খুঁজুন
সোমবার, ২ নভেম্বর, ২০২৬, ১৭ কার্তিক, ১৪৩৩

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু

বিশেষ প্রতিনিধি: দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। উভয় দেশ ২০২৭ সালের মধ্যে একটি আধুনিক, ভারসাম্যপূর্ণ ও পারস্পরিক স্বার্থসম্মত চুক্তি চূড়ান্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

মঙ্গলবার  রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে তিন দিনব্যাপী প্রথম দফার আলোচনা উদ্বোধন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের প্রধান ও দেশটির চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীনসহ উভয় দেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অধিবেশনে আলোচনার রূপরেখা ও কার্যপরিধি নির্ধারণে ‘টার্মস অব রেফারেন্স (টিওআর) স্বাক্ষরিত হয়।

বাণিজ্য সচিব বলেন, ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব, অভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্য সম্পর্ক আশাব্যঞ্জক হলেও বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বহুমুখীকরণের বিপুল সম্ভাবনা এখনো কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি।

মালয়েশিয়া সফরকালে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এর সাথে ২০২৭ সালের মধ্যে একটি টেকসই ও পারস্পরিক স্বার্থরক্ষাকারী মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করার বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রথম দফার আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হলো।

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে এফটিএ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থল হিসেবে বাংলাদেশ মালয়েশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য সম্ভাবনাময় বাজার। হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতে দক্ষতা উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য, লজিস্টিকস এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এ সময় আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট ‘রিজিওনাল কম্প্রিহেন্সিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ’ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের যোগদানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

মালয়েশিয়ার চিফ নেগোশিয়েটর ড. রশিদি সাইদ বলেন, প্রস্তাবিত এফটিএ কেবল শুল্ক হ্রাসের চুক্তি নয়; বরং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি ও সুষম অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠার কৌশলগত উদ্যোগ। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চুক্তি কার্যকর হলে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।

 

তিনি পারস্পরিক সমঝোতা, নমনীয়তা ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে ২০২৭ সালের মধ্যে আলোচনা সম্পন্ন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন বাংলাদেশ সফর এ প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশের চিফ নেগোশিয়েটর খাদিজা নাজনীন বলেন, এফটিএ কার্যকর হলে উভয় দেশের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ হবে, বাণিজ্য বাধা কমবে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্য কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য হবে।

আলোচনায় পণ্য ও সেবা বাণিজ্য, রুলস অব অরিজিন (পণ্যের উৎপত্তিবিধি) এবং শুল্ক প্রক্রিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পারস্পরিক স্বার্থ সংরক্ষণ করে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।উভয় দেশের প্রতিনিধিরা গঠনমূলক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নমনীয়তার ভিত্তিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে পৌঁছানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রথম দফার আলোচনা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে।

সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

মোস্তাফিজুর রহমান রানা
প্রকাশিত: রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
সিরাজগঞ্জে ৬৫ চরমপন্থীর আত্মসমর্পণ, পুনর্বাসনে সহযোগিতার আহ্বান রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির

“নতুন পথে প্রত্যাবর্তন”স্লোগানে সিরাজগঞ্জে সর্বহারা চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার এসআরবি-১২ এর সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সিরাজগঞ্জ, পাবনা ও রাজবাড়ী জেলার মোট ৬৫ জন চরমপন্থী অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয়ে আত্মসমর্পণ করেন।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলার ৭ জন, পাবনা জেলার ৪৫ জন এবং রাজবাড়ী জেলার ১৩ জন রয়েছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম খান আলীম, এসআরবি ফোর্সেসের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত আইজিপি মোঃআহসান হাবীব পলাশ, বিপিএম-সেবা এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোঃআশিক সাঈদ, পিপিএম।

অনুষ্ঠানে ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন,চরমপন্থার পথ পরিহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা একটি ইতিবাচক ও সাহসী পদক্ষেপ। আত্মসমর্পণকারীদের অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে হবে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে অপরাধের পথ পরিহার করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আত্মসমর্পণকারীদের পুনর্বাসনে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় এসআরবি ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার জেলা প্রশাসক, সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ এসআরবি ফোর্সেসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।