খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে চা শিল্পের ওপর

লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কমেছে ৯৯ লক্ষ কেজি

সৈয়দ আখলাক উদ্দিন মনসুর, শায়েস্তাগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ২:৩১ অপরাহ্ণ
লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন কমেছে ৯৯ লক্ষ কেজি

দেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ছে চা শিল্পের উপর। ২০২৪ সালে চায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১০ কোটি ৮০ লক্ষ কেজি। কিন্তু চায়ের মোট উৎপাদন হয়েছে ৮ কোটি ৩০ লক্ষ ৪২ হাজার কেজি। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বাংলাদেশ উৎপাদন কমেছে ৯৯ লক্ষ কেজি চা। কোনো বছর লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে বেশি, আবার কোনো বছর লক্ষ্যমাত্রা ঘরে পৌছতে পারেনি চায়ের মোট উৎপাদন। চা বাগান গুলো শ্রমিক অসন্তোষ , উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় কারণে দেশে এবার চায়ের উৎপাদন অনেক কমে গেছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে চায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ১০ কোটি ৮০ লক্ষ কেজি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে উৎপাদন কমেছে ৯৯ লক্ষ কেজি চা। ২০২৩ সালে ১০ কোটি ২০ লক্ষ কেজি চা উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জিত হয়েছিল ১০ কোটি ২৯ লক্ষ ১৮ হাজার কেজি চা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা চেয়ে ৯ লক্ষ ১৮ হাজার কেজি চা বেশি। ২০২২ সালে চা এর লক্ষ্যমাত্রা ১০ কোটি কেজি চা ধরা হলেও উৎপাদন হয়ে ছিল ৯ কোটি ৩৮ লক্ষ কেজি চা। হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে দেউন্দি টি কোম্পানি সহ অন্যান্য চা বাগান সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, দেশে চায়ের কেজি প্রতি গড় উৎপাদন খরচ হয় ২২০-২৪০ টাকা। বাজারে নিলাম বর্তমানে লেনদেন হচ্ছে গড়ে ২০০-২২০ টাকা। কয়েক বছর ধরে টানা লোকসানের ফলে উৎপাদন কামিয়ে দিচ্ছেন চা বাগান কোম্পানি মালিকরা। ফলে সার্বিক চা উৎপাদন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কমেছে। এছাড়াও বিরূপ আবহাওয়া, শ্রমিক অসন্তোষ ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাওয়া এবং নিলামে চায়ের কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় কারণে এবার চা উৎপাদনে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায় নি। বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য মতে, ক্ষুদ্রায়তনের বাগান দেশের ১৬৯ চা বাগানে ২০২৪ সালে জানুয়ারি মাস থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত অর্জিত ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।

এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১৭ লাখ ৫০ হাজার, ফেব্রুয়ারি মাসে ৪ লাখ ২০ হাজার, মার্চ মাসে ১৫ লাখ ৯৩ হাজার, এপ্রিল মাসে ৪৮ লাখ ৮২ হাজার, মে মাসে ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার, জুন মাসে ১ কোটি ২৮ লাখ ২৪ হাজার, জুলাই মাসে ১ কোটি ১৪ লাখ ৩৫ হাজার, আগষ্ট মাসে ১ কোটি ৩৮ লাখ ৬ হাজার, সেপ্টেম্বর মাসে ১ কোটি ২২ লাখ ১৭ হাজার, অক্টোবর মাসে ১ কোটি ৪৯ লাখ ২৩ হাজার, নভেম্বর মাসে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার, ডিসেম্বর মাসে ৬৩ লাখ ৭৮ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। এদিকে হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ক্ষুদ্রায়তনের বান্দরবন, খাগড়াছড়ি এবং পনচগড় জেলা মিলে ৫৯ হাজার ১৮ হেক্টর জমিতে ১৬৯টি চা বাগানে উৎপাদন হয়। তবে হবিগঞ্জ জেলায় চায়ের জন্য বিখ্যাত। এ জেলায় মোট চা বাগান ১৪টি এবং জমির পরিমাণ ১৫ হাজার ৭০৩.২৪ হেক্টর। মৌলভীবাজার জেলায় চা বাগানের মোট ৯০টি এবং চা চাষের ভূমির পরিমাণ ৩৩ হাজার ১৬০ হেক্টর। সিলেট জেলায় চা বাগান মোট ২০টি এবং চা বাগানের মোট জমির পরিমাণ ২৮০২০.৭৬ একর মধ্যে বছরে উৎপাদন চায়ের পরিমাণ ১৮ হাজার ২৫২ কেজি (প্রায়)। চা বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন  বাংলাদেশ চা সংসদ (বিটিএ) এর সিলেট ব্রানচ চেয়ারম্যান এবং অভিজ্ঞ টিপ্লান্টার জি এম শিবলী বলেন, এবার চা বাগানে গ্রীষমকালে তীব্র খর বয়ে গেছে। এছাড়া সার, সেচ, কীটনাশক এর মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচের কম মূল্যে চা বিক্রি। এসব কারণে দেশে চায়ের উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া জাতীয় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ১০ ভাগ অবদান রাখা ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) চা বাগান গুলোতে বকেয়া বেতন আদায়ের দাবিতে দীর্ঘ সময় জুড়ে শ্রমিক ধর্মঘট চলায় বাগান গুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ গুলোই উৎপাদন লক্ষ্যে মাত্রায় এর প্রভাব পড়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের বৃহত্তম চা কোম্পানি ফিনলে চা বাগান গুলোতে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮ ভাগ চা কম অর্জিত হয়েছে। সরকারি ভাবে চায়ের দাম ১৬০ টাকা ধরে নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অন্যান্য চা বাগান মালিকদের এক কেজি চা তৈরিতে খরচ পড়ে ২০০ থেকে ২২০ টাকা। সেখানে নিলামে চা বিক্রি করতে হয় ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে। এতে করে চা উৎপাদনে প্রতিটি বাগান মালিকরা কিছুটা হলেও আগ্রহ হারাচ্ছে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।