খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই:  এফবিসিসিআই

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার সুযোগ নেই:  এফবিসিসিআই

বিশেষ প্রতিনিধি:  সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীসহ নিত্যপণ্য আমদানিকারক কর্পোরেট কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তবে দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসণ, সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণ এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) এফবিসিসিআই’র মতিঝিল কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সাথে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা উঠে আসে।সভায় সভাপতিত্ব করেন শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআইর প্রশাসক মোঃ ফজলুল হক। স্বাগতিক বক্তব্যে তিনি ব্যবসায়ীদের কাছে নিত্যপণ্যের সরবরাহ, মজুদ, আমদানি এবং মূল্য পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য আহ্বান করেন।

এ সময় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান – চিনি, ভোজ্যতেল, ডাল, আটা, ময়দাসহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ ঠিক রাখা গেলে এসব পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পাবে না। উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদনমুখী কারখানাসমূহে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের আহ্বান জানান তারা। মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা জানান, বিদ্যমান জ্বালানি সংকটের মধ্যেই তারা স্থানীয় বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত চিনির মূল্য বৃদ্ধি পেলেও দেশে এখনও পণ্যটির দাম অপরিবর্তীত রয়েছে বলে দাবি তাদের।

মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে মৌলভীবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা বলেন, আমদানি এবং মিল পর্যায়ে উৎপাদন সচল না রাখা গেলে নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা যাবে না। এ জন্য জ্বালানি সংকট নিরসণ এবং এলসি সংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধান চান তিনি।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে – ফুটপাতের হকার এবং অনিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের তদারকির আওতায় আনার আহ্বান জানান কাওরান বাজার কাচামাল আড়ৎ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান সুজন। অন্যদিকে, নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরবরাহ ব্যবস্থায় পণ্যের হাত বদল কমিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপার মার্কেট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন। সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ আহ্বান করেছেন সভায় অংশ নেয়া বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ। পাশাপাশি, খুচরা ও পাইকার বাজারসহ মিলগেটে পণ্যের মূল্য তদারকি জোরদারের দাবি জানান তারা।

এ সময়, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌড়াত্ব নিয়ন্ত্রণে সরকার এবং বেসরকারি খাতকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেন কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল কালাম আজাদ।

 

সাম্প্রতিক দেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ সংকটের কারণে উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে বলে সভায় জানান মিল মালিকদের প্রতিনিধিরা। এছাড়া, এলসি সংক্রান্ত জটিলতার কথাও উল্লেখ করেন তারা। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।

সভায় টিসিবি’র প্রতিনিধি জানান, ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যেমে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ কোটি পরিবারের মাঝে স্বল্পমূল্যে পণ্য বিক্রি করে আসছে। অন্যদিকে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণ কর্মসূচি পরিচালনার কথা জানান খাদ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধি। এসব উদ্যোগ দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে বলে দাবি তাদের।দেশীয় কোম্পানি সমূহ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে স্বল্প মূল্যে বিক্রির পরিবর্তে সরাসরি পণ্য আমদানি বা বিকল্প উৎস থেকে পণ্য সংগ্রহের সক্ষমতা বাড়ানো উচিত টিসিবির।

সভার সমাপনী বক্তব্যে এফবিসিসিআই’র প্রশাসক মোঃ ফজলুল হক বলেন, মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ যেসব মূল্যবান মতামত এবং পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো লিপিবদ্ধ করে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরা হবে। নিত্যপণ্যের বাজারে সরকার ঘোষিত নতুন পে-স্কেলের প্রভাব যেন অযৌক্তিক হারে না পরে সে বিষয়ে সকল পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা আহ্বান করেছেন তিনি।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই’র মহাসচিব মোঃ আলমগীর, বিভিন্ন চেম্বার ও অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন বণিক সমিতির নেতৃবৃন্দ, কর্পোরেট কোম্পানিসমূহের প্রতিনিধিবৃন্দ, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয়, টিসিবি, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন, বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।