অতিরিক্ত টাকার চাকা ঘুরলেই মেলে সই, জিম্মি সাধারণ সেবাগ্রহীতা শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দুর্নীতির বাঁধভাঙা জোয়ার
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস যেন অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের এক নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে শতাধিক দলিল লেখক আজ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কাছে জিম্মি। নির্ধারিত ফি প্রদান করেও ঘুষ ছাড়া মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা; উল্টো প্রতি ধাপে গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

জানা গেছে, শৈলকুপার নিয়মিত সাব-রেজিস্ট্রার ইয়াসমিন শিকদার বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে কোটচাঁদপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্ট্রার তামিম সিদ্দিকী অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে শৈলকুপায় ভারপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর এই ভারপ্রাপ্তের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অফিস কক্ষজুড়ে রাজত্ব কায়েম করেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট। টাকা না দিলে মেলে না সই, দলিলে নির্ধারিত রেট স্থানীয় ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এই অবৈধ সিন্ডিকেটের মূল নেতৃত্বে রয়েছেন নকলনবিশ আমির হামজা। অফিসে প্রতিটি দলিলের জন্য গড়ে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধ লেনদেন বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে। সাধারণ দলিল: প্রতি দলিলে গুণতে হচ্ছে ২,০০০ টাকা। টাকা দিলে সহজেই মেলে অনুমোদন, না দিলে নানা অজুহাতে আটকে দেওয়া হয় নথি। হেবা দলিল: বিশেষ করে জমি হস্তান্তরের হেবা দলিলের ক্ষেত্রে নেওয়া হচ্ছে প্রতিটিতে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত। নকলনবিশ আমির হামজার নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেটের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাধারণ জমি ক্রেতা-বিক্রেতারা। অফিসে আসা শত শত গ্রাহকের পাশাপাশি পেশাগত কাজে আসা শতাধিক দলিল লেখকও বর্তমানে এই অবৈধ ব্যবস্থার কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন। সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, রেজিস্ট্রি ফি ও সরকারি নিয়ম মেনে সমস্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করার পরও শুধুমাত্র সিন্ডিকেটের হাতে অতিরিক্ত টাকা না দিলে জমি রেজিস্ট্রি সম্ভব হচ্ছে না। জমি কেনাবেচার মতো জরুরি প্রয়োজনে এসে সাধারণ মানুষ চরম হয়রানি ও অর্থদণ্ডের শিকার হচ্ছেন।
ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ভুক্তভোগী মহল অবিলম্বে শৈলকুপা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এই দুর্নীতির তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।



আপনার মতামত লিখুন