মাঝে গোটা একটি রাষ্ট্রের চেহারা আয়নায় দেখিয়ে দেয়। সাদা চাদর, অক্সিজেনের মাস্ক, মনিটরের বিপ শব্দ, আর সেই বিছানার সঙ্গে শোয়া মানুষটির কবজিতে ঝুলে থাকা লোহার বালা। ছবিটি তোলা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের আইসিইউ থেকে। বিছানায় যিনি শুয়ে আছেন তিনি পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত মো. মিজানুর রহমান খান, এলাকায় যাকে মনির খান নামে সবাই চেনে। তিনি তখন ভেন্টিলেটরে। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে প্রায় দুই মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছিলেন। আর সেই লড়াইয়ের শেষ মুহূর্তগুলোতেও তার দুই হাতে ছিল হাতকড়া। ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে দেশজুড়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা আর শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নেই। প্রশ্নটা এখন রাষ্ট্রের, আইনের, এবং আমাদের সম্মিলিত বিবেকের। একজন মানুষ যখন নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে, যখন তার শরীরের প্রতিটি শিরায় মেশিনের নল, তখন তাকে শৃঙ্খলিত রাখার যুক্তিটা আসলে কী? নিরাপত্তা নাকি প্রতিশোধ? নিয়ম নাকি নিষ্ঠুরতা?

ঘটনার সূত্রপাত জুনের প্রথম সপ্তাহে। কারাগারের ভেতর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মনির খান। প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে স্থানান্তর করা হয়। ১৪ জুন তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং দুই দিনের মাথায় লাইফ সাপোর্টে দেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৬০ দিন। এই দীর্ঘ সময়ে আদালতে তার আইনজীবীরা একের পর এক মামলায় জামিনের আবেদন করেন। পরিবারের দাবি অনুযায়ী হাতকড়া পরা ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানোর পর আদালত ধারাবাহিকভাবে তাকে জামিন দিতে থাকেন। কিন্তু সেই জামিনের আদেশ কাগজে সই হয়ে তার শয্যা পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই বুধবার বিকেলে তিনি মারা যান। স্বজনদের ভাষায়, আইনি মুক্তি তিনি পাননি, মুক্তি মিলেছে মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।

এই বাক্যটি শুনলে বুকের ভেতর কেঁপে ওঠে। কারণ আমরা জানি আইনের চোখে সবাই সমান। কিন্তু আইনের চোখে একজন মুমূর্ষু রোগী আর একজন সুস্থ আসামি কি সত্যিই সমান? নাকি সমান হওয়ার নামে আমরা অমানবিক হয়ে যাচ্ছি?

আমাদের দেশের কারাগার বিধি এবং ১৮৯৪ সালের জেল কোডে স্পষ্ট বলা আছে বন্দিকে হেফাজতে রাখতে হবে। হাসপাতালে নিলেও পুলিশ প্রহরা থাকবে। কিন্তু কোথাও বলা নেই যে লাইফ সাপোর্টে থাকা রোগীর হাতেও শিকল পরাতে হবে। সিদ্ধান্তের ভার দেওয়া হয়েছে জেল সুপার এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপর। তারা ঝুঁকি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেবেন। কিন্তু বাস্তবে কী হয়? বাস্তবে ঝুঁকি মূল্যায়নের জায়গায় চলে আসে অভ্যাস। আসামি মানেই হাতকড়া। সে যতই অসুস্থ হোক, যতই অচেতন হোক। এই যান্ত্রিকতা থেকেই জন্ম নেয় বিতর্ক।

যুক্তি হিসেবে কারা কর্তৃপক্ষ তিনটি কথা বলেন। প্রথমত পালানোর ভয়। হাসপাতাল উন্মুক্ত জায়গা, যে কেউ সুযোগ নিতে পারে। দ্বিতীয়ত নিরাপত্তার ভয়। বাইরে থেকে কেউ এসে হামলা করতে পারে অথবা ভেতরের ব্যক্তি সুস্থ হয়ে প্রতিরোধ করতে পারে। তৃতীয়ত আইনি বাধ্যবাধকতা। বন্দি মানেই হেফাজত, হেফাজত মানেই শৃঙ্খল। এই যুক্তি কাগজে কলমে দুর্বল নয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার হেফাজতে থাকা ব্যক্তিকে নিরাপদে রাখা। কিন্তু প্রশ্ন হলো নিরাপত্তা আর শৃঙ্খল কি একই জিনিস? একজন মানুষ যখন ভেন্টিলেটরের উপর নির্ভরশীল, যখন তার রক্তচাপ ওঠানামা করছে, যখন ডাক্তার প্রতি ঘণ্টায় তার শরীরে নল লাগাচ্ছে খুলছে, তখন তার পালানোর শারীরিক সক্ষমতা কতটুকু? বরং উল্টো প্রশ্ন করা যায়, হাতকড়া পরা অবস্থায় যদি কোনো জটিলতা হয়, নল টান লাগে, রক্ত চলাচল বন্ধ হয়, তার দায় কে নেবে?

এখানেই আসে মানবিকতার প্রশ্ন। আমরা সবাই জানি বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ অপরাধী নয়। মনির খানের বিরুদ্ধে মামলা ছিল, তিনি কারাবন্দি ছিলেন। কিন্তু বিচার চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তার জীবন এবং মর্যাদা দুটোই রক্ষা করা। সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে বলা আছে আইন অনুযায়ী ব্যতীত কোনো ব্যক্তির জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ করা যাবে না। এই আইন অনুযায়ী অংশটুকু নিয়েই যত ব্যাখ্যা। কিন্তু জীবনের নিরাপত্তা বলতে কি শুধু বেঁচে থাকা বোঝায়? নাকি মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকাও বোঝায়? আইসিইউর সেই ছবি দেখে অনেকেই লিখেছেন এটি অমানবিক। কেউ কেউ লিখেছেন এটি রাষ্ট্রের প্রতিশোধ স্পৃহার বহিঃপ্রকাশ। আবার কেউ বলেছেন নিয়ম মানা হয়েছে, এখানে দোষের কিছু নেই।

এই বিতর্ক নতুন নয়। পৃথিবীর অন্য দেশেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে এবং সেখান থেকে তারা শিক্ষা নিয়ে নীতিমালা বদলেছে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক বন্দির ছবি প্রকাশ পায়। তার হাতেও ছিল হাতকড়া। ছবি দেখে জনমত ফেটে পড়ে। এরপর দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে ২০১৮ সালে ক্যালিফোর্নিয়া এবং নিউইয়র্ক রাজ্য আইন করে দেয় হাসপাতালে ভর্তি, প্রসবকালীন বা লাইফ সাপোর্টে থাকা কোনো বন্দিকে শৃঙ্খলিত করা যাবে না। পরিবর্তে পুলিশ পাহার ব্যবস্থা রাখা হয়। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৩ সালে একটি রায়ে বলে দেয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বন্দির ক্ষেত্রে হাতকড়া কেবল তখনই ব্যবহার করা যাবে যখন পালানোর সুস্পষ্ট এবং তাৎক্ষণিক ঝুঁকি থাকবে। এবং সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে। দিল্লির তিহার জেল এখন গুরুতর রোগীদের ক্ষেত্রে হাতকড়া খুলে দেয় এবং ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারা রাখে। যুক্তরাজ্যে নিয়ম আরও পরিষ্কার। তাদের হসপিটাল এস্কর্ট পলিসি অনুযায়ী বন্দি হাসপাতালে থাকলে হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার সময় সাময়িকভাবে পরানো হতে পারে।

মানে পৃথিবীর বড় বড় গণতান্ত্রিক দেশগুলো একটা জায়গায় এসে একমত হয়েছে। আইনের কঠোরতা থাকবে কিন্তু জীবন যখন সুতার উপর ঝুলছে তখন আইনকে একটু নমনীয় হতে হয়। নিরাপত্তা দিতে হবে পুলিশ দিয়ে, শিকল দিয়ে নয়।

বাংলাদেশে এখনো এমন সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে প্রতি ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত হয় ব্যক্তির বিচার বুদ্ধির উপর। কখনো মানবিকতা জয়ী হয়, কখনো নিয়মের দোহাই দিয়ে কঠোরতা বজায় থাকে। মনির খানের ক্ষেত্রে যা হয়েছে তা দ্বিতীয়টির উদাহরণ। এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী আদালত জামিন দিলেও সেই আদেশ কারাগারে পৌঁছাতে এবং বাস্তবায়ন হতে দেরি হয়। এই দেরির সংস্কৃতি আমাদের বিচার ব্যবস্থার পুরনো রোগ। আজকের ডিজিটাল যুগে ই-ওয়ারেন্ট, ই-জামিন ব্যবস্থা চালু করা কঠিন কিছু না। একটি আদেশ ইমেইল বা সিকিউরড পোর্টালের মাধ্যমে মুহূর্তে কারাগারে পৌঁছে যেতে পারে। কিন্তু আমরা এখনো কাগজের ফাইলের উপর নির্ভরশীল। এই ফাইলের গতি যত ধীর, মানুষের জীবন তত দ্রুত ফুরিয়ে যায়।

এবার আসি রাজনীতির জায়গায়। মনির খান পটুয়াখালীর রাজনীতির মানুষ ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল। এই কারণে সামাজিক মাধ্যমে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একপক্ষ বলেছে আইন তার কাজ করেছে। আরেকপক্ষ বলেছে এটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। কিন্তু আমি মনে করি এই আলোচনাকে দল এবং মামলার বাইরে নিয়ে আসতে হবে। কারণ আজ যিনি এক দলের, কাল তিনি অন্য দলের হতে পারেন। আজ যিনি আসামি, কাল তিনি বাদী হতে পারেন। কিন্তু হাসপাতালের বিছানায় শোয়া প্রতিটি মানুষ প্রথমে একজন মানুষ। তার রাজনৈতিক পরিচয়, তার বিরুদ্ধে থাকা ধারাগুলো তাকে মানবিক আচরণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারে না। যদি আমরা আজ একজন আওয়ামী লীগ নেতার ক্ষেত্রে হাতকড়া সমর্থন করি, কাল বিএনপির নেতার ক্ষেত্রে তার বিরোধিতা করি, তাহলে আমরা নীতির কথা বলছি না, আমরা দলের কথা বলছি। আর একটি সভ্য রাষ্ট্র দলের উপর চলে না, নীতির উপর চলে।

জাতিসংঘের বন্দিদের প্রতি আচরণের ন্যূনতম মানদণ্ড যাকে নেলসন ম্যান্ডেলা রুলস বলা হয় তার ১ নম্বর নীতিতেই বলা আছে সব বন্দির সঙ্গে মানবিক মর্যাদা নিয়ে আচরণ করতে হবে। ৮২ নম্বর রুলে বলা আছে চিকিৎসার প্রয়োজনে শৃঙ্খল ব্যবহার করা যাবে না। বাংলাদেশ এই সনদে স্বাক্ষর করেছে। তাহলে আমাদের আইন এবং আচরণের মধ্যে ফারাক থাকবে কেন? অনেকে বলেন পুলিশের জনবল কম, ২৪ ঘণ্টা পাহারা দেওয়া সম্ভব না তাই হাতকড়া সহজ সমাধান। কিন্তু সহজ সমাধান মানেই সঠিক সমাধান নয়। যদি জনবল কম হয় তাহলে জনবল বাড়াতে হবে। যদি বাজেট লাগে তাহলে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। কারণ একটি রাষ্ট্রের সভ্যতা মাপা হয় তার সবচেয়ে দুর্বল এবং সবচেয়ে অসহায় নাগরিকের সঙ্গে সে কেমন আচরণ করে তা দিয়ে।

মনির খানের মৃত্যুর পর তার পরিবার বলেছে শেষ পর্যন্ত মৃত্যুই তার মুক্তি হয়ে এসেছে। এই বাক্যটি খুব ভারী। এর মধ্যে রাগ আছে, অভিমান আছে, আর আছে রাষ্ট্রের প্রতি গভীর হতাশা। আমরা কি চাই আমাদের কোনো নাগরিকের শেষ কথা এটা হোক? আমরা কি চাই হাসপাতালের আইসিইউতে শুয়ে কেউ যেন ভাবে মুক্তির একমাত্র পথ মৃত্যু?

আমার মনে হয় এখন সময় এসেছে তিনটি কাজ করার। প্রথমত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যৌথভাবে একটি স্পষ্ট নীতিমালা জারি করুক। সেই নীতিমালায় লেখা থাকুক কোন শারীরিক অবস্থায় বন্দির হাতকড়া খুলে দিতে হবে। যেমন অচেতন, লাইফ সাপোর্টে, ৭০ বছরের বেশি বয়সী, প্রসূতি নারী, মানসিক ভারসাম্যহীন। এই ক্ষেত্রে হাতকড়ার বদলে সশস্ত্র পুলিশ পাহারা বাধ্যতামূলক করা হোক। দ্বিতীয়ত বিচার বিভাগের সঙ্গে কারা বিভাগের সমন্বয় বাড়াতে হবে। জামিনের আদেশ যেন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়ন হয় তার জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করতে হবে। তৃতীয়ত আমাদের পুলিশ এবং কারা কর্মকর্তাদের মানবাধিকার এবং চিকিৎসা নীতি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তারা যেন বোঝেন নিয়ম মানা আর মানুষ হওয়া দুটো আলাদা জিনিস।

আইনের শাসন ছাড়া রাষ্ট্র টেকে না এটা সত্য। কিন্তু মানবিকতার শাসন ছাড়া রাষ্ট্র সভ্য হয় না এটাও সত্য। আমরা যদি শুধু শাস্তির কথা ভাবি, সংশোধনের কথা না ভাবি, তাহলে কারাগার হয়ে উঠবে প্রতিশোধের জায়গা। আর যদি শুধু মানবিকতার কথা ভাবি, শৃঙ্খলার কথা না ভাবি, তাহলে আইন দুর্বল হয়ে পড়বে। তাই ভারসাম্য দরকার। আর সেই ভারসাম্যের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে।

মনির খানের মৃত্যু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর কী হবে তা আদালত ঠিক করবে। কিন্তু তার হাতে হাতকড়া পরা ছবিটি থেকে যাবে। এটি একটি দলিল। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেবে যে আমরা কত সহজে অভ্যাসের নামে অমানবিক হয়ে যেতে পারি। এটি আমাদের প্রশ্ন করবে নিরাপত্তার নামে আমরা কার নিরাপত্তা দিচ্ছি? রাষ্ট্রের নাকি আমাদের নিজেদের বিবেকের?

শেষে একটি কথা বলতে চাই। রাজনীতিবিদরা আসবেন যাবেন, সরকার বদলাবে, মামলা হবে নিষ্পত্তি হবে। কিন্তু একটি রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারিত হয় তার নিয়ম দিয়ে। আজ আমরা যদি একটি স্পষ্ট নীতিমালা তৈরি করি যে কোনো মুমূর্ষু বন্দিকে শৃঙ্খলিত করা হবে না, তাহলে ১০ বছর পর আর কোনো পরিবারকে বলতে হবে না মৃত্যুই একমাত্র মুক্তি। বরং তারা বলতে পারবে আইন ছিল, মানবিকতাও ছিল।

একটি ছবি হাজার প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই ছবিটিও দিয়েছে। এখন উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের। রাষ্ট্রের, সমাজের এবং প্রতিটি মানুষের। কারণ আজ যিনি আইসিইউতে, কাল আমরা যে কেউ হতে পারি। আর তখন আমরা চাইব আমাদের শেষ সময়টুকু যেন অন্তত মর্যাদার সঙ্গে কাটে। শিকল ছাড়া, ভয় ছাড়া।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।