খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কি খুব জরুরী?

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ কি খুব জরুরী?

জানতে পারলাম ঢাকা সিটি কলেজের এক শিক্ষার্থী সাহস করে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীকে ফোন দিয়েছিলেন। শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় ফোন ধরলেন। রাগ করলেন না, ধমক দিলেন না। বরং মেয়ের মতো করে বললেন, “দেখো মা, আমার মেয়েটাও আজকালকার বাচ্চাদের মতো ফার্মের মুরগী। একটু বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর। আমি কেন তোমাদের কষ্ট বুঝবো না?”

এই কথার ভেতর রাজনীতি নেই, দল নেই। আছে একজন বাবার কণ্ঠ। আছে একজন শিক্ষকের মমতা।

বাংলাদেশে এখন শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে তুমুল হইচই। পদত্যাগ চাওয়া হচ্ছে। প্রশ্নপত্রে ভুল, পরীক্ষা পেছানো, কারিকুলাম—সব কিছুর দায় তার ঘাড়ে। কিন্তু যারা তাকে চেন না, তার যোগ্যতা জানেন না, তারাই সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছেন।

আমি তাকে চিনি। খুব কাছ থেকে দেখেছি। তাই আজ তার জীবন, তার কর্ম, তার বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনগুলো আর সামাজিক কাজ নিয়ে বলতে চাই।

১. পরিচয়: আ ন ম এহছানুল হক মিলন

বাংলাদেশ সরকারের বর্তমান মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী *আ ন ম এহছানুল হক মিলন*। তিনি শুধু একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একজন পিএইচডি ডিগ্রিধারী বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ এবং প্রশাসক।

তার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে বড় পরিচয় হলো তিনি একজন শিক্ষক-মনস্ক মানুষ। যিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।

২. বিশ্ববিদ্যালয় জীবন ও আদর্শের ভিত্তি

*ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রাচ্যের অক্সফোর্ডের ছাত্র*
মিলন সাহেবের ছাত্রজীবন কেটেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। আশির দশকের শেষ ভাগ। তখন ক্যাম্পাস জুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা। সেই অস্থির সময়েই তিনি আদর্শ, নৈতিকতা আর সংস্কৃতির রাজনীতি শিখেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে তিনি “প্রাচ্যের অক্সফোর্ড” হিসেবে দেখেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে শিক্ষকদের দেশে রেখে পাঠদানের ব্যবস্থা করেছিলেন, সেই দর্শনকে তিনি শ্রদ্ধা করেন।

*ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটি: সংস্কৃতির লড়াই*
এখানেই আমার সাথে তার প্রথম পরিচয়। আশির দশকে আমরা অশ্লীল চলচ্চিত্রের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতাম। আমি ছিলাম ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির সভাপতি, লেখক আইয়ুব হোসেন ছিলেন সাধারণ সম্পাদক।

আর মিলন সাহেবের সহধর্মিণী নাজমুন নাহার বেবী ছিলেন ওই সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক। একদল তরুণ ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে আমরা কুরুচিপূর্ণ সংস্কৃতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলাম। সেই নাজমুন নাহার বেবীর হাসবেন্ডই আজকের শিক্ষামন্ত্রী।

ক্যাম্পাসে তার চলন-বলন-কথন আমাদের উজ্জীবিত করতো। তখনই বুঝেছিলাম এই ছেলেটা একদিন জাতির জন্য কিছু করবে।

৩. শিক্ষা ও একাডেমিক যোগ্যতা

শিক্ষামন্ত্রী শুধু মুখের কথা বলেন না। তিনি নিজে পড়াশোনা করে বড় হয়েছেন।

পিএইচডি ডিগ্রিধারী :
তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক ক্যাটেগরির একজন মানুষ। গবেষণা, বিশ্লেষণ, নীতি নির্ধারণ—সব ক্ষেত্রে তার একাডেমিক ভিত্তি আছে।

শিক্ষা নিয়ে ভাবনা :
তিনি বলেন, “সংখ্যার দিক থেকে আমরা এগিয়েছি, কিন্তু গুণগত মান নিয়ে ভাবার সময় এসেছে”। এটা একজন প্রকৃত শিক্ষকের কথা।

৪. কর্মক্ষেত্র: রাজনীতি থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন কার্যক্রম :

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন তার কাজ আজও ছাত্ররা স্মরণ করে। তিনি মাঠ পর্যায়ে গেছেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কথা শুনেছেন।

বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে পদক্ষেপ :

১. *বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কার*:

তিনি বলেছেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীন থাকতে দিতে হবে, তবে “জঙ্গি কারখানায়” পরিণত হতে দেওয়া যাবে না। তিনি একাডেমিক ফ্রিডম, পিএইচডির সুবিধা, শিল্পের সাথে সংযোগের পক্ষে।

২. *উচ্চশিক্ষার রূপান্তর*:

UGC আয়োজিত “বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা” কর্মশালায় তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে হলে শিক্ষাকে কর্মমুখী করতে হবে। AI, রোবটিক্স, বায়োটেকনোলজির যুগে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রস্তুত করতে হবে।

৩. *কারিকুলামে হাত*:

তিনি ইতিমধ্যেই শিক্ষার কারিকুলামসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হাত দিয়েছেন। উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশকে উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র বানানো।

৪.দায়িত্ববোধ :

পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ভুল হলে তিনি সাথে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এবং বলেছেন শিক্ষার্থীদের কোনো ক্ষতি হবে না।

৫. সামাজিক কার্যক্রম ও দৃষ্টিভঙ্গি :

মিলন সাহেবের রাজনীতি শুধু ক্ষমতার জন্য না। তার সামাজিক কাজের কয়েকটি দিক:

1. নৈতিকতার পক্ষে :

আমরা একসাথে অশ্লীলতার বিরুদ্ধে কাজ করেছি। আজও তিনি হলি আর্টিজানের মতো ঘটনা যেন না ঘটে সে ব্যাপারে সজাগ।

2. *সংস্কৃতিমনা*:

স্ত্রী নাজমুন নাহার বেবী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের মানুষ। ফলে তার পরিবারে বই, গান, নাটকের চর্চা আছে।

3. *শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক*:

সিটি কলেজের মেয়েটিকে “মা” বলে ডাকা, কফি খেয়ে পড়তে বসার পরামর্শ দেওয়া—এটা প্রমাণ করে তিনি এখনো শিক্ষকই আছেন।

৬. “শাসন” বনাম “ভালোবাসা”: তার দর্শন

প্রবন্ধে বলা হয়েছে আমরা বেতের বাড়ি খেয়ে বড় হয়েছি। শিক্ষকদের শাসনকে শ্রদ্ধা করি।

মিলন সাহেবও এই প্রজন্মের। কিন্তু তার শাসন হলো “বাবার শাসন”। রাগ না, ভালোবাসা দিয়ে বোঝানো। তিনি বোঝেন আজকের “ফার্মের মুরগী” জেনারেশনকে বেত দিয়ে ঠেকানো যাবে না। তাদের বোঝাতে হবে, পাশে থাকতে হবে।

তাই তিনি বলেন, শিক্ষকের শাসনের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে—কিন্তু সেটা হতে হবে নৈতিকতা তৈরির জন্য, প্রতিশোধের জন্য না।

৭. তাহলে পদত্যাগ কি জরুরী?

এখন আসি মূল প্রশ্নে।

যারা পদত্যাগ চাইছেন তারা কী বলছেন?
প্রশ্নপত্রে ভুল, পরীক্ষা পেছানো, শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ।

আমার উত্তর: না, পদত্যাগ জরুরী না। কেন?

1. *যোগ্যতা*: তিনি পিএইচডি ধারী, অভিজ্ঞ, দক্ষ। এই মুহূর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অস্থিরতা তৈরি করলে ক্ষতি হবে শিক্ষার্থীদেরই।
2. *দায়িত্ব গ্রহণ*: ভুল হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন। পালিয়ে যাননি।
3. *দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা*: কারিকুলাম, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা—এগুলোতে তিনি হাত দিয়েছেন। মাঝপথে তাকে সরালে সব থমকে যাবে।
4. *মানবিকতা*: যে মানুষ ফোনে একটা অপরিচিত মেয়েকে “মা” বলে সান্ত্বনা দিতে পারে, সে মানুষ শিক্ষার শত্রু হতে পারে না।

পদত্যাগ চাওয়া সহজ। কিন্তু সমাধান কঠিন। সমাধান হলো তাকে সময় দেওয়া, সহযোগিতা করা।

৮. ভবিষ্যতের জন্য প্রত্যাশা

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা:

1. *প্রশ্নপত্রের মান*: মডারেশন টিমকে আরও শক্তিশালী করা।
2. *শিক্ষকের মর্যাদা*: শিক্ষকদের হাতে শুধু লাঠি না, সম্মান ফিরিয়ে দেওয়া।
3. *নৈতিক শিক্ষা*: পাঠ্যবইয়ের সাথে চরিত্র গঠনের শিক্ষা।
4. *গবেষণা*: বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণামুখী করা।

উপসংহার: একজন শিক্ষককে হারাবেন না

আমি আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে ৮০ এর দশক থেকে চিনি। ইউনিভার্সিটি ফিল্ম সোসাইটির অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে আজকের মন্ত্রণালয়—তিনি একই রকম আছেন। মেধাবী, মার্জিত, দৃষ্টিভঙ্গিতে শত বছর এগিয়ে।

একটা ভুল হলে মানুষকে ছুঁড়ে ফেলা যায় না। বিশেষ করে সে যদি ভুল স্বীকার করে সংশোধনের পথে হাঁটে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া বোকামি ছাড়া আর কিছু না। বরং আসুন তাকে কাজ করার সুযোগ দিই। কারণ বাংলাদেশের শিক্ষায় ব্যাপক পরিবর্তন আনার যোগ্যতা তার আছে।

শেষ করব সেই সিটি কলেজের মেয়েটির কথা দিয়ে। মন্ত্রী তাকে বলেছিলেন, “এক কাপ কফি খেয়ে পড়তে বসো, ভালো থেকো।”

আমরাও বলি, মাননীয় মন্ত্রী, এক কাপ চা খেয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাটাকে গড়ে তুলুন। আমরা পাশে আছি।

কারণ শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, শিক্ষা নিয়ে জাতি গড়তে হয়।

চট্টগ্রামে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ডা. মহুয়া

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৫ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামে সড়ক দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে ডা. মহুয়া

চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মহুয়া মজুমদার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে

এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। গত ২১ সেপ্টেম্বর মীরসরাই এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন ৩৩তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার ডা. মহুয়া মজুমদার। এতে তাঁর মুখের ডানপাশে, চোখে এবং মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়। বর্তমানে তিনি নগরের অ্যাপোলো ইমপেরিয়াল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

ডা. মহুয়ার ভাই ডা. মিঠুন মজুমদার জানান, মীরসরাইয়ে চেম্বারে যাওয়ার পথে ডা. মহুয়াকে বহনকারী প্রাইভেট কারের সঙ্গে কার্গো ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি গুরুতর আহত হন। এক সপ্তাহ ধরে তিনি লাইফ সাপোর্টে।

 

 

 

 

 

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সহকারী অধ্যাপক (চর্ম ও যৌন রোগ) ডা. মহুয়া মজুমদারের উন্নত ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রায় ৩০ লক্ষাধিক টাকা প্রয়োজন। হঠাৎ করে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা পরিবার ও স্বজনদের পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে উঠেছে বিধায় তার পরিবার সকল স্তরের চিকিৎসকসহ শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহযোগিতা ও প্রার্থনা কামনা করেছেন। ডা. মহুয়াকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রয়াসে মানবিক বিবেচনায় ব্যক্তিগতভাবে অথবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে আর্থিক সহযোগীতা প্রেরণের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের অধীন সকল স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনুরোধ জানান তিনি।

 

 

 

 

আর্থিক সহযোগিতার জন্য: বিকাশ (পারসোনাল) ০১৭৩৪৫৬৯৭৫৩-ডা. মিঠুন মজুমদার ও ০১৭৭৭৪৪৯২১০-মোহিত মজুমদার (ভাই)। রিতা নন্দী (মা)-A/C no: 0582160000234, One Bank Ltd, Chandgaon branch, Routing number 165151849 মিঠুন মজুমদার -A/C no: 2804130431001, City Bank PLC, Uttara branch, Dhaka. Routing number 225264634 মোহিত মজুমদার-A/C no: 0100263337021, Janata Bank PLC, Muradpur Branch, Routing number 135155325 স্বামী ও এক কন্যা নিয়ে বোয়ালখালীর সন্তান ডা. মহুয়ার সংসার। চর্ম ও যৌন রোগ বিষয়ে তাঁর সচেতনতামূলক ভিডিও বার্তা ব্যাপক প্রশংসিত। চিকিৎসক হিসেবেও তিনি রোগীদের কাছে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন। তাঁর সুস্থতায় সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে পরিবার।