দালাল প্রতিহত করে রামেকের সেবায় শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং রোগী-স্বজনদের হয়রানি কমাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম। বিশেষ করে হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের তৎপরতা প্রতিহত করে রোগীদের নির্বিঘ্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা প্রশংসিত হচ্ছে।
রাজশাহীর তানোর উপজেলার কৃতী সন্তান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম কর্মদক্ষতা, মেধা, বিচক্ষণতা ও মানবিকতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে নিজ এলাকা ও রাজশাহীবাসীর কাছে পরিচিতি পেয়েছেন। বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠান রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
রামেক হাসপাতালে প্রতিদিন রাজশাহীসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। সরকারি এই হাসপাতালের ওপর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের নির্ভরতা অনেক বেশি। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য রামেক হাসপাতাল চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলাম। হাসপাতালকে ঘিরে সক্রিয় দালালচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
দীর্ঘদিন ধরেই বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে একটি শ্রেণির দালাল বিভিন্নভাবে তাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে থাকে। চিকিৎসক দেখানো,পরীক্ষা-নিরীক্ষা, ওষুধ কেনা কিংবা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসার বিষয়ে রোগী ও স্বজনদের প্রভাবিত করার অভিযোগও বিভিন্ন সময় ওঠে। এতে একদিকে রোগীরা হয়রানির শিকার হন, অন্যদিকে চিকিৎসাসেবার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়।
এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কঠোর অবস্থান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় দালালদের তৎপরতা প্রতিহত করার উদ্যোগ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ রোগী ও স্বজনরা। হাসপাতালের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং রোগীদের নিরাপদ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচালকের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রামেক হাসপাতালের মতো বৃহৎ একটি প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। প্রতিদিন হাজার হাজার রোগী, স্বজন, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সমন্বয় করে হাসপাতালের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এর পাশাপাশি রয়েছে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, রোগীর চাপ, জনবল সংকটসহ নানা বাস্তব সমস্যা। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও শৃঙ্খলা ও সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সহজ নয়।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের কর্মজীবনে শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, পেশাগত দক্ষতা ও মানবিকতার সমন্বয় বিশেষভাবে লক্ষণীয়। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নের পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের জন্য একটি নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
তানোরের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নন, বরং এলাকার গর্বিত সন্তান। তাঁর কর্মজীবনের সাফল্য নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে। কঠোর পরিশ্রম, মেধা, অধ্যবসায় ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে একজন মানুষ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন, তাঁর কর্মজীবন তারই একটি দৃষ্টান্ত।
স্থানীয়দের মতে, বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় কিছু সীমাবদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক। তবে সেসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজন গঠনমূলক সমালোচনা, পরামর্শ ও সহযোগিতা। রামেক হাসপাতালের উন্নয়নে পরিচালকের পাশাপাশি চিকিৎসক, নার্স,কর্মকর্তা-কর্মচারী, রোগী-স্বজন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন।
রাজশাহীবাসীর প্রত্যাশা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের নেতৃত্বে রামেক হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আরও আধুনিক,শৃঙ্খলাপূর্ণ ও জনবান্ধব হবে। দালালদের দৌরাত্ম্য প্রতিহত করার পাশাপাশি রোগী ও স্বজনদের হয়রানি কমানো,হাসপাতালের পরিবেশ উন্নত করা এবং সেবায় জবাবদিহি বাড়ানোর উদ্যোগ আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।
সর্বোপরি,তানোরের কৃতী সন্তান হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পিকে এম মাসুদুল ইসলামের অর্জন যেমন এলাকাবাসীর জন্য গর্বের,তেমনি রামেক হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে থেকে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখার বিষয়টিও রাজশাহীবাসীর জন্য আশাব্যঞ্জক। তাঁর দক্ষ নেতৃত্বে রামেক হাসপাতাল আরও সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও রোগীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে,এমন প্রত্যাশাই এখন সাধারণ মানুষের।



আপনার মতামত লিখুন