যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি ইসরায়েলের জন্য ‘কৌশলগত ধাক্কা’, নেতানিয়াহুর পরাজয়
আল জাজিরাকে সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি ভাষ্যকারের মন্তব্য; লেবানন পরিস্থিতিকে চুক্তির বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ
ঢাকা, ১৫ জুন:
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ইসরায়েলের জন্য একটি বড় কৌশলগত ধাক্কা এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর জন্য ‘ব্যক্তিগত পরাজয়’ হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি রাজনৈতিক ভাষ্যকার গিডিয়ন লেভি।
আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লেভি বলেন, ইরানের পারমাণবিক ও আঞ্চলিক প্রভাব মোকাবিলা দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রাধিকারের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু ছিল। তবে নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় ইসরায়েলের প্রভাব সীমিত হয়ে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
লেভির ভাষ্যমতে, সম্ভাব্য এই চুক্তির ফলে ইসরায়েল মূল কূটনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে অনেকটাই বাইরে অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের বিকল্প পরিসর সংকুচিত হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ অবস্থায় ইসরায়েল বিভিন্ন অন্তর্ঘাতমূলক বা সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানান দেওয়ার চেষ্টা করছে।

সম্প্রতি লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ কার্যকর কৌশলগত পরিবর্তন আনতে সক্ষম নয়। এমন হামলাকে তিনি “হাস্যকর” ও “ছেলেমানুষি” পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেন।
গিডিয়ন লেভি বলেন, “খুব স্পষ্টভাবেই ইসরায়েল এই খেলায় পিছিয়ে পড়েছে।” তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক ভারসাম্যে নতুন বাস্তবতা তৈরি করবে, যেখানে ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সম্ভাব্য চুক্তির স্থায়িত্ব এখনো অনিশ্চিত। বিশেষ করে লেবাননকে ঘিরে চলমান উত্তেজনা এবং সীমান্ত পরিস্থিতি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
লেভির মতে, ইরান লেবানন ইস্যুকে বৃহত্তর আঞ্চলিক আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে, যা ভবিষ্যতে চুক্তির বাস্তবায়নকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল এখনো লেবাননের কিছু এলাকায় সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে এবং দ্রুত সেখান থেকে সরে যাওয়ার কোনো ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না।
তার ভাষায়, লেবাননে ইসরায়েলি সেনা উপস্থিতি অব্যাহত থাকলে সেখানে উত্তেজনা ও প্রতিরোধ কর্মকাণ্ড পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি বা আঞ্চলিক শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের যেকোনো অগ্রগতি শুধু দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কই নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, লেবানন সংকট এবং ইসরায়েলের আঞ্চলিক কৌশলগত অবস্থানের ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।



আপনার মতামত লিখুন