খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদে সয়লাব, তীরের মুখে ঈমাম হোসেন

কে এম রাজিব
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র’র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সংবাদে সয়লাব, তীরের মুখে ঈমাম হোসেন

চট্টগ্রামে অনিয়ম-দুর্নীতি এবং জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের টাকা আত্মসাতসহ কয়েকটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক, আওয়ামী লীগ সরকার আমলের বিশেষ সুবিধাভোগী বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন ও বর্তমান জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকাসহ বিভিন্ন অনলাইন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়ে সয়লাবে পরিনত হয়েছে। যার ফলে তীরের মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার মো. ঈমাম হোসেন।

 

সূত্রে জানা যায়, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনিয়ম,জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহা করে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্নসাৎ করায় সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে কেন্দ্রের পুরো সম্প্রচার ব্যবস্থা। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলব, মন্ত্রণালয়ের তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগ এবং ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের প্রমাণ থাকার পরও বহাল তবিয়তে থেকে কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইন (ওরফে ইলন সফির) এর প্রত্যক্ষ মদদে গঠিত ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’ এর কবলে পড়ে স্থবির হয়ে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এই সম্প্রচার মাধ্যমটি। যার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চলতি দায়িত্ব) মো: ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো: সফির হোসাইনের নেতৃত্বে তাদের সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভূয়া বাজেট ও বিল ভাউচারের মাধ্যমে চরমভাবে লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজসে সফির হোসাইন নির্বাহী প্রযোজক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের আইন লঙ্ঘন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে লক্ষ-লক্ষ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করাও অভিযোগ উঠে।

 

 

সূত্রে জানা যায় , “ইতিহাসের এই দিনে” শিরোনামে ২ মিনিটের একটি গ্রাফিক্স কার্ড ২৯ বার পুনঃপ্রচার দেখিয়ে ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রাফিক্স কার্ড বারবার প্রচার করা হলেও ভ্রমণের নামে চার মাসে উত্তোলন করেছেন ৭ লাখ ২৩ হাজার টাকা। সম্প্রতি তদন্তে এর সত্যতা পাওয়া গেলেও রহস্যজনক কারণে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তা রোমানা শারমিনকে দিনের পর দিন ছুটি দেখিয়ে চার মাসে শিল্পী সম্মানীর নামে ৬০ লাখ ৫৮ হাজার ৩৪৬ অনৈতিকভাবে উত্তোলনের ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে। একাধিক শিল্পী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সিন্ডিকেট শিল্পী সম্মানীর লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচার দেখিয়ে পুননির্মাণের নামে ভুয়া বাজেট তুলছে দুর্নীতিবাজ চক্র। ভালো উপস্থাপকদের ফ্লোর দেওয়া হয় না অথচ অনৈতিক সুবিধা নিয়ে অনভিজ্ঞদের বিশেষ সুবিধা দিচ্ছেন জিএম ঈমাম হোসাইন। অভিযোগে আরও জানা যায়, লেদার টেকনোলজি ইনস্টিটিউট, ঢাকা শাখার ছাত্রলীগের সাবেক গবেষণা সম্পাদক মো. সফির হোসাইন ২০১৫ সালে ‘প্রযোজক (গ্রেড-২)’ হিসেবে বিটিভিতে যোগদান করেন।যোগদানের পর থেকেই তিনি শিল্পী, কলাকুশলী ও সহকর্মীদের সঙ্গে ছলচাতুরি, অসদাচরণ এবং দুর্নীতিতে জড়াতে থাকেন। সুযোগ বুঝে তৎকালীন প্রযোজক ও এইচডিটিভির পিডি মাহফুজা আক্তারের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নামে বেনামে কোটি টাকা উত্তোলনে অংশ নেন। এসব অর্থ দিয়ে সফির হোসাইন চাকরির তিন বছরের মাথায় গাজীপুরে ৬ একর জমি, দামি গাড়ি এবং রাজধানীর হাতিরঝিলে ২৬০০ বর্গফুটের বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ক্রয় করেন। ২০২২ সালে তাঁকে নির্বাহী প্রযোজক পদে পদোন্নতি দিয়ে ঢাকায় পদায়ন করলেও যোগদান না করে গোপনে চট্টগ্রামে থেকে যান। মাহফুজা আক্তারের সহযোগিতায় ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে ৫৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এ কারণে ২০২৩ সালের ২ মে তাঁকে শাস্তি দেওয়া হয় এবং আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধারে ব্যবস্থা নেয়। মাহফুজা আক্তারের ২১ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সফির হোসাইনকে ২০২৪ সালের ২০ সেপ্টেম্বর দুদক তলব করে। জালিয়াতির মাধ্যমে শিল্পীদের ৪ কোটি টাকা আত্মসাতসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলেও বহাল তবিয়তে আছেন মো. সফির হোসাইন ওরফে ইলন সফির। ফলে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র বর্তমানে লুটপাটের উন্মুক্ত অঙ্গনে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (চ. দা.) মো. ঈমাম হোসাইন এবং নির্বাহী প্রযোজক মো. সফির হোসাইনের নেতৃত্বে ‘হোসাইন সিন্ডিকেট’-এর সদস্যরা জুলাই অভ্যুত্থান অনুষ্ঠানের নামে ভুয়া বাজেট ও বিল-ভাউচারের মাধ্যমে ব্যাপক লুটপাট চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি ঈমাম হোসাইনের যোগসাজশে নির্বাহী প্রযোজক হয়েও সরকারের আইন ভঙ্গ করে ভুয়া প্রোগ্রাম ম্যানেজার সেজে বিপুল অঙ্কের টাকা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করছেন সফির হোসাইন।
বিটিভির প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জালিয়াতি, ছলচাতুরি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিল্পীদের কোটি টাকা আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিটিভির মহাপরিচালককে নির্দেশ দেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। এবিষয়ে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদস্ত কমিটির আহবায় অনুষ্ঠান ও পরিকল্পনা বিভাগের পরিচালক মো. আজগর আলী।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।