খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

কালিয়াকৈরে প্রি-পেইড মিটারের মরণফাঁদ! টাকা আছে,কারেন্ট নাই

জাহাঙ্গীর আলম শরিফ
প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৩ অপরাহ্ণ
কালিয়াকৈরে প্রি-পেইড মিটারের মরণফাঁদ! টাকা আছে,কারেন্ট নাই

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের নাম। টাকা রিচার্জ করা থাকার পরও মিটার হ্যাং হয়ে বিদ্যুৎ বন্ধ। মিটার নষ্ট হলে সার্ভিস পেতে ৩-৪ দিন দৌড়াতে হচ্ছে। এর সাথে যোগ হয়েছে বিকাশ-নগদে রিচার্জের বিড়ম্বনা। লোডশেডিং আর নেট সমস্যার কারণে টাকা ভরাও যাচ্ছে না।ফলে ফ্রিজের খাবার নষ্ট,দোকান-মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হচ্ছে গ্রাহকদের। গার্মেন্টস কর্মীরা বলছেন,পেটের জন্য চাকরি করব না মিটার সামলাব।
সরেজমিনে কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের হরতকিতলা এলাকায় দেখা যায়, WASION ব্র্যান্ডের DDSD101 মডেলের প্রি-পেইড মিটারের লাল Alarm লাইট জ্বলছে, ডিসপ্লেতে ত্রুটি মিটারনম্বর:40510029630। গ্রাহকরা অভিযোগ করেও মাসের পর মাস ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
কালিয়াকৈর পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডের হরতকিতলা এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, বাড়ির প্রি-পেইড মিটার নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ দেওয়ার ২ দিন পর অফিস থেকে লোক এসে আবার ঝরাজীর্ণ পুরাতনমিটার বদল করে দেয়। এক/দেড় মাস পরে আবার ওই মিটারের সমস্যা হয়।এর মধ্যে ফ্রিজের সব মালামাল পচে নষ্ট হয়ে গেছে। এই ক্ষতির দায় কে নেবে?
স্থানীয় একাধিক বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়ারা জানান, প্রি-পেইড মিটার হঠাৎ করে হ্যাং হয়ে যাচ্ছে। ব্যালেন্সে ৫০০ -১০০০ টাকা থাকার পরও বিদ্যুৎ সাপ্লাই দিচ্ছে না। জরুরি ২৪০ নাম্বার কোড ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। অফিসে অভিযোগ দিতে গেলে দিনের পর দিন ঘোরানো হচ্ছে।
একজন ভুক্তভোগী ক্ষোভের সাথে বলেন,আগে পোস্টপেইডে বিল একটু বেশি আসলেও নিয়মিত কারেন্ট পেতাম। এখন টাকা ভরে রেখেও অন্ধকারে থাকতে হচ্ছে। এটা কোন নিয়ম?
গ্রাহকদের নতুন অভিযোগ, মিটারে টাকা ভরতেও এখন লোডশেডিং। বিকাশ-নগদের দোকানে গেলে নেট থাকে না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়েও টাকা ভরা যায় না। আবার মিটারের কাছে এসে দেখা যায় ব্যালেন্স ঢোকেনি।
একজন গার্মেন্টস কর্মী বলেন, সকাল ৭টায় ডিউটি। রাতে কারেন্ট গেলে মিটারে টাকা ভরতে পারি না। সকালে অফিসে যাওয়ার আগে দোকানে দৌড়াই। নেট না থাকলে আবার ফেরত আসি। চাকরি করব না মিটার সামলাব?
কালিয়াকৈর, সফিপুর, চান্দরা ও মৌচাক এলাকার গ্রাহকরা বলছেন, প্রি-পেইড মিটার আসার পর থেকে ভোগান্তি কয়েকগুণ বেড়েছে। রিচার্জ করতে দোকানে দৌড়ানো, মেসেজ না আসা, মিটার লক হয়ে যাওয়া এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বিশেষ করে গরমে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।
এ বিষয়ে কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের ডিজিএম সাহারুল বলেন,প্রি-পেইড মিটারে টেকনিক্যাল সমস্যা হলে আমাদের টিম কাজ করছে। গ্রাহকরা জরুরি প্রয়োজনে ২৪০ কোড ব্যবহার করতে পারেন। কোনো অভিযোগ পেলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।তবে গ্রাহকরা পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন,৪৮ ঘণ্টা পর সমাধান দিয়ে লাভ কী? এর মধ্যে দোকানের ফ্রিজ, মিল-কারখানার উৎপাদন সব বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের ৪ দফা দাবি
মিটার ত্রুটির কারণে হওয়া ক্ষতির দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অভিযোগ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। রিচার্জের জন্য বিকল্প অফলাইন ব্যবস্থা ও ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু করতে হবে। প্রি-পেইড সিস্টেম সহজীকরণ এবং লোডশেডিং এর সময় রিচার্জ সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।এলাকাবাসী এই ভোগান্তি থেকে দ্রুত পরিত্রাণ চান। অন্যথায় তারা বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।