খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

জামায়াত নেতার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: বুধবার, ২২ জুলাই, ২০২৬, ১:২৪ অপরাহ্ণ
জামায়াত নেতার ভিডিও ঘিরে বিতর্ক

২০২৬ সালের ২০-২১ জুলাই। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, সামাজিক মাধ্যম এবং গণমাধ্যমের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। কারণ একটি ভাইরাল ভিডিও।

ভিডিওতে একজন পুরুষ ও একজন তরুণীকে একটি অফিস কক্ষে দেখা যায়। এরপর শুরু হয় পাল্টাপাল্টি বিবৃতি, অভিযোগ, পাল্টা-অভিযোগ। একদিকে এমপির দাবি “এটি আমার দ্বিতীয় স্ত্রী, চাঁদাবাজির শিকার”। অন্যদিকে সাবেক ড্রাইভারের দাবি “একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিকতা, সিসিটিভি ফুটেজ আছে”। মাঝখানে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থান, তরুণী ও তার বাবার বক্তব্য, এবং সময়-তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি।

এই প্রতিবেদনে আমরা তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ঘটনার ধারাবাহিকতা, বিতর্কের মূল পয়েন্ট এবং অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করব।

২০ জুলাই ২০২৬, সোমবার রাত। ফেসবুক, ইউটিউব ও কয়েকটি অনলাইন পোর্টালে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। ফুটেজে দেখা যায় একটি অফিস রুমে একজন পুরুষ ও একজন তরুণী বসে আছেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন লোক রুমে প্রবেশ করে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয় এটি “জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ভিডিও”।

২১ জুলাই ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল। ভিডিও ভাইরাল হয়। সারাদিন ধরে চলে আলোচনা- সমালোচনা।

২১ জুলাই ২০২৬, বিকেল। গাজী নজরুল ইসলাম নিজে একটি লিখিত বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন, ভিডিওতে থাকা তরুণী তার “দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মারিয়াম বেগম”। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ জুলাই ২০২৬, মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবা মো. মাছুম বিল্লাহর অফিসে। তারা সেখানে “সোয়া এক ঘণ্টা” অবস্থান করেন। গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ পরিকল্পনা করে ৫-৭ জন লোক এনে ১ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। রাতে ওবায়দুল্লাহ আরও ১৫ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হুমকি দেয়। ওবায়দুল্লাহই “হিংসা ও স্বার্থের বশবর্তী হয়ে” সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ফাঁস করেছে। এমপির দাবি, এটি “সম্পূর্ণ বেআইনি, হিংসাত্মক, চক্রান্তমূলক এবং চরিত্র হননের সামিল”।

ভিডিও ফাঁসের একদিন আগে ২০ জুলাই সোমবার গাজী নজরুলের সাবেক গাড়িচালক ও ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুর রহমান প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে ওবায়দুর রহমানের অভিযোগগুলো ছিল বিস্ফোরক। তিনি বলেন ১৪ জুলাই রাত সাড়ে ১টায় পল্লবীর উত্তর কালশীর “রোজ গার্ডেন টাওয়ার ২”-এর ডি-২ ফ্ল্যাটে তাকে লাঠিসোঁটা দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়। হামলাকারী হিসেবে তিনি আমিন নামের চাকরিচ্যুত সাবেক এসআই মাসুম বিল্লাহ ও মোক্তাসিম বিল্লাহর নাম উল্লেখ করেন। তার মা ও বোন তাকে উদ্ধার করে কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই হামলার “প্রধান নেপথ্য নির্দেশদাতা” হিসেবে তিনি সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের নাম উল্লেখ করেন। ওবায়দুর দাবি করেন, দীর্ঘদিন ড্রাইভার হিসেবে কাজ করার সময় তিনি এমপির “নানা দুর্নীতি, জমি দখল, বালুমহাল দখল, ঘুষ গ্রহণ এবং নারীঘটিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রত্যক্ষদর্শী”। লিখিত আবেদনে তিনি স্পষ্ট উল্লেখ করেন, “এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে একাধিক স্থানে অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণীকে নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সিসিটিভি ফুটেজে তার প্রমাণ” রয়েছে। ওবায়দুর বর্তমানে আত্মগোপনে আছেন এবং জীবনের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

ঘটনা ভাইরাল হওয়ার পর ২১ জুলাই বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতিতে তিনি বলেন “বিষয়টি নিয়ে গাজী নজরুল ইসলামের নিজের বিবৃতি, তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার ভিডিও বক্তব্য মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে আরও খোঁজখবর নিয়ে এবং প্রকৃত ঘটনার তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।” সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান কালবেলাকে বলেন “এমপি সাহেব আমাদের জানিয়েছেন, ভিডিওতে যাকে দেখা যাচ্ছে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতিক্রমেই এ বিয়ে হয়েছে। তবে ভিডিওটি কীভাবে প্রকাশ করা হয়েছে সে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।” তিনি আরও বলেন “বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ আমার জানা নেই।”

ভাইরাল হওয়ার পর “দ্য ডিসেন্ট” নামের ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান ভিডিওতে থাকা তরুণী ও তার বাবার সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন। তিনি বলেন “উনি আমার স্বামী। আমাদের বিয়ে হয়েছে। ওইদিন ঘুরতে গিয়ে আমরা আমার বাবার অফিসে রেস্ট নিচ্ছিলাম।” তিনি আরও জানান, তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। বাবার নাম মো. মাসুম বিল্লাহ। তার দাবি “৩ লাখ টাকা দেনমোহরে গত ১৭ জুন তার মেয়ের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। ওইদিন উনারা আমার অফিসে এসে রেস্ট নিচ্ছিলেন। সেখান থেকেই ভিডিওটি ধারণ হয়। এর সঙ্গে আমার শ্যালক ওবায়দুল্লাহ জড়িত।”

এখানেই শুরু হয় সবচেয়ে বড় বিতর্ক। কারণ একাধিক তথ্যে অসংগতি দেখা যাচ্ছে। এমপির দাবি বিয়ে হয়েছে ১৭ জুন ২০২৬। কিন্তু ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান “দ্য ডিসেন্ট” এর অনুসন্ধান অনুযায়ী, ভাইরাল হওয়া মূল ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প অনুযায়ী ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে “২০২৩ সালের জুলাই মাসে”। ব্যবধান প্রায় ৩ বছর। কালবেলার প্রতিবেদক এমপিকে জিজ্ঞেস করেন “বিয়ের কাবিন আছে কি না?” গাজী নজরুল বলেন “আমাদের কাছে কাবিন নেই। তবে যিনি বিয়ে নিবন্ধ করেছেন তার কাছ থেকে সংগ্রহ করে দেওয়া যাবে।” “ওইটা আছে বিবাহ যিনি রেজিস্ট্রি করেছেন তার খাতায়। ওটা নিয়ে দিতে হবে। ঘণ্টাখানেক সময় লাগবে” বলেন তিনি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে জমা দেওয়া এমপির হলফনামায় দ্বিতীয় স্ত্রীর কোনো তথ্য ছিল না বলে জানা যায়।
মরিয়ম খাতুনের একটি বায়োডাটায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২ জুন গাজী নজরুল ইসলাম “জোর সুপারিশ করছি” লিখে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু সেখানে মরিয়মের বৈবাহিক অবস্থার ঘরে “অবিবাহিত” উল্লেখ রয়েছে। অথচ এমপির দাবি অনুযায়ী বিয়ে হয়েছে ১৭ জুন। বিয়ের ৫ দিন পরও কেন “অবিবাহিত”? সামাজিক মাধ্যমে একটি কথিত কাবিননামা ছড়িয়েছে। তবে তার সত্যতা এখনো যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এমপির বিবৃতির মূল অংশ ছিল “চাঁদাবাজি”। তার বর্ণনা অনুযায়ী ১৩ জুলাই অফিসে ৫-৭ জন লোক এসে ১ লাখ টাকা নেয়। রাতে ওবায়দুল্লাহ ফোন করে আরও ১৫ লাখ টাকা দাবি করে। পরদিন শ্বশুর মাসুম বিল্লাহ এসআই আমিনুরের সহায়তায় বিমানবন্দর সড়ক থেকে গাড়ি ও চালক উদ্ধার করেন। কিন্তু ওবায়দুরের অভিযোগ পুরো উল্টো। তিনি নিজেই হামলার শিকার এবং তিনি বলছেন এমপিই হামলার নির্দেশদাতা। এখন পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে মগবাজারের চাঁদাবাজির ঘটনায় কোনো মামলা বা জিডির তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এই ঘটনার ৩টি আইনি দিক রয়েছে। যদি ভিডিওটি সত্যিই স্বামী-স্ত্রীর হয় এবং তা অনুমতি ছাড়া ফাঁস করা হয়, তাহলে এটি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের লঙ্ঘন। এজন্য ওবায়দুল্লাহর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। ওবায়দুরের অভিযোগ “অপ্রাপ্তবয়স্ক তরুণী”। তরুণী নিজে বলেছেন তিনি “এবার এসএসসি দিয়েছেন”। বাংলাদেশে এসএসি পরীক্ষার্থীর বয়স সাধারণত ১৫-১৬ হয়। আবার বিয়ের তারিখ ১৭ জুন ২০২৬ বলা হচ্ছে। যদি সত্যিই ১৮ বছরের কম হয়, তাহলে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন প্রযোজ্য হবে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ করেছে। এর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতের একজন প্রভাবশালী নেতা। সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি। এই ঘটনার কারণে জামায়াতকে সাংগঠনিকভাবে অবস্থান নিতে হচ্ছে। বিরোধীরা “নৈতিকতা”র প্রশ্ন তুলছে। সামাজিক মাধ্যমে “দ্বিতীয় বিয়ে” ও “চরিত্র” নিয়ে তুমুল ট্রল চলছে। ডাকসুর সাবেক এক নেত্রী ফেসবুকে প্রশ্ন তুলেছেন “এটি দ্বিতীয় স্ত্রী নাকি চাকরির সুপারিশ?”

তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এখন পর্যন্ত যা নিশ্চিত। একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যাতে গাজী নজরুল ইসলাম ও এক তরুণীকে দেখা যাচ্ছে। এমপি দাবি করেছেন তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ঘটনাটি ১৩ জুলাই ২০২৬। তরুণী ও তার বাবা বিয়ের কথা স্বীকার করেছেন এবং তারিখ বলেছেন ১৭ জুন ২০২৬। সাবেক ড্রাইভার ওবায়দুর হামলা ও অনৈতিকতার অভিযোগ এনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন এবং “অপ্রাপ্তবয়স্ক” ও “সিসিটিভি ফুটেজ” এর কথা বলেছেন। জামায়াত বলেছে তারা “তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবে”। ফুটেজের টাইমস্ট্যাম্প ও বিয়ের তারিখে প্রায় ৩ বছরের ব্যবধান রয়েছে বলে ফ্যাক্টচেকাররা দাবি করছে।

একটি ভিডিও ঘিরে এখন তিনটি গল্প চলছে। গল্প ১ – এমপির গল্প: এটি ষড়যন্ত্র। গাড়িচালক চাঁদা আদায়ের জন্য ফাঁদ পেতেছে। গল্প ২ – ড্রাইভারের গল্প: এটি ক্ষমতার অপব্যবহার। এমপি একাধিকবার অনৈতিক কাজ করেছে, প্রমাণ আছে। গল্প ৩ – তরুণী ও বাবার গল্প: এটি বৈধ বিয়ে। পারিবারিক বিষয়।

কোন গল্পটি সত্য? এর উত্তর দিতে পারে শুধু নিরপেক্ষ তদন্ত। প্রয়োজন সিসি ক্যামেরার মূল ফুটেজ ও টাইমস্ট্যাম্প ফরেনসিক পরীক্ষা। বিয়ের কাবিননামা ও নিবন্ধনের কাগজপত্র যাচাই। তরুণীর বয়সের সার্টিফিকেট যাচাই। মগবাজারের চাঁদাবাজি ও পল্লবীর হামলার পৃথক মামলা ও তদন্ত।

জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা থাকে স্বচ্ছতা। আবার প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারও রয়েছে। এই দুইয়ের মাঝামাঝি ভারসাম্য রেখেই সত্য উদঘাটন করতে হবে। কারণ একটি ভিডিও শুধু একজন এমপির না, এটি একটি দলের, একটি এলাকার এবং একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ভাবমূর্তির প্রশ্নও বটে। তাই আবেগ নয়, গুজব নয় – তথ্য, প্রমাণ ও আইনের মাধ্যমেই এই বিতর্কের সমাধান হওয়া উচিত।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।