ড্রেন নির্মানে ব্যয় ১০ লাখ টাকা, কাজ চলাকালেই ফাটল, ভরসা এখন কাঠের ঠেক
গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরসাদী ইউনিয়নের বাশাইর বণিকপাড়ার মানুষের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা ছিল একটি স্বস্তির দিনের। বর্ষা এলেই জমে থাকা পানি আর বর্জ্যের দুর্ভোগ থেকে এবার হয়তো কিছুটা মুক্তি মিলবে। সেই আশায় সরকারি অর্থে শুরু হয়েছিল একটি ড্রেন নির্মাণের কাজ। কিন্তু স্বস্তির সেই অপেক্ষায় হঠাৎ ঢুকে পড়েছে শঙ্কা। ড্রেনের কাজ শেষ হওয়ার আগেই দেয়ালে ফাটল, কোথাও আবার ভেঙে পড়েছে নির্মাণের অংশ। ধসে পড়া কাঠামোকে সাময়িকভাবে ধরে রাখতে দুই পাশের দেয়ালের মাঝখানে বসানো হয়েছে কাঠের ঠেকা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণাধীন ড্রেনের বিভিন্ন অংশে ফাটল ধরেছে। একটি অংশে আবার দেয়ালও ধসেও পড়েছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রডের দূরত্ব ও কাঠামোর দৃঢ়তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিমেন্ট-বালুর মিশ্রণসহ নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারে যথাযথ মান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে অভিযোগের সত্যতা কারিগরি পরীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এজন্য নকশা, নির্মাণ-স্পেসিফিকেশন ও ব্যবহৃত উপকরণের মান যাচাই করাই হতে পারে প্রকৃত চিত্র জানার উপায়।
ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সম্পর্কে কালীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আবুল কালাম আজাদ বলেন, বৃষ্টির মধ্যে ড্রেন নির্মাণের কাজ করায় প্রায় ১০ থেকে ১৫ ফুট অংশ নষ্ট হয়েছে। এখন মেরামত করা হচ্ছে।
প্রকল্পের সভাপতি ও বাহাদুরসাদী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য শওকত আলী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে দুই-তিন হাত জায়গা ভেঙে পড়েছিল। পরে সেটি সংস্কার করা হয়েছে। তার দাবি, পিআইও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সব ঠিক আছে বলে জানিয়েছেন।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাশাইর বণিকপাড়ার ভেতর দিয়ে নির্মাণাধীন ড্রেনটি বাশাইর মূল সড়কের পাশের ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কথা। গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) কর্মসূচির আওতায় তিন দফায় প্রকল্পটির জন্য মোট ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রথম দফায় ৪ লাখ, দ্বিতীয় দফায় ৪ লাখ এবং পরবর্তী দফায় ২ লাখ টাকা। স্থানীয় সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক প্রকল্প হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ. টি. এম. কামরুল ইসলাম দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকাকে জানান, পিআইওকে কাজটি সরেজমিনে পরিদর্শন করে সঠিকভাবে যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাচাইয়ের পর যেন বাকি বিল দেওয়া হয়, সে নির্দেশনাও রয়েছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, একটি অংশ পুনর্নির্মাণ করলেই পুরো প্রকল্পের মান নিশ্চিত হবে না। রডের ব্যবধান, উপকরণের মান, নকশা অনুযায়ী নির্মাণ এবং কাজের পদ্ধতি-সবকিছু মিলিয়েই নির্ধারণ করতে হবে ড্রেনটি কতটা টেকসই হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, যে ড্রেনটি তাদের জলাবদ্ধতা কমানোর জন্য নির্মিত হচ্ছে, সেটি যেন বর্ষার পানি সামলাতে পারে বছরের পর বছর। কারণ, সরকারি অর্থে নির্মিত একটি ড্রেনের দেয়ালে ফাটল শুধু একটি নির্মাণ ত্রুটির প্রশ্ন নয়-এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের প্রত্যাশা এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহারের বিষয়টিও।



আপনার মতামত লিখুন