খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

জুলাই আপনাদের কী দিয়েছে?

অধ্যক্ষ খান আখতার হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
জুলাই আপনাদের কী দিয়েছে?

“জুলাই আপনাদের কী দিয়েছে—একবার সাহস করে বলুন!”

এই একটা লাইনই আজ কোটি মানুষের বুকের ভেতরের কথা। জুলাই মানে শুধু একটা মাস না। জুলাই মানে একটা প্রতিশ্রুতি, একটা আন্দোলন, একটা স্বপ্ন।

স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল—কোটামুক্ত বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র, শোষণমুক্ত সমাজ, বাকস্বাধীনতা, আইনের শাসন, অর্থনৈতিক মুক্তি।

দুই বছর পর এসে প্রশ্ন উঠছে: সেই স্বপ্নগুলো কোথায়? আমরা কি সত্যিই এগিয়েছি, নাকি পিছিয়েছি? মানুষ কি স্বস্তিতে আছে, নাকি আতঙ্কে?

ইতিহাস কখনো মিথ্যাকে ক্ষমা করে না। তাই সময় এসেছে চোখ খুলে দেখার, প্রশ্ন করার, জবাব চাওয়ার।

*কোটামুক্ত বাংলাদেশ?*

আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দাবি ছিল কোটা সংস্কার। “মেধার ভিত্তিতে চাকরি চাই”।

আজ চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো দেখুন। কোটা কমেছে, কিন্তু পুরোপুরি যায়নি। মুক্তিযোদ্ধা, নারী, জেলা, প্রতিবন্ধী—নানা নামে কোটা এখনো আছে। আবার নতুন করে “বিশেষ সুপারিশ” আর “রাজনৈতিক বিবেচনা” নামে অলিখিত কোটা তৈরি হয়েছে।

বেকার ছেলেটা রাত জেগে পড়ে, আর চাকরি পায় অন্য কেউ। সে জিজ্ঞেস করে, “আমার অপরাধ কী? আমি গরিব?”

কোটা গেছে, কিন্তু বৈষম্য যায়নি। শুধু রূপ পাল্টেছে।

*দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র?*

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিল সবচেয়ে বড় স্লোগান। “চোরের খনি ভেঙে দাও।”

আজ ব্যাংক লুটের খবর কমেছে? না। বরং নতুন কৌশল এসেছে। টেন্ডারবাজি, প্রকল্পের নামে লুট, ডিজিটাল হাতসাফাই।

বাজারে গেলে দেখেন, দ্রব্যমূল্য কেন বাড়ে? সিন্ডিকেটের কারণে। সেই সিন্ডিকেট ভেঙেছে? না। উল্টো আরও শক্তিশালী হয়েছে।

থানায় গেলে, হাসপাতালে গেলে, ভূমি অফিসে গেলে এখনো “টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না”। দুর্নীতি দমন কমিশনের ফাইল বড় হয়, কিন্তু বিচার ছোট।

দুর্নীতি গেছে? না। সে এখন আরও স্মার্ট হয়েছে।

*শোষণমুক্ত সমাজ?*

“শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাই”—এই দাবি ছিল।

আজ গার্মেন্টসের মেয়েটা ১২ ঘণ্টা কাজ করে ১২৫০০ টাকা পায়। ঢাকা শহরে ১২৫০ টাকায় ১ রুমের ভাড়াই হয় না। সে কিভাবে বাঁচবে?

কৃষক তার ধানের দাম পায় না, কিন্তু চালের দাম আকাশে। মাঝখানে ফড়িয়া।

শোষণ গেছে? না। শোষকের পোশাক পাল্টেছে। আগে ছিল মালিক, এখন হয়েছে “সিস্টেম”।

*বাকস্বাধীনতা?*

“কথা বলার অধিকার চাই”—এটা ছিল আন্দোলনের প্রাণ।

আজ ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিলেই মামলা। ইউটিউবার গ্রেপ্তার। সাংবাদিকের উপর হামলা। “গুজব” আর “রাষ্ট্রদ্রোহ” নামে নতুন আইন।

মানুষ এখন ফিসফিস করে কথা বলে। চায়ের দোকানে রাজনীতি নিয়ে আলোচনা কমে গেছে। কারণ সবাই ভয় পায়—”কথা বললেই যদি বিপদ হয়?”

বাকস্বাধীনতা এসেছে? না। ভয়ের সংস্কৃতি এসেছে।

*আইনের শাসন?*

“আইন সবার জন্য সমান”—এই ছিল দাবি।

বাস্তবতা কী? প্রভাবশালীর ছেলে ধরা পড়ে না। গরিবের ছেলে বিনা অপরাধে মাসের পর মাস জেলে।

মামলা আছে, বিচার নেই। বিচার আছে, ন্যায়বিচার নেই। পুলিশ এখনো “উপরের নির্দেশ” এর জন্য অপেক্ষা করে।

আদালতের বারান্দায় ঘুরতে ঘুরতে মানুষ ক্লান্ত। আইন আছে কাগজে, বাস্তবে নেই।

*অর্থনৈতিক মুক্তি?*

“জনগণের পকেট কাটা বন্ধ করো”।

আজকের চিত্র: ডলারের দাম বাড়ছে, রিজার্ভ কমছে, ঋণের বোঝা বাড়ছে। বাজারে গেলে ১০০০ টাকার ব্যাগ হাতে নিয়ে আসা যায় না।

তরুণরা দেশ ছাড়ছে। “বিদেশে গিয়ে কামলা দেব, তবু এখানে থাকব না”—এই হলো আজকের তরুণের ভাষা।

উন্নয়নের বড় বড় প্রজেক্ট আছে। পদ্মা সেতু আছে। মেট্রো আছে। কিন্তু পেটে ভাত নেই। উন্নয়ন কি শুধু ইট-পাথরের নাম?

অর্থনৈতিক মুক্তি আসেনি। এসেছে অর্থনৈতিক চাপ।

*সামাজিক উন্নয়ন ও নিরাপদ জনজীবন?*

স্কুলে ছাত্র মারামারি, বিশ্ববিদ্যালয়ে সিট দখল, রাজনীতির নামে চাঁদাবাজি।

রাতে মেয়েরা একা বের হতে ভয় পায়। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক—সবই বাড়ছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিন নতুন নতুন অপরাধের ভিডিও। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, কিন্তু জনগণের আস্থা নেই।

সামাজিক উন্নয়ন মানে শুধু বিল্ডিং না। মানুষের মানসিক শান্তি। সেই শান্তি কোথায়?

*নূন্যতম মানবাধিকার?*

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রিমান্ডের নামে নির্যাতন—এই শব্দগুলো আমরা ভুলতে চেয়েছিলাম।

কিন্তু পত্রিকা খুললেই দেখি “নিখোঁজ”, “ক্রসফায়ার”, “আটক”।

মানুষ এখনো রাতের বেলা দরজায় টোকা শুনে ভয় পায়। মানবাধিকার মানে শুধু জাতিসংঘের রিপোর্ট না। মানবাধিকার মানে রাতে ঘুমানোর নিশ্চয়তা। সেটা আছে?

*তাহলে জুলাই আমাদের কী দিল?*

নিরাশ হবেন না। জুলাই কিছু দিয়েছেও।

১. *সাহস*: মানুষ ভয় ভেঙে রাস্তায় নেমেছে। “আমরা পারি”—এই বিশ্বাসটা ফিরে এসেছে।
2. *সচেতনতা*: এখন মানুষ প্রশ্ন করে। আগে “যা বলে তাই মেনে নিতাম”, এখন “কেন” জিজ্ঞেস করি।
3. *ঐক্য*: দল-মত নির্বিশেষে মানুষ একসাথে দাঁড়াতে শিখেছে।

কিন্তু এই অর্জনগুলো যদি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ না পায়, তাহলে ৫ বছর পর আবার জুলাই আসবে। আবার রক্ত দিতে হবে।

*দেশ কি এগিয়েছে না পিছিয়েছে?*

উত্তরটা “হ্যাঁ” এবং “না” দুটোই।

*এগিয়েছে*: অবকাঠামো, ডিজিটাল সেবা, মানুষের রাজনৈতিক সচেতনতা।

*পিছিয়েছে*: নৈতিকতা, জবাবদিহিতা, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, মানবাধিকার।

আমরা এক পা এগিয়ে দুই পা পিছাচ্ছি। গাড়ি চলছে, কিন্তু ব্রেক ফেল।

*শেষ কথা: সময় এসেছে জবাব চাওয়ার*

যারা স্বপ্ন দেখিয়েছিল তাদের জিজ্ঞেস করুন: “আপনার প্রতিশ্রুতি কোথায়?”

যারা ক্ষমতায় আছে তাদের জিজ্ঞেস করুন: “মানুষ কেন ভালো নেই?”

আর নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: “আমি চুপ থাকব, নাকি কথা বলব?”

দেশ কারো বাপের না। দেশ আমার, আপনার, সবার। তাই দায়িত্বও সবার।

ইতিহাস আমাদের দেখছে। ২০২৬ সালের জুলাই যদি শুধু “মিথ্যা আশ্বাসের জাল” হয়ে থাকে, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

তাই আসুন, চোখ খুলি। সত্য বুঝি। প্রশ্ন করি।

কারণ স্বাধীনতা একবার আসে না। স্বাধীনতা প্রতিদিন অর্জন করতে হয়।

জুলাই আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছে। এখন সেটা কাজে লাগানোর পালা।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।