সুরক্ষায় নারীর প্রতি বৈষম্য কেনো?
নিম্নবিত্ত জনার্দনের জীবন সংগ্রামের গল্পটা আমাদের পাড়া-মহল্লার গল্প। গায়ের নিম্নবিত্ত সংসারের গল্প। সকালে কাজে না গেলে চুলায় আগুন জ্বলে না। জনার্দনের ঘরে দুই ছেলে-মেয়ে। ছেলেটা স্কুলের ফি চাইতেই বাবা ফেটে পড়ে। “টাকার গাছ নাকি আমি? কাল থেকে পড়াশোনা বন্ধ। আমার সাথে মাঠে যাবি।” মা মাঝখানে পড়ে ছেলের মাথায় হাত বুলাতে যায়। অমনি জনার্দনের গলা ধাক্কা। “বাপের বাড়ি যা।” বউটা চোখের পানি মুছতে মুছতে ছেলের হাত ধরে উঠানে পা রাখতেই স্বামী মাটিতে লাঠি দিয়ে একটা গোল দাগ কাটে। “এই গণ্ডির বাইরে যাবি না।” ঘর থেকে বের করে দিচ্ছে, অথচ সীমানা পেরোতে দেবে না। কারণটা খুব সোজা। বাড়িটা জনার্দনের বাপের ভিটা। দলিলে নাম তার। খাজনার রশিদে নাম তার। আর বউটা এসেছে অন্য গাঁ থেকে। তার নামে এখানে একটা খুঁটিও নেই। তাই লাঠি উঁচু করতে তার হাত কাঁপে না। এই একটা দৃশ্যের মধ্যে আমাদের সমাজের হাজার বছরের রোগটা ধরা পড়ে। মেয়েদের নিজের নামে একটা বাড়ি নাই। বাড়ি না থাকলে মেয়েরা আর বাড়ির মানুষ থাকে না, সে হয়ে যায় অতিথি। অতিথিকে যতদিন খাওয়ানো যায়, আদর করা যায়। আদর ফুরালে দরজা দেখিয়ে দেওয়া যায়। আর প্রয়োজনে মাটিতে গণ্ডি কেটে বুঝিয়ে দেওয়া যায় তোমার দুনিয়া এইটুকু।
আর এই জন্যই মেয়েদের আক্ষেপ, ‘জন্মের পর বাপের বাড়ি, বিয়ের পর স্বামীর বাড়ি, বৃদ্ধ বয়সে সন্তানের বাড়ি- তাহলে আমার বাড়ি কই?’
১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পাড়ি দিয়েছে ৫৫ বছর। তবুও রাস্ট্র এর উত্তর দিতে আইনের দিকে তাকায়।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদে লেখা আছে আইনের চোখে সবাই সমান। ২৮ অনুচ্ছেদের
২ দফায় বলা হয়েছে “রাষ্ট্র নারীর প্রতি বৈষম্য করবে না”। ৪ দফায় বলা হয়েছে “নারীর অগ্রগতির জন্য রাষ্ট্র বিশেষ ব্যবস্থা নিতে পারবে”। ২০১০ সালে “পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন” পাশ হয়েছে। সেই আইনের ৩ ধারায় শারীরিক, মানসিক, যৌন, অর্থনৈতিক সব নির্যাতনকে অপরাধ বলা হয়েছে। ১৮ ধারায় আদালতকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নির্যাতিত নারীকে “বসবাসের অধিকার” দেওয়ার। অর্থাৎ স্বামী চাইলেও স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারবে না। শুনতে খুব ভালো। কিন্তু বাস্তবতা কী? বাড়িটা যদি স্বামীর বাপের নামে থাকে, অথবা স্বামীর একার নামে কেনা ফ্ল্যাট হয়, তাহলে আদালতের আদেশ নিয়ে স্ত্রী কোথায় থাকবে? দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিলে পুলিশ ডাকা ছাড়া উপায় নাই। আর পুলিশের কাছে যাওয়া মানেই পাড়ার লোকে বলবে “বউটা স্বামীকে জেলে দিয়েছে”। তখন মেয়েটা নিজেই পিছিয়ে যায়। কারণ তার মাথার উপর নিজের ছাদ নাই।
সম্পত্তির হিসাব আরও কঠিন। বাংলাদেশের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ অনুযায়ী মেয়েরা বাপের সম্পত্তিতে ছেলের অর্ধেক পায়।বাংলাদেশের হিন্দু উত্তরাধিকার আইন ২০০৫ সালে সংশোধনের পর হিন্দু মেয়েরা বাপের সম্পত্তিতে ছেলের সমান ভাগ পায়। কাগজে-কলমে সব ঠিক। জনার্দনের বউ কি তার বাপের বাড়ি থেকে ভাগ চেয়েছে? চায়নি। কেন চাইবে? ভাই বলবে “বোন এসে ঝামেলা করছে”। সমাজ বলবে “লোভী”। শ্বশুরবাড়িতে? সেখানেওতো তার নামে এক কাঠা জমিও নাই। দলিলে নাম নাই, খাজনায় নাম নাই। তাই স্বামী জনার্দন যখন চিৎকার করে বলে “এটা আমার বাপের ভিটা”, তখন তার স্ত্রীর গলা দিয়ে শব্দ বের হয় না। ২০০৩ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ ধারায় যৌতুকের জন্য নির্যাতনের কথা আছে। কিন্তু যৌতুক দিতে না পারায় যে মেয়েটাকে রোজ “বাপের বাড়ি যা” বলা হয়, তাকে আটকানোর জন্য আলাদা কোনো সম্পত্তি আইন আমাদের নাই।
এই গল্প শুধু বাংলাদেশের না। ভারতের কেরালার লক্ষ্মীর কথা ধরুন। ২০১২ সাল। বিয়ের ৮ বছর পর স্বামী মদ খেয়ে মারধর শুরু করলো। লক্ষ্মী থানায় গেলো। পুলিশ বললো, “সংসার ভাঙবেন না”। সে বাপের বাড়ি ফিরলো। বাপের বাড়িতে জায়গা নাই। ভাইয়ের বউ বললো “তোমার জন্য আলাদা ঘর নাই”। শেষে সে রেলস্টেশনে ৩ মাস থেকেছে। পরে ভারতের ২০০৫ সালের “Protection of Women from Domestic Violence Act” এর ১৭ ধারার বলে আদালত তাকে “shared household” এ ফেরার অধিকার দেয়। কিন্তু ততদিনে তার চাকরি চলে গেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে Satish Chandra Ahuja বনাম Sneha Ahuja মামলায় পরিষ্কার বলেছে, বাড়ি স্বামীর বাপের নামে হলেও স্ত্রীকে উচ্ছেদ করা যাবে না। কারণ নারীর বসবাসের অধিকার মৌলিক। কিন্তু আইন থাকলেও গ্রামের লক্ষ্মীরা সেই আইন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে না।
পাকিস্তানে ২০১২ সালের “Domestic Violence Prevention and Protection Act” আছে। সেখানে ১০ ধারায় “residence order” এর কথা আছে। কিন্তু লাহোরের আয়েশার ঘটনা দেখুন। স্বামী তাকে আর দুই সন্তানকে রাত ১২টায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আয়েশা নিকটাত্মীয়ের বাসায় ৬ মাস ছিল। মামলা করতে গিয়ে উকিল ফি দিতে পারেনি। শেষে এক এনজিওর সাহায্যে কেস করে। ২ বছর পর রায় পেল। কিন্তু এর মধ্যে ছেলেটা স্কুল ছেড়ে দিয়েছে।
যুক্তরাজ্যে ১৯৯৬ সালের “Family Law Act” আছে। সেখানে “Home Rights” নামে একটা অধিকার আছে। বিয়ে করলেই স্বামী-স্ত্রী দুইজনই বৈবাহিক বাড়িতে থাকার অধিকার পায়। নাম যারই থাকুক। আদালত “Occupation Order” দিয়ে প্রয়োজনে স্বামীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে স্ত্রীকে রাখতে পারে। ২০১৮ সালে লন্ডনের সোফিয়ার কেসটা বিখ্যাত। স্বামী ফ্ল্যাটের একমাত্র মালিক ছিল। সোফিয়াকে মারধর করতো। আদালত ৬ মাসের জন্য স্বামীকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে সোফিয়া আর বাচ্চাদের থাকার অনুমতি দেয়। কারণ আইন বলে নিরাপত্তা আগে, মালিকানা পরে।
আমেরিকায় স্টেট ভেদে আইন আলাদা। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাসের মতো ৯টা স্টেটে “Community Property Law” আছে। বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যা আয় করে বা কেনে তার অর্ধেক অর্ধেক। ডিভোর্স হলে বাড়ি দুই ভাগ। নিউইয়র্কে “Equitable Distribution”। আদালত দেখে কে কত অবদান রেখেছে। গৃহিণীর রান্না, বাচ্চা পালাও অবদান হিসেবে ধরা হয়। ২০১৫ সালে নিউইয়র্কের মারিয়ার ডিভোর্স কেসে আদালত ২০ বছরের গৃহিণীকে বাড়ির ৫০ শতাংশ দিয়েছিল। কারণ বিচারক বলেছিলেন “তার শ্রম ছাড়া বাড়িটা বাড়ি হতো না”।
সুইডেনে রাষ্ট্র নিজেই নারীর আবাসন নিশ্চিত করে। “Bostadsbidrag” মানে হাউজিং ভাতা। একা মা হলে সরকার ভাড়ার ৭০ শতাংশ দেয়। ফলে কোনো নারীকে “মার খেয়েও থাকতে হবে” এমন বাধ্যবাধকতা নাই। ২০১৯ সালে স্টকহোমের এক জরিপে দেখা গেছে, সুইডেনে পারিবারিক সহিংসতায় আক্রান্ত নারীদের ৮৫ শতাংশ ১ সপ্তাহের মধ্যে আলাদা বাসায় উঠতে পেরেছে। কারণ রাষ্ট্রের কাছে তার নিজের ঠিকানা আছে।
বাংলাদেশে সরকার “আশ্রয়ণ প্রকল্প” করছে। গৃহহীনদের ঘর দিচ্ছে। খুব ভালো উদ্যোগ। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গিয়ে দেখা যায় ১০টা ঘরের মধ্যে ৯টার দলিল স্বামীর নামে। কারণ ব্যাংক লোন, ইউনিয়ন পরিষদের কাগজ, দৌঁড়াদৌঁড়ি সব স্বামী করে। বউ সাইন করে “স্বাক্ষী” হিসেবে। ফলে ঘর হলো, কিন্তু মালিকানা হলো না। ২০২১ সালে রংপুরের পীরগঞ্জে একটা ঘটনা পত্রিকায় এসেছিল। আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পাওয়ার ৬ মাস পর স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করে প্রথম বউকে ঘর থেকে বের করে দেয়। প্রথম বউয়ের নামে দলিল নাই। সে আজও ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা অফিসে ঘুরছে।
শহরের মধ্যবিত্তদের চিত্র আলাদা না। গুলশানের এক ফ্ল্যাট। দাম ২ কোটি। স্বামীর বাবার টাকায় কেনা। বউ শিক্ষিত, চাকরি করে। ঝগড়া হলে স্বামী বলে “এই ফ্ল্যাট আমার বাবার। ভালো না লাগলে তোমার বাপের বাড়ি যাও”। বউয়ের বাপের বাড়ি চট্টগ্রাম। সেখানে গিয়ে সে কী করবে? চাকরি ছাড়তে হবে, বাচ্চার স্কুল বদলাতে হবে। তাই সে মুখ বন্ধ করে থাকে। এটা “সংসার” নাকি “অদৃশ্য বন্দিত্ব”?
অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন “বাড়ি আর জমি হলো নারীর bargaining power”। যার নিজের সম্পত্তি আছে সে “না” বলতে পারে। যার নাই সে মুখ বুজে সহ্য করে। বিশ্বব্যাংকের ২০২০ সালের “Women, Business and the Law” রিপোর্টে দেখা গেছে যেসব দেশে নারীর নামে সম্পত্তির নিবন্ধন ৫০ শতাংশের বেশি, সেসব দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা ৪০ শতাংশ কম। কারণ নারী জানে তার বিকল্প আছে। সে রাস্তায় বসবে না।
জাতিসংঘের SDG 5 এর লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। আর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রথম ধাপ হলো মাথার উপর ছাদ। সেই ছাদের কাগজে নিজের নাম। CEDAW সনদের ১৬ ধারায় বলা আছে বিয়ের সময় এবং বিয়ে ভাঙার সময় নারী-পুরুষের সম্পত্তির সমান অধিকার থাকতে হবে। বাংলাদেশ CEDAW তে সই করেছে। কিন্তু বাস্তবায়ন কই?
সমস্যার সমাধান করতে হলে প্রথমে আইন সংশোধন করতে হবে। বাংলাদেশের ২০১০ সালের পারিবারিক সহিংসতা আইনের ১৮ ধারায় “বসবাসের আদেশ” আছে। একে আরও স্পষ্ট করতে হবে। ভারতের মতো “shared household” এর সংজ্ঞা দিতে হবে। আদালত যেন শুধু “থাকতে দাও” না বলে, “নামের অংশ দাও” বলতে পারে। প্রয়োজনে “Women’s Property Rights Act” নামে আলাদা আইন দরকার।
দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ সরকারের সব আবাসন প্রকল্পে বাধ্যতামূলকভাবে স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে দলিল করতে হবে। ব্যাংক লোনের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম। ২০২৩ সালে ভারতের গুজরাট সরকার এই নিয়ম করেছে। ফলে সেখানে নারীর নামে বাড়ির নিবন্ধন ৩৫ শতাংশ বেড়েছে।
তৃতীয়ত উত্তরাধিকারের দিকটা বিবেচনা করতে হবে। মুসলিম মেয়েরা যে অর্ধেক ভাগ পায় তা আদায়ের জন্য প্রতিটি জেলায় “নারী সম্পত্তি সহায়তা সেল” দরকার। বিনা ফিতে আইনি পরামর্শ, দলিল লেখা। হিন্দু আইনের ২০০৫ এর সংশোধনীতে কন্যা সন্তান পুত্র সন্তানের মতো সমান ভাগ পায় তা এখনও গ্রামের অনেক মেয়ে জানে না। তাদের জানাতে হবে।
চতুর্থত কাবিননামা। বর্তমানে কাবিননামার ১৮ নম্বর কলামে স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর পাশে ১৯ নম্বর কলামে “গৃহ-নিরাপত্তা” যুক্ত করা যেতে পারে। যেখানে লেখা থাকবে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রী যে বাসায় থাকবে তার অংশীদারিত্ব কতটুকু স্ত্রী পাবে।
পঞ্চমত সামাজিক। মেয়ের মা-খালাদের বোঝাতে হবে “মেয়েকে বিয়ের সময় ফার্নিচার না দিয়ে, একটা জমি দাও”। মেয়েদেরও বোঝাতে হবে “বেতন পেলেই শুধু শাড়ি না, ব্যাংকে জমাও”।
নেপাল ২০০২ সালে “Country Code” সংশোধন করে মেয়েদের বাপের সম্পত্তিতে সমান অধিকার দেয়। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর সরকার পুনর্বাসনের ঘর দেওয়ার সময় শর্ত দেয় দলিল স্বামী-স্ত্রীর যৌথ নামে হতে হবে। ফলে ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে নেপালে নারীর নামে সম্পত্তি ২ শতাংশ বেড়েছে।
রুয়ান্ডার ১৯৯৪ সালের গণহত্যার পর দেশের অর্ধেক পুরুষ মারা যায়। তখন নারীরা জমির মালিক হয়। ১৯৯৯ সালে “Matrimonial Property Law” পাশ হয়। সেখানে বলা হয় বিয়ের পর অর্জিত সব সম্পত্তি দুইজনের। ফলে রুয়ান্ডায় এখন আফ্রিকার মধ্যে নারী সংসদ সদস্য সবচেয়ে বেশি। কারণ নারীর অর্থনৈতিক ভিত্তি আছে।
শাহপুর গ্রামের জনার্দনের মেয়েটার কথা ভাবুন। তার বয়স এখন ১২। বাবা তাকে স্কুল থেকে তুলে নিতে চায়। মেয়েটা বড় হয়ে বিয়ে করবে। সেও কি একদিন শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শুনবে “এটা আমার বাপের ভিটা”? নাকি আমরা এখনই তার নামে একটা সঞ্চয়পত্র, একটা জমির দলিল করে রাখা উচিত?
আমরা মেয়েদের ছোটবেলা থেকে শেখাই “স্যাক্রিফাইস”। “মানিয়ে নাও”। “সব মেয়েকেই সহ্য করতে হয়”। এই বুলি বন্ধ করতে হবে। বরং শেখাতে হবে “তোমার নামে একটা ব্যাংক একাউন্ট রাখো”। “বিয়ের আগে নিজের পায়ে দাঁড়াও”। “বিয়ের কাগজে নিজের অধিকার বুঝে নাও”।
রাষ্ট্রের উচিত প্রতিটি ইউনিয়নে “নারী আইনি সহায়তা কেন্দ্র” করা। যেখানে আইনজীবী, পুলিশ, দলিল লেখক একসাথে থাকবে। নারীরা বিনা খরচে পরামর্শ পাবে। আদালতের উচিত ৩০ দিনের মধ্যে “বসবাসের আদেশ” দেওয়া। মিডিয়ার উচিত “পরের বাড়ির মেয়ে” এই শব্দটা ব্যবহার বন্ধ করা।
শেষে আবার জনার্দনের উঠানে ফিরি। সে গণ্ডি কেটেছিল। কিন্তু আমরা যদি আইন দিয়ে, অর্থ দিয়ে, শিক্ষা দিয়ে সেই গণ্ডি মুছে দিতে পারি, তাহলে আর কোনো বউকে ছেলের হাত ধরে রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না। সে বলতে পারবে “এই বাড়ি আমারও। আমি এখানে মাথা উঁচু করে থাকব”।
মেয়েদের একটা বাড়ি থাকা আবশ্যক। কারণ বাড়ি মানে শুধু ইট-সিমেন্ট না। বাড়ি মানে নিরাপত্তা। বাড়ি মানে আত্মসম্মান। বাড়ি মানে “আমি আছি” বলার জায়গা। যে মেয়ের নিজের বাড়ি নাই, সে যত বড় ডিগ্রিই নিক, যত বড় চাকরিই করুক, সমাজের চোখে সে এখনও ভাড়াটে। আর ভাড়াটেকে যখন তখন “উঠে যাও” বলা যায়।
সমাজে মেয়েদের ভাড়াটে না, মালিক বানাতে হবে। সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদকে কাগজ থেকে ঘরে আনি। ভারতের ১৭ ধারা, ব্রিটেনের Home Rights, আমেরিকার Community Property — এগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের আইন শক্ত করি। আজই নিজের পরিবার থেকে শুরু করি। মেয়ের জন্মদিনে একটা সেভিংস একাউন্ট, বিয়ের সময় একটা জমি, সংসারে যৌথ নামের দলিল তার হাতে তুলে দিতে হবে।।
তাহলে আর কোনো জনার্দন লাঠি উঁচু করার সাহস পাবে না। আর কোনো গণ্ডি কাটা হবে না। কারণ প্রতিটি মেয়ে জানবে আমার যাওয়ার জায়গা আছে। আমার নিজের বাড়ি আছে নিজের নামে, নিজের অধিকারে।



আপনার মতামত লিখুন