খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

চিনিযুক্ত সরবত খেলে শরীরে যা ঘটে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ, ২০২৫, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
চিনিযুক্ত সরবত খেলে শরীরে যা ঘটে

সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে একগ্লাস ঠান্ডা সরবত পান করতে কার না ভালো লাগে। আমাদের দেশে সাধারণত চিনি ও লেবু দিয়ে বানানো হয় সরবত। এছাড়া অনেকে ইফতারের পরই দোকান থেকে নিয়ে নেন এক বোতল ঠান্ডা সফট্ ড্রিংক বা এনার্জি ড্রিংক। কিন্তু খালি পেটে চিনির সরবত বা অন্য চিনিযুক্ত পানীয় পান করার পর সাময়িকভাবে এনার্জি ফিরে পাওয়ার অনুভূতি হলেও তা শরীরের জন্য কতোখানি উপকারী? এই পানীয়গুলি পান করার পর আমাদের দেহে আসলে কী ঘটে? এই প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে মানবদেহের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াগুলো বুঝতে হবে। জেনে নিন এ বিষয়ে গবেষণা এবং বিশেষজ্ঞরা কী বলে-

 

১. রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি

মিষ্টি পানীয়তে থাকা উচ্চ মাত্রার চিনি (সুক্রোজ বা ফ্রুক্টোজ) রক্তে খুব দ্রুত শোষিত হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার কারণে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নামক হরমোনের নিঃসরণ ঘটে। ইনসুলিনের কাজ হলো রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা এবং কোষে গ্লুকোজ প্রবেশে সাহায্য করা। অতিরিক্ত ইনসুলিনের প্রভাবে আবার রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা কখনও কখনও হাইপোগ্লাইসেমিয়া (রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে যাওয়া) এর কারণ হতে পারে। এই অবস্থায় ক্লান্তি, মাথা ঘোরা এবং ক্ষুধা বৃদ্ধি পেতে পারে। আর ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য চিনির সরবত আরো বেশি সমস্যা, কেননা ইনসুলিনের মাত্রা শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা থাকেনা তাদের শরীরে। ফলে রক্তে শর্করা একবার অতিরিক্ত বেড়ে যায়, আবার অনেক বেশি নেমে যায়। এতে শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ওপর চাপ পড়ে।

২. মেটাবলিক সিনড্রোম এবং শারীরিক স্থূলতার ঝুঁকি

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত মিষ্টি পানীয় পান করলে মেটাবলিক সিনড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে। মেটাবলিক সিনড্রোম হলো একগুচ্ছ শারীরিক অবস্থা, যেমন উচ্চ রক্তচাপ, রক্তে শর্করার উচ্চ মাত্রা, অতিরিক্ত চর্বি এবং অস্বাভাবিক কোলেস্টেরল, যা হৃদরোগ এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। হার্ভার্ড স্কুল অফ পাবলিক হেলথের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত চিনিযুক্ত পানীয় পান করেন তাদের টাইপ ২ ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ২৬% বেশি।

 

চিনিযুক্ত সরবত খেলে শরীরে যা ঘটে

৩. লিভারের চর্বি জমা হওয়া

মিষ্টি পানীয়তে থাকা ফ্রুক্টোজ লিভারে চর্বি জমার একটি প্রধান কারণ। গবেষণা অনুসারে, অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ লিভারে মেটাবলাইজড হয় এবং ফ্যাটি লিভার ডিজিজের ঝুঁকি বাড়ায়। এই অবস্থা লিভারের কার্যকারিতা হ্রাস করে এবং দীর্ঘমেয়াদে লিভার সিরোসিসের কারণ হতে পারে।

৪. মস্তিষ্কের উপর নেতিবাচক প্রভাব

চিনিযুক্ত পানীয় মস্তিষ্কের ডোপামিন সিস্টেমকে সক্রিয় করে, যা আনন্দের অনুভূতি দেয়। এই প্রক্রিয়াটি চিনিযুক্ত পানীয়ের প্রতি আসক্তি তৈরি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এ জাতীয় পানীয় মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং স্মৃতিশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে।

 

৫. দাঁতের ক্ষয়ের কারণ

অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় দাঁতের এনামেল ক্ষয়ের কারণ হতে পারে। গবেষণা অনুসারে, চিনি এবং অম্লীয় উপাদান দাঁতের ক্ষয় এবং ক্যাভিটি তৈরি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে মিষ্টি পানীয় পান করার পর দাঁত ব্রাশ করা বা পানি দিয়ে কুলি করা উচিত। মিষ্টি পানীয় পান করার পর আমাদের দেহে যে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনগুলো ঘটে তা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে প্রাকৃতিক এবং পুষ্টিকর বিকল্প বেছে নিন। সরবতে চিনির বদলে গুড় ব্যবহার করুন, ও এনার্জি ড্রিংক বা সফট্ ড্রিংক পরিহার করুন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।