একজন প্রতিবন্ধী মেধাবীর কান্না: চাকরি নেই, স্বপ্ন একটা কর্মসংস্থানের
শারীরিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধকতা জয় করে অনার্স পাস করেছেন। কম্পিউটারেও দক্ষ। তবুও চাকরি মিলছে না।
নীলফামারী সদরের মোঃ ফরিদুল ইসলামের চোখে এখন কান্না আর একটাই স্বপ্ন – একটা কর্মসংস্থান।
ফরিদুলের বাড়ি নীলফামারী সদর উপজেলার ৬ নং রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ী পাইলাভাঙ্গা গ্রামে। জন্মের ৫-৬ বছর পর হঠাৎ কানে সমস্যা দেখা দেয়। পাশাপাশি দুই পায়েও সমস্যা রয়েছে তার। এরপরও থেমে থাকেননি ফরিদুল।
প্রতিবন্ধকতাকে শক্তি বানিয়ে কষ্ট করে পড়াশোনা করে ইতিহাস বিভাগ থেকে অনার্স চতুর্থ বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। শুধু পড়াশোনাই নয়, মাইক্রোসফট এক্সেল, ফটোকপি, ছবি প্রিন্টসহ কম্পিউটারের অনেক কাজে দক্ষ তিনি। কম্পিউটারের সার্টিফিকেটও রয়েছে তার।
কিন্তু কানে কম শোনার কারণে চাকরির জন্য অনেক আবেদন করেও কোথাও সুযোগ পাননি।
ফরিদুলের পরিবারের অবস্থাও খুব অসচ্ছল। তার বাবা বয়স্ক ও অসুস্থ। মা ডায়াবেটিসের রোগী।
পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় সংসারের সব দায়িত্ব এখন তার কাঁধে।
ফরিদুল বলেন, “আমার একটাই চাওয়া, সরকার বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি যদি আমাকে একটা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে আমি সম্মানের সাথে পরিবারের দায়িত্ব নিতে পারবো।”
ফরিদুলের বাবা রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি অনেক কষ্ট করে ছেলেটারে লেখাপড়া করাইছি।
এখন আমার বয়স হইছে, শরীরও চলে না। ফরিদুলের যদি একটা চাকরি হইত,
তাইলে আমি নিশ্চিন্তে মরতে পারতাম। সংসারটাও বেঁচে যাইত।”



আপনার মতামত লিখুন