সিলেটে নির্যাতনের পর কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে নির্মমতার দায়ে আটক ৩
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরীকে কোমরে শিকল বেঁধে নির্যাতনের দায়ে অবশেষে মঙ্গলবার সকালে তিনজনকে আটক করেছে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহ পরান( বহ:)থানা পুলিশ।
গত সোমবার রাত ৭টার দিকে সিলেট নগরীর উপশহর ডি-ব্লক মসজিদ মার্কেট এলাকার একটি দোকানের ক্যাশবাক্সের টাকা চুরির চেষ্টার অভিযোগ এনে স্থানীয়রা কয়োকজন এক কিশোরীকে আটক করেন। আটকের পর তাকে মারধর করা হয় এবং কোমরে শিকল বেঁধে মধ্যরাতে সড়কে হাঁটানো হয়। ক্ষমতাধররা পুলিশের খবর না দিয়ে নিজেরাই আইন হাতে তুলে নেন।
হামলার শিকার কিশোরী কে নির্যাতনে চিৎকার দিয়ে কাঁদতে দেওয়া হয়নি । কাঁদলে মাথা ব্যাথা করবে এমনটা বলতে শোনা যায় ভিডিওতে নির্যাতনকারীদের মুখে।
শিকল বেঁধে তরুণীকে শহর প্রদক্ষিণ শেষে বেঁধে রাখা হয় সড়কের দর্শনীয় স্পটে ।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ওই তরুণীকে উদ্ধার করে সিটি আইনে সোপর্দ করে আদালতে।
তবে শাহপরান( রহ:) থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ফেরদৌস আহমেদ জানান, উদ্ধার হওয়া ওই নারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা হয়নি শাহ পরান থানায়। সিটি আইনে পাঠানো হয়েছে আদালতে। তবে তরুণীকে শিকল পড়িয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করা হয়েছে শাহপরান থানায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া
ওই কিশোরীর অসহায়ত্বের চিত্র আর কান্না জড়িত কন্ঠ দেখে মুহূর্তেই নেটিজেনরা প্রতিবাদ শুরু করেন।
অনেকের মনে প্রশ্ন ছিল কোন ঘটনা আড়াল করতে এমন ঘটনা সৃষ্টি করা হয়েছে কিনা। চোরের ঘটনা হয়ে থাকলে কেন ছিল পুলিশের অনুপস্থিতি?
তাই জোরালো দাবি উঠে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের কাছাকাছি জায়গায় এমন ঘটনা সিলেট মেট্রোপল্টন পুলিশ গুরুত্বের সাথে আমলে নেয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, বিপিএম এর নির্দেশনায় ইতিমধ্যে জড়িত তিনজনকে আটক করেছে শাহপরান (রহ:) থানা পুলিশ। আটকৃতরা হলেন :
১. মোঃ জাকির হোসেন (৪৩) পিতা-মৃতঃ জালাল উদ্দিন সাং-রোড নং-৪৪, বাসা নং-৫১, সি ব্লক, শাহজালাল উপশহর।
২. মোঃ মোজাক্কির হোসেন (৪০) পিতা-মৃতঃ জালাল উদ্দিন, সাং-ঐ
৩. মোঃ বোরহান উদ্দিন (৪৫) পিতা-মোঃ মজিবুর রহমান, সাং-রোড নং-৪৪, বাসা নং-৫৪, সি ব্লক, শাহজালাল উপশহর।
এ ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানান, আটকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী অন্যদের খুঁজে মাঠে রয়েছে পুলিশ। এই ঘটনাটিকে পুলিশ গুরুত্বের সাথে নিয়ে নির্যাতনকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছে। ইতিমধ্যে ৩ জনকে আটক করে শাহপরাণ থানায় মামলা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কোমরে শিকল বাঁধা অবস্থায় এক কিশোরীকে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এক যুবক। যে যুবক তাকে শিকল দিয়ে টেনে নিয়ে যাচ্ছে সে এখনো গ্রেফতার হয়নি বলে দাবি করেছেন ঘটনাস্থল এবিসি পয়েন্টের অনেকেই।
ঘটনার সময় কিশোরীকে কাঁদতে দেখা যায়। অসহায়ভাবে কাঁদতে থাকা ওই কিশোরীর দৃশ্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মানবিকতা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠে।
শিকল বেঁধে নির্যাতন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যারা ওই কিশোরীকে এভাবে শিকল পরিয়ে নির্যাতন করেছে, তাদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তবে চুরির অভিযোগ সত্য কি না, সেটি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়।
কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে একজন কিশোরীকে শিকল পরানো, মারধর করা কিংবা প্রকাশ্যে অপমান-হয়রানি করার অধিকার কারও নেই।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সুদিপ্ত অর্জুন বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এমন ঘটনা কেবল একজন শিশুর মানবিক মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করে না, সমাজে ভয়াবহ বার্তা দেয়।
উল্লেখ্য সচেতন মহলের দাবি প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করে আইনের শাসন বাস্তবায়নে প্রসারণকে কাজ করা। এবং ওই মেয়েটি নিরাপত্তা নিশ্চিত কল্পে সকল ধরনের ব্যবস্থা নেয়া। সংগঠিত ঘটনায় জড়িতরা এর আগে কোন নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা। তরুণীকে নির্যাতনের তাইলে মনে হয় যদি তোরা আগে থেকেই এ বিষয়ে অভিজ্ঞ এমনটাই মন্তব্য করেছেন অনেকে।



আপনার মতামত লিখুন