খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কৃত্রিম প্রজনন আইন উপেক্ষিত, ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষক

মোঃ আবু হুরাইরা
প্রকাশিত: রবিবার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ২:৩২ অপরাহ্ণ
কৃত্রিম প্রজনন আইন উপেক্ষিত, ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ কৃষক

বাংলাদেশে কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও, মাঠ পর্যায়ে এর যথাযথ প্রয়োগ না হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন প্রান্তিক কৃষকরা। কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা অনুযায়ী, দেশীয় গরুর জাতকে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে উন্নত করা গেলেও, কোনোক্রমেই তা ৬৫ শতাংশের বেশি উন্নত জাতে রূপান্তর করা যাবে না। এর প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, উন্নত জাতের গরু মূলত শীতল অঞ্চলের আবহাওয়ায় অভিযোজিত। আমাদের দেশের উষ্ণ আবহাওয়া এবং পরিবেশের সঙ্গে তাদের জিনগত অভিযোজন না থাকায়, উচ্চ তাপমাত্রায় উন্নত জাতের গরু বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে পারে। এমনকি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া এবং প্রজনন ও উৎপাদন ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। বাজারের কিছু অসাধু কৃত্রিম প্রজননকারী, নীতিমালাকে উপেক্ষা করে কৃষকদেরকে শতভাগ হলেস্টান ফ্রিজিয়ান অথবা অন্যান্য উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করে সংকরায়নের প্রলোভন দেখাচ্ছে। তারা কৃষকদের কাছে উচ্চ উৎপাদনশীলতার মিথ্যা আশ্বাস দিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে দ্রুত লাভের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। কৃষকরা সরল বিশ্বাসে এসব প্রলোভনে পা দিচ্ছেন এবং তাদের দেশীয় গরুতে ৯০ শতাংশ বা কোনো কোনো গরুতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করছেন। এর ফলস্বরূপ, স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব গরু নানা শারীরিক জটিলতায় আক্রান্ত হচ্ছে। দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, শ্বাসকষ্ট, হজমের সমস্যা এবং প্রজনন সংক্রান্ত জটিলতা এখন অনেক কৃষকের কাছে নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, কৃত্রিম প্রজননকারীরা বীজ বিক্রির সময় উচ্চ ফলনের প্রতিশ্রুতি দিলেও, পরবর্তীতে গরুর কোনো সমস্যা হলে তাদের আর। খুঁজে পাওয়া যায় না। ফলে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পেরে অনেক কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এমনকি উন্নত জাতের গরু মৃত্যুবরণ করছে এবং তাদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ভেঙে যাচ্ছে।এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলার একজন প্রবীণ দুগ্ধ খামারি খোকন ঘোষ বলেন, আমি একজন কৃত্রিম প্রজননকারীর কথায় আমার গাভীতে ১০০ ভাগ ফ্রিজিয়ান বীজ দিয়েছিলাম। এ থেকে একটা ৯০% এর উপরে বকনা বাছুর পাই। বকনাটি ধীরে ধীরে গাভীতে রূপান্তরিত হয়ে গর্ভবতী হয় এবং একটি বাচ্চা প্রসব করে। প্রথম দিকে দুধের উৎপাদন কিছুটা বাড়লেও, কয়েক মাস পর থেকেই গাভীটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন চিকিৎসা করাতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে, কিন্তু আগের মতো আর দুধ পাই না। শৈলকুপা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রাসেল আহমেদ জানান, নীতিমালা লঙ্ঘনের বিষয়ে তারা অবগত আছেন এবং মাঠ পর্যায়ে নজরদারি জোরদার করার চেষ্টা করছেন। তবে, জনবল সংকট এবং অসচেতনতার কারণে অনেক সময় এটি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়না না। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৌলিবিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর ড. আতাউর অংকন জানান, কৃত্রিম প্রজনন আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং কৃষকদের অসচেতনতাই এর মূল কারণ। তারা বলছেন, কৃষকদেরকে উন্নত জাতের গরুর বৈশিষ্ট্য, তাদের,পরিচর্যা এবং দেশীয় পরিবেশের সঙ্গে তাদের অভিযোজন ক্ষমতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দেওয়া জরুরি। পাশাপাশি, কৃত্রিম প্রজনন নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং অনিয়মকারীদের

বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
যদি এই প্রবণতা বন্ধ করা না যায়, তবে শুধু কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না বরং দেশের মূল্যবান দেশীয় গরুর জাতও ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যেতে পারে। তাই, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।