রঘুনন্দন বনাঞ্চলের শাহপুর বন কর্মকর্তা যোগসাজশে সংঘবদ্ধ চক্র রাতের আধারে বালু উওোলন ও গাছ কেটে সাবাড়
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার রঘুনন্দন বনাঞ্চলের শাহপুর বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায়ের যোগসাজশে সংঘবদ্ধ চক্ররা রাতের আধারে বালু উওোলন ও মূল্যবান গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে অভিযোগ রয়েছে। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি বনাঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় , বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিটের গাছ, বাঁশ বিক্রি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন সহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে রঘুনন্দন রেঞ্জে শাহপুর বন বিট বদলি হয়ে আসে । তিনি শাহপুর বন বিট দায়িত্ব নেওয়ার পর হতে রঘুনন্দন রেঞ্জের এসিএফ এর চোখে ফাঁকি দিয়ে রঘুনন্দন বনাঞ্চলের ভেতর মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া ও বাঘাসুরা ইউনিয়নে বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের প্রভাব শালী সংঘবদ্ধ চক্রের সাথে মোটা অংকের টাকা বিনিময়ে প্রতিদিন রাতের আধারে বালু ও মূল্যবান গাছ বিক্রি করে দিচ্ছে । এ-সব বনাঞ্চলের চোরাই গাছ কেটে রাতের ভেতরেই উপজেলার নোয়াপাড়া , জগদীশপুর, ছাতিয়াইন, বাঘাসুরা ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন স্থানে বৈধ ও অবৈধ করাত কলে বিক্রি করে দিচ্ছে ।চোরাই গাছ গুলো রাত থেকে ভোর সকাল ৮ টা ভেতরে বিভিন্ন ভারী বাহন পিক-আপ , ডায়না, ট্রাক , কাভার্ড ভ্যান , ট্রাক্টর , পাওয়ার ট্রলি , বেটারী চালিত টমটম , ভ্যান রিকসা সহ বিভিন্ন গাড়ি দিয়ে পাচার করে নিয়ে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার গাছ বিক্রি । এমন কি সিলিকা বালু রাতের আধারে উওোলন করে উপজেলার বিভিন্ন কোম্পানি , মহাসড়কে, হাট-বাজার, গ্রামাঞ্চলে বাসা- বাড়িতে বিক্রি করছে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার বালু । এসব গাছ পাচারকারী চক্ররা বেশি বিএনপি নেতা নাম বিক্রি করে চোরাই ভাবে বনাঞ্চলের গাছ কেটে এবং বালু উওোলনের সাথে জড়িত । এবিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের কোনো তদারকি নেই । নামেমাত্র অভিযান দিয়ে ধরা পড়লে ও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বের হয়ে এসে আবারও বনাঞ্চলের গাছ কেটে এবং বালু উওোলন করে বিক্রি করছে । শাহপুরে স্থানীয় সালা উদ্দিন সূত্রে জানা যায় , বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় ২০২২ সালে বাহুবল উপজেলার পুটিজুরী বন বিট এলাকায় দায়িত্ব পালন কালে স্থানীয় ত্রিপুরা পল্লীর শতাধিক পরিবারে সঙ্গে বিরোধ জটিলতা ছিল বিধায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এমনকি তার বিভিন্ন অপকর্মে সাথে জড়িত থাকলেও তার পেছনে উপরে অনেক বড় জেগ রয়েছে । সে আওয়ামী লীগের দোসর । রথীন্দ্র কিশোর রায় অবৈধ ভাবে বনাঞ্চল থেকে মাসে মাসে যে আয় করে সেখান থেকে বন বিভাগের উপরে উর্ধতন কর্মকর্তাকে মাসিক দুই লক্ষ টাকা দিয়ে থাকে বলে রথীন্দ্র কিশোর রায় বলে থাকে । স্থানীয় সূত্রে আরো জানা যায় , বনাঞ্চলের গাছ কেটে নেওয়ার পর অবশিষ্ট গাছের গোড়ায় (মুথা) পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় । যাতে কেউ দেখে মনে হয় গাছ গুলো অনেক আগেই কাটা হয়েছে । কোথাও কোথাও গাছের গোড়ায় উপরে মাটি দিয়ে ঢেকে রাখার ও অভিযোগ রয়েছে। যাহাতে গাছ চুরির কোনো চিহ্ন না থাকে। এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিকিউরিটি গার্ড বলেন , রঘুনন্দন বনাঞ্চলের গাছ চুরি ও বালু উওোলন করে বিক্রি বিষয়ে সরজমিনে নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করলে বন কর্মকর্তা রথীন্দ্র কিশোর রায় বিভিন্ন দুর্নীতি অনিয়ম অভিযোগ গুলো বের হয়ে আসবে এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে কঠোর শাস্তি এবং অন্যত্র দূরবর্তী বদলি করা হউক । তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে সংরক্ষিত রঘুনন্দন বনাঞ্চল আরও বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।



আপনার মতামত লিখুন