খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

নাফ নদ ও সাগরে যেতে ভয় জেলেদের

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ১:০৭ অপরাহ্ণ
নাফ নদ ও সাগরে যেতে ভয় জেলেদের

মিয়ানমারের রাখাইনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি গত এক সপ্তাহে রোহিঙ্গাসহ বাংলাদেশের ২৩ জেলেকে জিম্মি করে ধরে নিয়ে গেছে। এতে আতঙ্কে রয়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের জেলেরা। নাফ নদ ও সংলগ্ন সাগরে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছেন তারা। ঘাটে নৌযান নোঙর করে রেখেছেন অনেকে। দুঃচিন্তা বেড়েছে মাছ শিকারে যেতে না পারা ও জিম্মি জেলে পরিবারের সদস্যদের মাঝে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, একের পর এক জেলে অপহরণের ঘটনায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার নাফ নদ সীমান্ত ঘেঁষা শাহপরীর দ্বীপের জেলেদের মাঝে ভীতি কাজ করছে। অনেকে অপহরণের ভয়ে নাফ নদ ও সাগরে নামছেন না। দ্বীপের জেটি ঘাট, মিস্ত্রিপাড়া ঘাট, দক্ষিণ পাড়া ঘাট ও পশ্চিম পাড়া ঘাটে সারি সারি নৌকা ও ট্রলার নোঙর করে রাখা হয়েছে। এসব ঘাটে ছোট-বড় মিলিয়ে কয়েকশ মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা রয়েছে। অন্যদিকে অপহরণের শিকার পরিবারের সদস্য কাঁদছেন। আবার অনেকে প্রিয়জনের জন্য নাফ নদ ও সাগর পাড়ে অপেক্ষা করছেন।

চোখের পানি মুছতে মুছতে তিনি বলেন, ‘অনলাইনে কাপড় অর্ডার দিয়েছিল সে। সেটার টাকার জোগাড় করতে সাগরে মাছ শিকারে যায় শ্রমিক হিসেবে। তার খুব শখ ঈদে অনলাইনের কাপড় পরবে। কিন্তু সে কি আর ফিরবে না? দ্রুত তাদের ফেরত আনার উদ্যোগ নিতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।

আনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস আব্দুর রহমান। একদিন পার হয়ে গেছে, মিয়ানমার তাদের এখনও ছেড়ে দেয়নি। প্রায় সময় বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যায় মিয়ানমার। কিন্তু এটির কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা খুব আতঙ্কে আছি সে দেশের আরাকান আর্মি তাদের এখনও ছেড়ে দেয়নি।’

নৌঘাটের জেলেরা জানান, মাদকের পাশাপাশি রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ রোধে নাফ নদে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮ বছর পর জেলেদের শর্ত দিয়ে তিন মাসের জন্য নাফ নদে মাছ শিকারে অনুমতি দেওয়া হয়। এতে জেলেদের মাঝে আনন্দের জোয়ার বয়। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতে আরাকান আর্মি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আবার হতাশা দেখা দিয়েছে। শর্ত মেনে জেলেরা মাছ শিকার করছে, এরপরও ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে জেলেরা নাফ নদ ও সাগরের জলসীমানা অতিক্রম করার কারণেও এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ‘দীর্ঘ দিন পর জেলেদের মাছ ধরার সুযোগ হয়েছে। ফলে তাদের সর্তক থাকতে হবে, যাতে বাংলাদেশের জলসীমানা অতিক্রম না হয়। অধিকাংশ জেলে সীমানা অতিক্রমের কারণে আরাকান আর্মিও সুযোগ নিচ্ছে। তাই আমাদের জেলেদের খুব সর্তক থেকে মাছ শিকার করতে হবে। পাশাপাশি তারা সীমানা অতিক্রম করছে কিনা সে দিকে নজরদারি রাখা দরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।’

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শাহপরীর দ্বীপের ঘোলারচর এবং নাফ নদের নাইক্ষ্যংদিয়া এলাকা থেকে মাছ ধরার চারটি নৌকাসহ ১৯ জেলেকে ধরে নিয়ে যায় আরাকান আর্মি। তার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি নাফ নদের মোহনা থেকে আরও চার বাংলাদেশি জেলেকে ধরে নিয়ে যায় তারা। তবে এখনও কাউকে ছেড়ে দেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ নৌঘাটে সাধারণ সম্পাদক আবদুল গফুর বলেন, ‘বৃহস্পতিবারও ১৯ জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। তাদের মধ্য আমার ঘাটে দুই নৌকার ১০ জেলে রয়েছে। তাদের পরিবারে কান্না থামছে না। নাফ নদ ও সাগর থেকে আরাকান আর্মি জেলেদের ধরে নিয়ে গেলেও এটার কোনও সমাধান হচ্ছে না। তাই জেলেরা খুব ভয়ে আছে। এ কারণে আমার ঘাটের অনেকের নৌকা মাছ শিকারে যায়নি। তাদের মধ্যে দুঃচিন্তায় রয়েছে। কেননা এখানকার মানুষ মাছ শিকারে যেতে না পারলে না খেয়ে থাকতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জেলেরা যাতে নির্ভয়ে মাছ শিকারে যেতে পারে, সে জন্য সরকারের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।’

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেদের ফেরত আনতে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সব জেলে যাতে বাংলাদেশ জলসীমানা অতিক্রম না করে সে জন্য সর্তক করা হয়েছে।’

টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ন বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘কীভাবে জেলেদের দ্রুত ফেরত আনা যায় সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি।’

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।