খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ডাক্তার নাদির হোসেন

স্বাস্থ্য সচিব এবং কুমিল্লা মেডিকেলের অধ্যক্ষকে মাসোহারা দিয়ে দিনাজপুরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছি

মুকুল চট্টোপাধ্যায়, দিনাজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫, ১০:১৩ অপরাহ্ণ
স্বাস্থ্য সচিব এবং কুমিল্লা মেডিকেলের অধ্যক্ষকে মাসোহারা দিয়ে দিনাজপুরে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছি

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডাক্তার নাসির হোসেন মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহু অপকর্মের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত হাওয়ায় ৫ আগস্ট পরবর্তী তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলি করা হলেও দিনাজপুর শহরে তিনি সকাল বিকাল প্রাইভেট প্র্যাক্টিস নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তা হয়েও মাসের পর মাস কিভাবে তিনি কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে নিজ জেলায় প্রাইভেট প্র্যাকটিস করছেন এ নিয়ে দিনাজপুর জুড়ে চলছে তোলপাড়।

জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ডাঃ নাদির হোসেনের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেই সময় ডাক্তার নাদিরের নির্দেশ ছাড়া এত বড় প্রতিষ্ঠানের দুটিতেই কোন কিছুই সম্ভব করা সম্ভব হতো না। বিগত ১৫ বছরে সেই সময় বিএনপি- জামাতের বহু বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, কর্মকর্তা, কর্মচারীকে অল্প দোষেই গুরু দন্ড দিয়েছেন এই কর্মকর্তা। এই নাদির হোসেন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল থাকাকালীন সেই সময় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের যত কেনাকাটা করা হয়েছিল, এমনকি হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষার যত মেশিনপত্র ক্রয় করা হয়েছিল তার সবকিছুতেই তিনি ব্যাপক দুর্নীতি করেছিলেন। মেডিকেল কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল হওয়ার পরেও প্রভাব খাটিয়ে ৫০০ শয্যার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিভিন্ন কমিটিতে তিনি অন্তর্ভুক্ত থেকে সমস্ত কিছুর কেনাকাটায় তার ইশারা ছাড়া কোন কিছুই সম্ভব হয়নি। তার আমলেও হাসপাতালের এমন বিভিন্ন কেনাকাটা তেও রয়েছে দুর্নীতির ব্যাপক অভিযোগ। এমনকি টেন্ডারের যে কোম্পানির বিভিন্ন ভারী জিনিসপত্র দেওয়ার কথা থাকতো সেই কোম্পানির মাল না নিয়ে অন্য কোম্পানির স্টিকার গায়ে লাগিয়ে দিয়ে ডুপ্লিকেট মেশিনপত্র গ্রহণ করতে বাধ্য করতো এই নাদির হোসেন। মূলত তৎকালীন ক্ষমতাশীল দলের ব্যাপক প্রভাব খাটিয়ে ওইসব অপকর্মের মাস্টার মাইন ছিলেন, ডাঃ নাদির হোসেন।

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার আমলে মাস্টার রোলে অবৈধভাবে লোক নিয়োগ থেকে শুরু করে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার রোগীদের পথ্য না দিয়ে, ২৫০ শয্যার হাসপাতালের সমমান রোগীদের পথ্য সরবরাহে বাধ্য করা হতো।

এইভাবে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে ডাঃ নাদির হোসেন কোটি কোটি টাকা অবৈধ ভাবে আয় করেছেন।
ছাত্র জনতার আন্দোলনে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতাচুত্য হলে ডাক্তার নাদির হোসনের নামে দিনাজপুর শহরজুড়ে বিভিন্ন পোস্টারিং ও লিফলেট বিতরণ হলে পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলি করে দেন। কিন্তু তিনি নাম মাত্র কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে বদলী হলেও দিনাজপুর শহরে সকাল বিকাল প্রাইভেট প্র্যাকটিজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই প্রতিনিধি গতকাল সকাল সাড়ে ১১ টায় দিনাজপুর শহরের আইডিয়াল ক্লিনিকে ডাক্তার নাজির হোসেনকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে দেখে কুমিল্লা মেডিকেলে তার কর্মস্থলে চাকুরীতে না গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাস্থ্য সচিব মহোদয় এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল কে প্রাইভেট প্র্যাকটিজ এর বিষয়টি তিনি অবহিত করেছেন। তাছাড়া সচিব মহোদয়কে নাকি একটি দরখাস্ত দিয়েছেন, চাকুরী করবেন না বলে। কিন্তু সচিব মহোদয় তার দরখাস্তটি অনুমোদন করেছেন কিনা, সে বিষয়ে আর কিছু বলেননি।
ডাঃ নাদির যখন ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন, তখন তার প্রভাবের কারণে তৎকালীন প্রিন্সিপাল এবং হাসপাতালের পরিচালকরা শান্তি মতো চাকরী করতে পারেননি। দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের তৎকালীন এক প্রিন্সিপাল বলেন, ডাঃ নাদির হোসেন কর্মরত থাকা অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের যত ভাউচার হয়েছে তার বেশিরভাগই ভুয়া ভাউচার এবং এই গুলোতে ডাঃ নাদির জড়িত।
তাই দিনাজপুরের সচেতন মহল দাবী তুলেছেন, সেই সময়ের যাবতীয় ভাউচার আবারো পূন: অডিট করানো হোক। এমনকি তৎকালীন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যাবতীয় কেনাকাটা তারও যে ব্যাপক দুর্নীতি রয়েছে এসবের তদন্তর দাবি সচেতন মহলের।
এ ব্যাপারে দিনাজপুরবাসী তদন্ত সাপেক্ষে ডাঃ নাদির হোসেনের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেছেন।

অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

ঢাকার ডাক বিনোদন ডেস্ক: অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। অস্কারের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য সিনেমাটিকে বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাংলাদেশের নির্বাচিত সিনেমা হিসেবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করেন।

অস্কার বাংলাদেশ কমিটি জানিয়েছে, ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এগুলো হলো—রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।

তবে পরবর্তী সময়ে ‘মানুষের বাগান’ স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে বাকি চারটি চলচ্চিত্র নিয়ে পর্যালোচনা করে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। চলচ্চিত্রগুলোর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য ‘রইদ’ সিনেমাকে চূড়ান্ত করা হয়।

ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটিতে ছিলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।

রইদ’ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়। এবার ‘রইদ’-এর মাধ্যমে অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এই নির্মাতা।

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে সিনেমা পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘রইদ’। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে সিনেমাটি।অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের আয়োজনে ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অস্কারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে ২৪টি শাখায় দেওয়া হবে এই পুরস্কার।