চেহলাম উপলক্ষে খান্দুরায় ধর্মীয় সমাবেশ, অংশ নিলেন হাজারো মুরিদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান্দুরা উত্তর হাবেলীতে মজ্জুব পীর তরিকত মরহুম আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন (রফিক মিয়া)-এর চেহলাম উপলক্ষে আলোচনা সভা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) ভোর থেকে দিনব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশ থেকে আগত ভক্ত-মুরিদান, আলেম-ওলামা, শিক্ষাবিদ, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং স্থানীয় নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মরহুমের বড় ছেলে পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ মজিবুল হুসাইন লিটন, ছোট ছেলে পীরে তরিকত আলহাজ্ব সৈয়দ আশরাফুল হুসাইন জনি এবং জামাতা, চুনারুঘাটের ঐতিহাসিক মুড়ারবন্দ ১২০ আউলিয়া দরবার শরীফের মোতাওয়াল্লী পীরজাদা আলহাজ্ব সৈয়দ সফিক আহমেদ চিশতী সফির তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে কোরআন খতম, খতমে সহিহ বুখারি শরিফ পাঠ, জিয়ারত এবং মরহুমের কর্মময় জীবন ও ধর্মীয় অবদান নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জন্য তবারকের ব্যবস্থা করা হয়। এতে হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত ভক্ত-মুরিদান অংশ নেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, মরহুম সৈয়দ রফিকুল হুসাইন একজন ধর্মপ্রাণ, মানবকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ এবং আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার পাশাপাশি পারিবারিক আধ্যাত্মিক ধারার নেতৃত্ব দিয়ে অসংখ্য মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি শিক্ষকতা জীবন শেষে নিজ এলাকায় অবস্থান করে ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। দেশ-বিদেশে তার অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী রয়েছে। মৃত্যুর আগে তিনি তার আধ্যাত্মিক দায়িত্ব পুত্রদের ওপর অর্পণ করে যান।
উল্লেখ্য, আলহাজ্ব সৈয়দ রফিকুল হুসাইন গত ৯ মে রাতে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯২ বছর। তিনি সন্তান-সন্ততি, আত্মীয়-স্বজন, অসংখ্য ভক্ত-মুরিদান ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
চেহলাম উপলক্ষে আয়োজিত এ দোয়া মাহফিল শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

আপনার মতামত লিখুন