খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

এক মাসে নিহত ১০

পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক এখন মরণফাঁদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪, ২:০৪ অপরাহ্ণ
পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক এখন মরণফাঁদ

গত এক মাসে ঢাকার পূর্বাচলে ৩০০ ফিট সড়কে দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে নিহত হয়েছেন বুয়েটশিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদসহ আরও ৫ জন। বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালানোই এসব মৃত্যুর প্রধান কারণ বলে দাবি প্রশাসনের। তবে স্থানীয়রা বলছেন, সড়কে পুলিশের পর্যাপ্ত চেকপোস্ট ও প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় বেশি রাত পর্যন্ত পূর্বাচলে নীলা মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার খোলা থাকে। এসময় রাজধানীসহ আশেপাশের কিশোররা মাতাল অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে সড়কে প্রতিযোগিতা করে গাড়ি চালায়। এতে দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারাচ্ছে মানুষ। দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে রাত গভীর হওয়ার আগেই এসব বাজারের দোকানপাট বন্ধ ও সড়কে প্রশাসনের বিশেষ নজর দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে রাত ১১টার মধ্যে পূর্বাচলের নীলা মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা দোকানপাট বন্ধের ও আরও চেকপোস্ট বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরিকল্পনা নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের দৃষ্টিনন্দন কাঞ্চন-কুড়িল বিশ্বরোড (৩০০ ফিট) সড়ক এখন ভয়ংকর মৃত্যুফাঁদের সড়কে পরিণত হয়েছে। এ সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।

রূপগঞ্জ থানা পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শুধু ডিসেম্বর মাসেই এ সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণ হারিয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। এর মধ্যে শুধু ৭ দিনের মধ্যে মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে গত ৮ ডিসেম্বর সড়কের সুলফিনা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও ১ চালক। ৯ ডিসেম্বর সড়কের কাদিরারটেক এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পিকআপ উল্টে মারা যান ১ চালক। ১৪ ডিসেম্বর সড়কের কাদিরারটেক এলাকায় পিকআপভ্যানের ধাক্কায় নিহত হন অটোরিকশা চালক শাকিল মিয়া। আহত হন অটোরিকশার যাত্রী আরও ৪ জন।

গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর কাফরুল থেকে আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র শাইনুর রশিদ কাব্য তার বন্ধু ভাষানটেক সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সুজানাকে নিয়ে ঘুরতে আসে পূর্বাচলের এ সড়কে। ওইদিন রাতেই সড়কের বউরারটেক এলাকায় ৪ নম্বর সেতুর নিচে লেকের পানিতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। ১৭ তারিখে প্রথমে কলেজ শিক্ষার্থী সুজানার মরদেহ ও ১৮ তারিখে উদ্ধার করা হয় স্কুল ছাত্র কাব্যের মরদেহ। উদ্ধার করা হয় কাব্যর মোটরসাইকেলটি। ১৮ ডিসেম্বর সড়কে সুলফিনা ভূঁইয়াবাড়ি ব্রিজে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের সাথে ধাক্কা লেগে ঘটনাস্থলে মারা যান আব্দুর রউফ ও সিপন নামে ২ ব্যবসায়ী।

সর্বশেষ গত ১৯ ডিসেম্বর রাত ৩টার দিকে পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের বালু ব্রিজের পূর্বপাশে চেকপোস্টে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থামালে পিছন দিক থেকে বেপরোয়া গতির প্রাইভেটকার চাপা দেয় বুয়েটশিক্ষার্থী মোহতাসিম মাসুদকে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় ওই শিক্ষার্থী। এসময় গুরুতর আহত হয় আরও ২ ছাত্র। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনার পর বুয়েটশিক্ষার্থীরা রূপগঞ্জ থানায় অবস্থান নিয়ে অভিযুক্ত ৩ জনের শাস্তির দাবি জানায়। পরে নিহত মোহতাসিম মাসুদের পিতা এ ঘটনায় বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বাচলকেন্দ্রিক গড়ে উঠা নীলা মার্কেট ও বিভিন্ন সেক্টরে গভীর রাত অবধি দোকানপাট খোলা থাকার কারণে সন্ধ্যা হলেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও ধনাঢ্য ব্যক্তির সন্তানেরা এ সড়কে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালাতে আসে। এ কারণে বেশিরভাগ সময়ে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এসব দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটছে। অনেক সময় মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে আগে যে কয়টি চেকপোস্ট ছিল সেগুলোর সবকটি এখন তেমন দেখা যায়। তাছাড়া পূর্বাচলে গড়ে উঠা দোকানপাট খোলা রাখার নির্দিষ্ট সময় বেধে দিলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমবে বলে দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) উবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়কটি অনেক প্রশস্ত থাকায় সড়কে কিশোর বয়সী ছেলেরা এখানে মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার বেপরোয়া গতিতে প্রতিযোগিতা নিয়ে চালায়। সেকারণে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ী দুর্ঘটনার কবলে পড়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। জেলা প্রশাসকের সাথে আমরা কথা বলেছি। পূর্বাচলে নীলা মার্কেট সহ যেসকল বাজার গড়ে উঠেছে সেগুলো রাত ১১টার সময় বন্ধ করার জন্য পরিকল্পনা রয়েছে। তাছাড়া সড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ি চালানো বন্ধ ও যেকোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান চালানো হবে।

তিনি আরও বলেন, সড়কে দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আরও বেশি চেকপোস্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল আরও জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে প্রশাসনের পাশাপাশি সন্তানদের বেপরোয়া চলাফেরার দিকের অভিভাবকদের বিশেষ খেয়াল রাখার জন্য অনুরোধ করে তিনি। অপরদিকে পূর্বাচল কেন্দ্রিক দোকানপাট গভীররাত পর্যন্ত যেন খোলা না থাকে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।