খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

দালাল প্রতিহত করে রামেকের সেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৭ অপরাহ্ণ
দালাল প্রতিহত করে রামেকের সেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোগী-স্বজনদের হয়রানি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম। বিশেষ করে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের তৎপরতা প্রতিহত করে রোগীদের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃতী সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম কর্মদক্ষতা, মেধা, বিচক্ষণতা ও মানবিকতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ও রাজশাহীবাসীর কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি এই হাসপাতালের ওপর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নির্ভরতা অনেক বেশি। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য রামেক হাসপাতাল চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম। হাসপাতালকে ঘিরে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।

দীর্ঘদিন ধরেই বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে একটি শ্রেণির দালাল বিভিন্নভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে। চিকিৎসক দেখানো,পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ কেনা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের প্রভাবিত করার অভিযোগও বিভিন্ন সময় ওঠে। এতে একদিকে রোগীরা হয়রানির শিকার হন, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দালালদের তৎপরতা প্রতিহত করার উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতালের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালকের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামেক হাসপাতালের মতো বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রোগীর চাপ, জনবল সংকটসহ নানা বাস্তব সমস্যা। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ নয়।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের কর্মজীবনে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তানোরের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন, বরং এলাকার গর্বিত সন্তান। তাঁর কর্মজীবনের সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। কঠোর পরিশ্রম, মেধা, অধ্যবসায় ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একজন মানুষ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন, তাঁর কর্মজীবন তারই একটি দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের মতে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন গঠনমূলক সমালোচনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা। রামেক হাসপাতালের উন্নয়নে পরিচালকের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স,কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী-স্বজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।

রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের নেতৃত্বে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক,শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জনবান্ধব হবে। দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিহত করার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের হয়রানি কমানো,হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
সর্বোপরি,তানোরের কৃতী সন্তান হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের অর্জন যেমন এলাকাবাসীর জন্য গর্বের,তেমনি রামেক হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টিও রাজশাহীবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে রামেক হাসপাতাল আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে,এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।