খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ভেপিং ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর

খান আহমেদ ইফতেখার
প্রকাশিত: সোমবার, ৩ মার্চ, ২০২৫, ১২:০৬ অপরাহ্ণ
ভেপিং ধূমপানের চেয়েও বেশি ক্ষতিকর

অনেকেই ভেবে থাকে সিগারেটের বিকল্প হিসেবেই ভেপিং বা ই-সিগারেট। যার ফলে ক্ষতি কমানো যাবে আবার নিকোটিনের চাহিদাও মিটবে, তাদের সম্ভবত এবার নতুন করে ভাবতে হবে। নিয়মিত ই-সিগারেট ব্যবহার বা ভেপিংয়ের ফলে ব্যবহারকারীদের ডিমেনশিয়া, হৃদরোগ ও অঙ্গ অকেজো হয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নজিরবিহীন সংখ্যায় ভেপ গ্রহণ করছে ব্রিটিশরা, দেশটির দশ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে অন্তত একজন এ অভ্যাসে আসক্ত। অনেকেই এসব ভেপকে সাধারণত সিগারেটের চেয়ে নিরাপদ ও ধূমপান ছাড়ার জন্য কার্যকর একটি টুল হিসাবে বিবেচনা করেন। তবে গবেষণা বলছে, প্রায় আট শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ভেপ গ্রহণের আগে কখনও ধূমপান করেননি।

ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা বলছেন, সিগারেটের চেয়েও মারাত্মক স্বাস্থ্য হুমকি তৈরি করতে পারে এসব ভেপিং টুল। তারা বলেছেন, ই-সিগারেটের কারণে মানুষ ভেপের মধ্যে নিকোটিন ভরে তা নিঃশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করতে পারেন। আর এ ধরনের ভেপ সাধারণত প্রোপিলিন গ্লাইকল, গ্লিসারিন, ফ্লেভারিং ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থওয়ালা তরল গরম করে তৈরি হয়। ভেপিংয়ের মাধ্যমে এসব উচ্চমাত্রার নিকোটিন হার্টরেট ও রক্তচাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেহের বিভিন্ন রক্তনালীকে সংকুচিত ও ধমনীর প্রাচীরকে ক্ষতিগ্রস্থ করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

এ অভ্যাস ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘যারা ভেপ গ্রহণ করছেন তাদের বিপদ ধূমপায়ীদের থেকে একেবারেই আলাদা নয়’। কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন বা হৃদরোগ পুনর্বাসন বিশেষজ্ঞ ও এ গবেষণার প্রধান গবেষক ড. ম্যাক্সিম বোইডিন বলেছেন, ‘ধূমপায়ীদের মধ্যে বাইরে গিয়ে ধূমপান করার প্রবণতা থাকে এবং একবার একটি সিগারেট শেষ হয়ে গেলে তাদের চালিয়ে যাওয়ার জন্য আরেকটি সিগারেট জ্বালাতে হয়। তবে ভেপের ক্ষেত্রে আপনি চাইলেই এটির গ্রহণ চালিয়ে যেতে পারেন। এজন্য কতোগুলো পাফ টেনেছেন তা খেয়াল রাখা সম্ভব হয় না।’ তাই না থেমে বা নিরবিচ্ছিন্নভাবে ভেপ নেওয়ার কাজটি অনেক সহজ। কারণ এমনসব জায়গাতেও আপনি এটি গ্রহণ করতে পারেন, যেখানে ধূমপানের সুযোগ কম।

গবেষণায় উঠে এসেছে, ভেপিংয়ের বিভিন্ন বিপদ ধূমপায়ীদের চেয়ে আলাদা নয়। যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএসের) প্রধানরা ভেপিংকে ধূমপানের চেয়ে নিরাপদ বলে দাবি করলেও বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, ভেপিং ঝুঁকিমুক্ত নয় একেবারেই। তারা বলছেন, ই সিগারেট বা ভেপে ক্ষতিকর বিষাক্ত পদার্থ থাকে, যেগুলোর দীর্ঘমেয়াদী বিভিন্ন প্রভাব এখনও রহস্য হিসাবেই রয়ে গেছে।

চিকিৎসকরা শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, অল্প বয়সী যারা এ অভ্যাস গ্রহণ করেছেন আগামী দশকে তাদের মধ্যে ফুসফুসের রোগ, দাঁতের সমস্যা ও ক্যান্সারের মতো রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। এ গবেষণায় গড়ে ২৭ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের ওপর নজর দেন গবেষকরা, যাদের প্রত্যেকেরই শারীরিক ফিটনেসের অবস্থা একইরকম। তাদের দেহের বিভিন্ন রক্তনালীর স্থিতিস্থাপকতা ও মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহের গতি পরিমাপ করতে নিয়মিত স্ট্রেস টেস্ট পরীক্ষা করেছেন তারা।

এসব পরীক্ষার ১২ ঘণ্টা আগে কেবল পানি পান করেছে তারা। এ সময় ভেপ, ধূমপান ও ব্যায়াম থেকে দূরে ছিলেন অংশগ্রহণকারীরা। ড. বোইডিন বলেছেন, ‘মেডিয়েটেড ডাইলেশন’ বা এফএমডি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর হাতে একটি কাফ বসান গবেষকরা। যাতে এর মাধ্যমে আরও রক্ত প্রবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের ধমনী কতটা প্রসারিত হয় তা পরিমাপ করা যায়, যা ভেপিংয়ের বিভিন্ন প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারে গবেষকদের। তিনি আরও বলেন, এ গবেষণায় ধূমপায়ী ও যারা ভেপ নেন উভয়ই ফ্ল্যাট রিডিং দিয়েছে। এ থেকে ইঙ্গিত মেলে, তাদের ধমনীর প্রাচীর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যা ভবিষ্যতে গুরুতর হৃদরোগের সমস্যার প্রায় নিশ্চিত লক্ষণ।

গবেষণার আরও দেখা গেছে, ধূমপায়ী ও ভেপারদের রক্তপ্রবাহ একইরকমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়, যার ফলে তাদের ডিমেনশিয়া’সহ কাজের প্রতি অনীহার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ড. বোইডিন বলেছেন, আপনার শরীরে নানা পদার্থ ও রাসায়নিকের মিশ্রণ প্রবেশ করাবেন আর আপনার কিছুই হবে না– এমন আশা করতে পারেন না। ভেপিংয়ের কেবল একটি সুবিধা রয়েছে, তা হচ্ছে মানুষকে ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করা। তবে কেউ যদি ধূমপান ছেড়ে ভেপিং চালিয়ে যান তবে তার ফলাফল একইরকম হবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।