খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ

গোলাম রব্বানী
প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ২:৫৪ অপরাহ্ণ
তালায় অস্তিত্বহীন মাদ্রাসার নামে বই উত্তোলন: ভবনের স্থানে ক্ষেতে পেঁপে-বেগুন-ভেন্ডি ও মরিচের চাষ

কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ও পাঠদান চালু থাকলেও বাস্তবে সেই মাদ্রাসার স্থানে রয়েছে পেঁপে, বেগুন আর ঢ্যাঁড়শের চাষ। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার ঘোনা নারায়ণপুর স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার অস্তিত্ব বিলীন হয়েছে প্রায় ১৫ বছর আগে। অথচ এই ভূতুড়ে প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে প্রতি বছর উত্তোলন করা হচ্ছে সরকারি বিনামূল্যে বিতরণযোগ্য শত শত সেট বই। সম্প্রতি জালিয়াতির মাধ্যমে বই উত্তোলনের এ ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮২ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত ও পরবর্তীতে রেজিস্ট্রেশন প্রাপ্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে নন-এমপিও থাকা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থী শূন্যতার কারণে একপর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল মোড়ল পাঠদান চালু আছে দেখিয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতি বছর ১ম থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত ১০০ থেকে ১৫০ সেট বই উত্তোলন করে আসছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ গোলাম মোস্তফা, মোঃ রমজান আলী বিশ্বাস ও মোঃ হাসান অভিযোগ করে জানান, প্রায় ৫-৬ বছর আগেও মাদ্রাসা প্রধান একইভাবে সরকারি বই উত্তোলন করে ভাঙড়ির দোকানে কেজি দরে বিক্রি করার সময় তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে হাতেনাতে ধরা পড়েন। চলতি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষেও তিনি ১৫০ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে মর্মে ভুয়া তথ্য দিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে পুনরায় বই উত্তোলন করেছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে মাদ্রাসার কক্ষ বা ভবন থাকার কথা, সেখানে এখন শোভা পাচ্ছে ৭টি পেঁপে গাছসহ বেগুন, ঢ্যাঁড়শ ও মরিচের গাছ। ক্লাসরুম বা শিক্ষার্থীর কোনো অস্তিত্বই সেখানে নেই। স্থানীয়দের প্রশ্ন— অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে তোলা সরকারি বই প্রতি বছর কোথায় যায়? তারা এই বই বিক্রয় চক্রের মুখোশ উন্মোচন করে আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাদ্রাসা প্রধান আশরাফুল ইসলাম জানান, “আমি ১৫০ সেট বই উত্তোলন করিনি। প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন ও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে প্রতি ক্লাসে ৫-৬ সেট করে বই নিয়েছি।”
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমার কাছ থেকে আশরাফুল ইসলাম ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই গ্রহণ করেছেন। মাদ্রাসার অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না; তিনি কৌশলে প্রতারণা করেছেন।”
তালা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আতিয়ার রহমান জানান, “চলতি বছর ওই প্রতিষ্ঠানের নামে ১০০ থেকে ১৩০ সেট বই উত্তোলন করা হয়েছে। সরেজমিনে অস্তিত্ব না থাকার বিষয়টি জানার পর তাঁর বিরুদ্ধে শোকজ (কারণ দর্শানো নোটিশ) জারির প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।