খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে অটোরিকশার তাণ্ডব- যানজট-দুর্ঘটনায় অতিষ্ঠ জনজীবন

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:১৯ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে অটোরিকশার তাণ্ডব- যানজট-দুর্ঘটনায় অতিষ্ঠ জনজীবন

কালিয়াকৈরের ঢাকা- টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে শুরু করে পৌরসভার অলিগলি-সর্বত্রই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া দৌরাত্ম্য। নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা,হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী,চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা।কালিয়াকৈর-চন্দ্রা ও কালিয়াকৈর-নবীনগর মহাসড়কের সফিপুর, মৌচাক বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশে অটোরিকশাগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। অনেক চালক আবার নির্ধারিত স্থান ছাড়াই মাঝসড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। পেছন থেকে আসা বাস-ট্রাককে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। ব্যস্ত সময়ে বিশেষ করে সকাল ৭টা-১০টা ও বিকেল ৪টা-৬টায় এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ফলে অফিসগামী ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, অটোরিকশার চালকদের একটি অংশ ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মানছেন না। বিশেষ করে কালিয়াকৈরে সদর বাজার, চান্দরা,পল্লিবিদ্যুৎ,সফিপুর, মৌচাক বাজার, ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।
কালিয়াকৈর পৌর এলাকার এক পথচারী বলেন,রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশাগুলো কোন দিক থেকে আসছে বোঝা যায় না। অনেক সময় খুব দ্রুতগতিতে এসে সামনে ব্রেক করে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
বলিয়াদীর এক অভিভাবক বলেন,অলিগলিতে অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ছোট রাস্তা হওয়ায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি চললেই পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।শুধু মহাসড়ক নয়, স্থানীয় বাজার, আবাসিক এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলোতেও অটোরিকশার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় ফুটপাত বা রাস্তার একাংশ দখল করে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। এতে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।একজন চাকরিজীবী জানান,অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে থামায় পুরো রাস্তার গতি কমে যায়। ৫ মিনিটের রাস্তা যেতে কখনো কখনো ৩০ মিনিট লেগে যায়।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা দেওয়ান জসিম উদ্দিন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, কালিয়াকৈরের রাস্তাঘাট আজ অটোরিকশার দখলে। কোনো নিয়ম-নীতি নেই। যেখানে ইচ্ছা দাঁড়াচ্ছে, যেখানে ইচ্ছা ইউটার্ন নিচ্ছে। এর ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, মানুষ মারা যাচ্ছে। আমরা আর এই বিশৃঙ্খলা দেখতে চাই না।তিনি আরও বলেন,যদি জনগণের দোয়ায় আমি পৌরসভার দায়িত্ব পাই, তাহলে আমার প্রথম কাজই হবে কালিয়াকৈরের যানজট নিরসন। অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট রুট, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড এবং চালকদের লাইসেন্স-প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হবে।দেওয়ান জসিম উদ্দিন বলেন,আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাব,অবিলম্বে ট্রাফিক পুলিশ বাড়ানো হোক। যারা ট্রাফিক আইন মানবে না তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কালিয়াকৈরের মানুষ শান্তিতে চলাচল করতে চায়।
স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা নয়; বরং এর জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। তাদের প্রস্তাব-
নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ,
চালকদের প্রশিক্ষণ ও বৈধ কাগজপত্র যাচাই,
মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা,নিয়মিত ট্রাফিক অভিযান ও জরিমানা,পৌরসভার তত্ত্বাবধানে অটো স্ট্যান্ড নির্মাণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শিল্পাঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যানবাহন চলাচল করলে সড়কের সক্ষমতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।পথচারীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে তারা স্থায়ী ও সমন্বিত উদ্যোগ চান।কালিয়াকৈরে শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই সড়কে মানুষের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যদি নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ও দুর্ঘটনার সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও রুট ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের শুভসূচনা

ঢাকার ডাক স্পোর্টস: ক্যারিয়ারে প্রথমবার ওয়েম্বলিতে খেলতে নেমে প্রতিপক্ষের উপহার পেয়ে দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করলেন লামিন ইয়ামাল। অবশ্য প্রথমার্ধেই চার মিনিটের এক ঝড়ে দুই গোল করে পাল্টা জবাব দিল ইংল্যান্ড। দুই বদলি খেলোয়াড়ের গোলে জিতে নেশন্স লিগ অভিযান শুরু করল স্পেন।প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে শনিবার রাতে ৩-২ গোলে জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।

ইয়ামালের গোলে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডকে সমতায় ফেরান অ্যান্থনি গর্ডন। একটু পর স্বাগতিকদের এগিয়ে নেন কেইন। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার ওই পেনাল্টি মিসের হতাশা। একসঙ্গে বদলি নেমে স্পেনের পরের দুটি গোল করেন অ্যালেক্স বায়েনা ও মিকেল ওইয়ারসাবাল।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে টানা অপরাজেয় রেকর্ড যাত্রা ৩৯ ম্যাচে নিয়ে গেল স্পেন। সবশেষ হারের তেতো স্বাদ পায় তারা ২০২৪ সালের মার্চে, কলম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে। প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলে তাদের সবশেষ হার তো সেই ২০২৩ সালের মার্চে, ইউরো বাছাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এ লিগের তিন নম্বর গ্রুপের ম্যাচটিতে বল দখল ও আক্রমণে দুই দলই ছিল প্রায় সমানে-সমান। গোলের জন্য স্পেনের ১৫ শটের পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে, আর ইংল্যান্ডের ১৩ শটের পাঁচটি লক্ষ্য ছিল।

লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের শুরুটা হয় দুঃস্বপ্নের মতো। দলটির ডিফেন্ডার মার্ক গেয়ি নিজেদের বক্সের বাইরে বল পেয়ে বিপদমুক্ত না করে গোলরক্ষকের দিকে ঘুরে দাঁড়ান। ঠিক তার পেছনেই যে ইয়ামাল ওত পেতে আছেন, সেদিকে যেন খেয়ালই করেননি তিনি। প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সে ঢুকে এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে শট নেন ১৯ বছর বয়সি খেলোয়াড়। বল পোস্টের ভেতরের দিকে লেগে জালে জড়ায়।

ইয়ামালের দ্বিতীয় মিনিটের গোলটি ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো দলের তৃতীয় দ্রুততম। অষ্টম মিনিটে ইংল্যান্ডের জালে বল জড়ায় আবার। ফাবিয়া রুইসের ক্রসে বক্সে প্রথম স্পর্শে ভলিতে লক্ষ্যভেদ করেন বিশ্বকাপ ফাইনালে বদলি নেমে একমাত্র গোলটি করা ফেররান তরেস। কিন্তু তিনি অফসাইডে থাকায় গোল মেলেনি।

ষোড়শ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর দারুণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরেস। ইয়ামালের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। তার সামনে একমাত্র বাধা ছিল গোলরক্ষক। পিএসজি স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।২৭তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ নষ্ট করেন তরেস। রদ্রির পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, এবারও সামনে ছিল কেবল গোলরক্ষক, কিন্তু বাইরে মেরে বসেন বার্সেলোনার সাবেক এই খেলোয়াড়।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়দের মধ্যে শুরু থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন যিনি, সেই গর্ডন সমতা টানেন ৩৬তম মিনিটে। নিজেদের অর্ধে ব্যাকহিল ফ্লিকে জুড বেলিংহ্যামের উদ্দেশ্যে বল বাড়িয়ে এগিয়ে যান তিনি। রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ফিরতি পাস ধরে বক্সের বাইরে থেকে শটে উনাই সিমনকে পরাস্ত করেন বার্সেলোনার উইঙ্গার।

৪০তম মিনিটে ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেইয়ার ভুলে দ্বিতীয় গোল হজম করে স্পেন। বাঁ দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে নিকো ও’রাইলির দারুণ ক্রসে বক্সে হেড করেন কেইন, আটকানোর চেষ্টায় পা বাড়ান কুকুরেইয়া, তার ঊরুতে পড়ে বল জালে জড়ায়।বিশ্বকাপে আট ম্যাচে স্রেফ একটি গোল হজম করে স্পেন, আর এখানে চার মিনিটের মধ্যে দুই গোল খেয়ে বসে তারা।দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে বেলিংহ্যামকে বক্সে রদ্রি ফাউল করলে মনিটরে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। কিন্তু কেইনের স্পট কিক ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। শট নেওয়ার মুহূর্তে কিছুটা পা পিছলে যায় ইংল্যান্ড অধিনায়কের।

৫৫তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামস ও তরেসকে তুলে বায়েনা ও ওইয়ারসাবালকে নামান স্পেন কোচ।মাঠে নামার চার মিনিট পরই দলকে সমতায় ফেরান বায়েনা। ডান দিক থেকে দানি ওলমোর পাস বক্সের বাইরে পেয়ে জোরাল শটে ঠিকানা খুঁজে নেন তিনি।৭৪তম মিনিটে দলের পরের গোলেও জড়িয়ে আছে বায়েনার নাম। তার পাস বক্সে পেয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন ওইয়ারসাবাল।

৪৭তম মিনিটে চমৎকার এক গোলে দলকে এগিয়ে নেন ৪১ বছর বয়সি ক্রোয়াট অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। ৫৪তম মিনিটে কারাবেকের গোলে ম্যাচে ফেরে স্বাগতিকরা। ৭৭তম মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন মারিও পাসালিচ।