খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কাঁটাতারের বেড়ায় বন্দী বিধবা, নেই বিদ্যুৎ-পানিও

মো : আব্দুল বাতেন বাচ্চু
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
কাঁটাতারের বেড়ায় বন্দী বিধবা, নেই বিদ্যুৎ-পানিও

বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া। বাইরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। মই বেয়ে দেয়াল টপকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এর মধ্যে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ। রাত নামলেই বাড়ে আতঙ্ক—কখন এসে বুলডোজার দিয়ে বসতঘর ভেঙে দেওয়া হয়।

এভাবেই গত দুই বছর ধরে অনেকটা অবরুদ্ধ জীবন কাটাচ্ছেন গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কেওয়া পূর্বখণ্ড গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ্ব শামসুন্নাহার বেগম। তাঁর অভিযোগ, বসতভিটা ছেড়ে দিতে স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদার লোকজন তাঁকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছেন। কয়েক দফা হামলা ও ইটপাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি তিনি।

স্বামী আমিরুল ইসলাম পাঁচ বছর আগে মারা গেছেন। একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপুকে নিয়ে তাঁর সংসার। স্বামীর রেখে যাওয়া বসতভিটা আঁকড়ে ধরে থাকলেও প্রতিদিনই অনিশ্চয়তা আর আতঙ্কে কাটছে তাঁদের দিন-রাত।

শামসুন্নাহার বেগম বলেন, ‘দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমি ঘরবন্দী। বসতবাড়ির চারপাশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বের হওয়ার এক ইঞ্চি জায়গাও নেই। মই দিয়ে দেয়াল টপকে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটার পর্যন্ত নিয়ে গেছে। পানি নেই, বিদ্যুৎ নেই—এভাবে দুই বছর ধরে কীভাবে চলছি, সেটা শুধু আমিই জানি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘স্থানীয় প্রভাবশালী নূরুল হুদা প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে, বসতবাড়ি ছেড়ে যেতে। না গেলে রাতে বুলডোজার দিয়ে বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে বলে ভয় দেখায়।’

শামসুন্নাহার অভিযোগ, তাঁর বাড়ির চারপাশে ঘন কাঠ, বাঁশ ও কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও সংগ্রহ করতে কষ্ট হচ্ছে। ‘এক কেজি চাল কিনলেও দেয়াল টপকে বাড়িতে নিতে হয়। গবাদিপশু ও পাখি বাধ্য হয়ে বিক্রি করে দিচ্ছি। ঘরে চাল, ডাল, তেল—কিছুই নেই,’ বলেন তিনি।

রাতের আতঙ্কের বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি দৈনিক ঢাকার ডাক কে বলেন, ‘গভীর রাতে যখন চোখে ঘুম আসে, তখন চোখে পানি দিয়ে জেগে থাকি। হাঁটাহাঁটি করে রাত পার করি। বাইরে কোনো শব্দ হলেই বুক কেঁপে ওঠে—এই বুঝি বুলডোজার এসেছে বাড়ি ভাঙতে। ডাক-চিৎকার করি, কিন্তু কেউ সাড়া দেয় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের ছোট বাবু থেকে বড় চেয়ারে বসা স্যারের কাছেও নালিশ করেছি। কিন্তু কোনো প্রতিকার পাইনি। কেন, আমি কি বাংলাদেশের মানুষ না? গরিব বলে কি আমাদের চলাচলের রাস্তা, বিদ্যুৎ ও পানির অধিকার নেই?’

শামসুন্নাহারের ছেলে সাইফুল ইসলাম দিপু বলেন, ‘দুই বছর ধরে মা-ছেলের ওপর নির্যাতন-অত্যাচার চলছে। কয়েকবার আমাকে ও মাকে মারধর করা হয়েছে। বসতভিটা ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়েছে। কিন্তু মা-বাবার বসতভিটা ছেড়ে যেতে চান না।’

দিপু জানান, ২০০৫ সালে তাঁর বাবা কষ্টের উপার্জনের টাকা দিয়ে সাড়ে ৩ শতাংশ জমি কিনেছিলেন। বর্তমানে ওই জমির দাম প্রায় কোটি টাকা। জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় প্রভাবশালীদের নজর পড়েছে।

তিনি বলেন, ‘একটি রাতও ঘুমাতে পারি না। বহুদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। লাইনের তারসহ মিটার নিয়ে গেছে। চারপাশে বেড়া দেওয়ায় মই দিয়ে কষ্ট করে চলাচল করতে হয়। মায়ের খুব কষ্ট হয়। জমি ছেড়ে দিতে প্রতিনিয়ত হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’

দিপুর দাবি, নূরুল হুদা তাঁদের বলেছেন, ‘বুলডোজার দিয়ে বসতবাড়ির চিহ্ন রাখবেন না।’ এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন নূরুল হুদা বলেন, ‘চারপাশে মালিকের জমি। তাই বেড়া দেওয়া হয়েছে। মালিক যেভাবে হুকুম করবেন, আমরা সেভাবেই কাজ করি।’

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদ ভূঁইয়া দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকাকে বলেন, ‘বিষয়টি এখনো সমাধান হয়নি। সমাধানের চেষ্টা চলছে।’

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মারধরের অভিযোগের তদন্ত চলছে। রাস্তা খুলে দেওয়া প্রশাসনের কাজ। এটা আমাদের বিষয় নয়।’

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।