খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের রহস্যময় কেমিক্যাল কারখানা

ঢাকার ডাক ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
সাবেক এসবি প্রধান মনিরুলের রহস্যময় কেমিক্যাল কারখানা

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)-এর সাবেক প্রধান ও বর্তমানে পলাতক কর্মকর্তা মনিরুল ইসলামের অংশীদারিত্বে পরিচালিত এক রহস্যময় কেমিক্যাল কারখানার সন্ধান মিলেছে গাজীপুরের কালীগঞ্জে। এই ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন তারই ঘনিষ্ট বন্ধু হিসেবে পরিচিত কামাল হোসেন। ছাত্র জনতা অভ্যুর্থানের হত্যা মামলার আসামি হয়েও বহলা তবিয়তে রয়েছেন তিনি। সম্প্রতি গোয়েন্দা সূত্র ঢাকার ডাককে এসব তথ্য নিচ্শিত করেছেন। এছাড়াও জোড় পূর্বক জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে ও স্থানীয় সূত্র মতে, কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের বান্দাখোলা এলাকায় প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর ১০ থেকে ১২ বছর আগে গড়ে তোলা হয় এই কারখানা। নথিপত্রে মালিক হিসেবে দেখানো হয়েছে কামাল হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে।

সূত্র মতে, কামাল হোসেনকে সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে পরিচিত। তিনি আবার গাজীপুর মহানগরের গাছা থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের একটি মামলারও আসামি। ওই মামলায়ও তাকে মনিরুল ইসলামের বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
একাধিক সূত্র দাবি করছে, প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত মালিক এবং মূল অংশীদার আসলে মনিরুল ইসলামই। প্রতিষ্ঠানটি ‘জে আর কে কালার অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ এবং ‘জে আর কে কালার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বিডি লিমিটেড’ নামে নিবন্ধিত হলেও গেইটে নেই কোনো সাইনবোর্ড। ভেতরে কী উৎপাদন হয়, তা জানে না স্থানীয় পুলিশ বা প্রশাসনও।
কারখানার চারপাশে উঁচু প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, বাইরে থেকে কিছু বোঝা যায় না। প্রবেশাধিকার নেই স্থানীয় বাসিন্দা কিংবা জনপ্রতিনিধিদেরও। ফলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “কারখানায় কেউ প্রবেশ করতে পারে না, আর ভেতরে কী হয় আমরা জানি না। তবে প্রচলিত ধারণা হলো—প্রকল্পটির মালিকানা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার। প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা: কারখানার সঙ্গে ক্ষমতাশালী মহলের সম্পৃক্ততার নানা অভিযোগ রয়েছে। জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপ-প্রেস সচিব ও কাপাসিয়ার আশরাফুল আলম খোকনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু শামিম নামের একজন এই কারখানার তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কাজ করেন।

এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু বক্কর বাক্কু নিয়মিত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা করে আসছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি নাকি ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ব্যবস্থা করে দেন, যদিও প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নিবন্ধনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন: কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জে আর কে কালার কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ বিডি লিমিটেড-এর নিবন্ধনের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

অপরদিকে, জে আর কে কালার অ্যান্ড কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড-এর নিবন্ধনের মেয়াদ রয়েছে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। অর্থাৎ, একটি প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে, অথচ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

জমি দখল ও অভিযোগ: শুধু কারখানা নয়, জমি দখল এবং প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে মনিরুল ইসলামের ঘনিষ্ঠ মহলের বিরুদ্ধে। তথ্য মতে, ২০২২ সালে কামাল হোসেন ও মনিরুল ইসলামের অর্থায়নে নাগরী ইউনিয়নের পাড়াবর্থা এলাকায় পূর্বাচল উপশহর প্রকল্প সংলগ্ন ২৮ নম্বর সেক্টরের পাশে প্রায় ৩-৪ বিঘা জমি ক্রয় করা হয়েছে। অভিযোগ উঠে, সে সময় আশেপাশের আরও ৫-৭ বিঘা জমি জোরপূর্বক দখল করে ইদের দেয়াল দিয়ে প্রাচীর তুলে সেখানে ওয়ারহাউস, গরুর খামার ও আড্ডাখানা তৈরি করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই আড্ডাখানায় প্রভাবশালী মহল মাদক ও নারী নিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে

পুলিশি প্রভাব ও মামলার নাটক: জমি দখলের ঘটনা ঘিরে স্থানীয়দের প্রতিরোধ ভাঙতে পুলিশি প্রভাব খাটানো হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। ২০২২ সালের গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার ছিলেন বিসিএস ২৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা কাজী শফিকুল আলম—যিনি মনিরুল ইসলামের স্ত্রীর ভগ্নীপতি। তার প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এরমধ্যে দুটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। মামলা নাম্বার ৬(০৫)২২ এবং ১৫(০৫)২২। এছাড়া জমি দখলের অভিযোগে ২০২২ সালের ২৪ মে নাগরী ইউনিয়নের গলান এলাকার বাসিন্দা লেহাজ উদ্দিন গাজীপুর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইখলাস উদ্দীনের আদালতে কামাল হোসেন, তার প্রকল্পের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়ব আলী, সহযোগী ফাহিম ও গাড়িচালক সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

আদালত জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। কিন্তু তদন্ত শেষে পুলিশ রিপোর্টে ঘটনাটি ‘মিথ্যা’ উল্লেখ করে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন এসপি কাজী শফিকুল আলমের চাপেই এমন প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া ও প্রশাসনিক সহায়তার কারণেই কারখানাটি এত বছর ধরে অদৃশ্য থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বিস্ফোরক পরিদপ্তর, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় বিস্ফোরক পরিদর্শক ড. মোঃ আসাদুল ইসলাম ঢাকার ডাকাকে বলেন, যে কোনো কারখানা তৈরির ক্ষেত্রে অবশ্যই অফিসিয়াল ডকুমেন্ট জমা দিয়ে অনুমতি নেওয়া হয়। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা আছে কি না দরকার হয়ে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা যেতে পারে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, গাজীপুর উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন পিএফএম(এস) ঢাকার ডাককে বলেন, যে কোনো কারখানা আইন মেনে করা উচিত। সেটা যদি কেউ না করেন সেই ক্ষেত্রে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত। তবে আমাদের ফাইলে এই বিষয়ে কি রয়েছে সেটা একটু দেখার বিষয়। এই বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার গাজীপুর ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক ঢাকার ডাককে জানান, কারখানার বিষয়টা তো আলাদা জমি বা জোর করে দখলের কোনো অভিযোগ থাকলে বা এলে সেটার বিষয়ে পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরুলের ঘনিষ্ট বন্ধু ঢাকার ডাককে জানান, মনিরুলকে আমি চিনি না। আর এসব জায়গা আমার বাবার ছিল। বাকি সব মিথ্যা কথা।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।