নিশ্চিত পরাজয় জেনে দিশেহারা ধানের শীষ প্রার্থী
চাঁদপুর-৪ ফরিদগঞ্জ আসনের ধানের শীষ কর্মীদের অত্যাচারে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দিকে ঝুকছেন ভোটাররা
চিংড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান
চাঁদাবাজি, লোকজনকে মারধরসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিরক্ত হয়ে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদ এর কাছ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএ হান্নান এর দিকে ঝুঁকেছেন চাঁদপুর ৪ ফরিদগঞ্জ আসনের ভোটাররা। ধানের শীষ ছাড়া অন্য কারো পক্ষে কাজ না করতে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে চলছে ধানের শীষের প্রার্থীর কর্মীরা। এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে তারা। গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ধানের শীষের পক্ষে ভোট দিতে হুমকি দিচ্ছে। না হলে গ্রামে থাকতে পারবে না বলেও জানাচ্ছে তারা।
স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ হান্নান এর পক্ষে কাজ করায় ফরিদগঞ্জের ৩নং সুবিদপুর পূর্ব ইউনিয়নের উবারোমপুর গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যুবদল কর্মী শাহ আলম মিজি উজ্জ্বল (৩৮), উভারামপুর গ্রামের হারু ডাক্তার, গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ আব্দুল কাদির তপদার(৬০) সহ আরো বেশ কয়েকজন হামলার শিকার হয়েছে ধানের শীষের প্রার্থী হারুনুর রশিদের কর্মী দ্বারা। শুধু হামলাই নয়। হামলার পাশাপাশি বিভিন্ন অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে তারা।
গতকাল ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ফরিদগঞ্জে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জনাব লায়ন মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ এর সাথে যমুনা গ্রুপের পরিচালক(বাণিজ্যিক) এবং দৈনিক ঢাকার ডাকের সম্পাদক ও প্রকাশক এর একটি মোবাইল কথোপকথন সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়েছে।
এতে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের হামকি ধমকি দিচ্ছে ধানের শীষ প্রতীকের কতিপয় সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসীদের কথা হচ্ছে ধানের শীষ প্রতীক ছাড়া কেহ অন্য কারো পক্ষে কথা বলতে পারবেনা। অন্য কোন প্রার্থীর প্রচারণা করতে পারবেনা। এ বিষয়টি নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সাথে কথোপকথন হয়। কথোপকথনের মূল বিষয়টি ধানের শীষ প্রতীকের লোকজন না বুঝেই হম্বিতম্বি এবং হইচই শুরু করে দিয়েছে। এতে এলাকায় তারা ভীতির সঞ্চার করেছে।
ধানের শীষ প্রতীকের কর্মীরা সাধারণ জনগণের গায়ে হাত দিচ্ছে এবং হুমকি ধমকি দিচ্ছে। এ বিষয়ে উল্টা তারাই আবার এলাকায় বহিরাগত লোক দিয়ে মানববন্ধন করেছে। প্রকৃত অর্থে ধানের শীষের পরাজয় নিশ্চিত জেনে ফরিদগঞ্জের ৩নং পূর্ব সুবিদপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে কতিপয় সন্ত্রাসী এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। বিষয়টির জন্য এলাকার জনগণ খুবই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে এই সন্ত্রাসীদেরকে আইনের আওতায় আনার জন্য থানায় যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিষয়টি সকলকে অবহিত করা হলো।
দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে রাজনীতি করা এম এ হান্নান জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ফরিদগঞ্জের শীর্ষে। স্থানীয় জনগণের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে ধানের শীষ কে ভালোবেসেও এলাকার মানুষের পাশে থাকার জন্য তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। কোন ক্ষমতা বলে হারুনুর রশিদ ধানের শীষ প্রতীক হাতিয়ে নিল তা স্থানীয় জনগণের বোধগম্য নয়। তাই পরাজয় নিশ্চিত জেনে হারুনুর রশিদ তার লোকজনকে দিয়ে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
নির্বাচনী এক জনমত জরিপে দেখা যায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। জামায়াত প্রার্থী দ্বিতীয় স্থান এবং ধানের শীষের তৃতীয় স্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই প্রার্থী নির্বাচনে একটি ভুল শুধু একটি আসনই হারাবে না। এর দায়ভার জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র নীতি নির্ধারকদেরই নিতে হবে।



আপনার মতামত লিখুন