খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ইতিহাসে মহান মে দিবস

খান আখতার হোসেন, পরিচালক (অব.), শ্রম অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
প্রকাশিত: রবিবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৫, ১২:৫০ অপরাহ্ণ
ইতিহাসে মহান মে দিবস

শ্রমের মর্যাদা, শ্রমের অধিকার, শ্রমের সময় প্রতিষ্ঠা পেতে অপেক্ষা করতে হয় প্রায় ২০২ বছর। বিক্ষিপ্ত আন্দোলন থেকে সমষ্টিগত আন্দোলনে রূপ নেয় ১৬৮৪ সালে। আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে সংঘটিত হয় ঠেলাওয়ালারা। গড়ে তোলে ঠেলাওয়ালাদের সংগঠন। ন্যায়সঙ্গত দাবী আদাযে়র লক্ষে ক্রমাম্বযে় গড়ে ওঠে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার শ্রমজীবিদের সংগঠন। তবে প্রথম ধর্মঘটে যায় চার্সষ্টনের চিমনী পরিস্কারক শ্রমিকেরা ১৭৬৩ সালে। ১৭৭০ সালে নিউইয়র্কের পিপা প্রস্তুতকারক শ্রমিকদের ইউনিয়ন গঠিত হয়। ১৭৭৮ সালে সালে নিউইয়র্কের ছাপাখানার ঠিকা শ্রমিকেরা ঐক্যবদ্ধ হয়। আমেরিকার মহিলা দর্জি শ্রমিকরা ধর্মঘট করে ১৮২৩ সালে। ১৮২৮ সালে শিল্প শ্রমিকেরা আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মঘটে যোগ দেয়।

ইউরোপের ব্রাসেলস, প্যারিস ও লন্ডনে শিল্প বিপ্লব ও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন শুরু হয় ১৮৩০ সালে। আমেরিকা ও কানাডায় মজুরী বৃদ্ধি ও দৈনিক ১০ ঘন্টা কাজের দাবীতে (আন্দোলনের প্রথম দাবী ছিল দৈনিক ১০ ঘন্টা কাজ। যা পরবর্তীতে দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজের দাবীতে পরিনত হয়।) ১৮৩৩ সাল থেকে ১৮৩৭ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় ১৬৮টি ধর্মঘট পালিত হয়। ১৮৩৬ সালে ব্রাসেলসে এ শিল্প বিপ্লব ও আন্দোলেনের কারণে একজন শ্রমিক নেতাকে মৃত্যুদও দেয়া হলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে শ্রমিক সমাজ। লন্ডন ওয়ার্কিংম্যান এসোসিয়েশনের ডাকে এই মৃত্যুর প্রতিবাদে বিশাল শ্রমিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উইলিয়াম লোবেস্টসহ অনেক শ্রমিক নেতা গ্রেফতার হন ব্রাসেলস-এ। কানাডা আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।

১৮৪২ সালে আমেরিকার শ্রমিক শ্রেণী ট্রেড ইউনিয়ন ও ধর্মঘট করার আইনগত স্বীকৃতি পায়। লন্ডনের সেন্ট মার্টিন হলে কার্ল মার্কস উদ্বোধন করেন ইন্টারন্যাশনাল লেবার কনভেনশন। এ কনভেনশনেই গঠিত হয় ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিংম্যান অর্গানাইজেশন। ১৮৪০ সাল থেকে ১৮৪৭ সাল ব্যাপী কার্ল মার্কস ও ফেডারিক এঙ্গেলস-এর নেতৃত্বে ‘কমিউনিষ্ট মেনিফেষ্টো” রচিত হলে ‘সব মানুষ ভাই ভাই’, ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘শ্রেণী সগ্রামের মাধ্যমে শোষণহীন সমাজ কায়েম কর’ ইত্যাদি বক্তব্য ও শ্লোগান শ্রমিক শ্রেণীর মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৮৬৬ সালের ২২ আগষ্ট আমেরিকায় বাল্টিমোর শহরের ৬০টি ট্রেড ইউনিয়নের এক সম্মেলনে ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন সর্বপ্রথম ৮ ঘন্টা কাজের দাবী তোলে। ন্যাশনাল লেবার ইউনিয়ন এর মূল নেতা উইলিয়াম এইচ সিভিস ‘সম্মেলনে’ উক্ত দিনকে তিন ভাগে বিভাজন করে কাজের ঘন্টার দাবী উপস্থাপন করেন এভাবে- We work eight hours, we rest eight hours and other eight hours what we will..l এদাবী দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। দাবীর স্বপক্ষে প্রবল জনমত গড়ে উঠলে ১৮৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট এন্ড্রু জনসনের সমযে় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন সভায় এ দাবীর পক্ষে একটি আইন পাশ হয়। আমেরিকার বিভিন শিল্প প্রতিষ্ঠান আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিযে় এ দাবী মেনে নেয় । কিন্তু আইনটি বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই মাত্র ৪১ বছর বয়সে ১৮৬৯ সালে ইউলিয়াম এইচ সিভিস মৃত্যুবরণ করেন। ফলে ৮ ঘন্টা পক্ষের আইনটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। বরঞ্চ আমেরিকা, কানাডা, ব্রিটেন, ইটালি, জার্মানী, স্পেন প্রভৃতি দেশের মালিক ও সরকার এ দাবীর বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করে। এ অবস্থান ধীরে ধীরে সুদৃঢ় হয়। বিপরীতমূখী অবস্থানে আসে মালিক ও শ্রমিক সমাজ।

  • ১৮৭০ সালে ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, ইটালি, হল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম ও জার্মানীর শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার্কিং ম্যান অরগানাইজেশনকে প্রথম আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
  • ১৮৭২ সালে প্যারিস সিটিতে ৭২ দিনের ধর্মঘট আহ্বান করেন শ্রমিকেরা। ব্রাসেলস-এ স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন এর সদর দপ্তর। এবং ১৮৭৪ সালে উক্ত দপ্তর বদলী করে আনা হয় নিউইয়র্কে।
  • ১৮৭৪ সালে নিউইয়র্কের টমকিন স্কোয়ারে শ্রমজীবীদের জনসভায় পুলিশ গুলিবর্ষণ করে। ১৮৭৫ সালে পেনসিলভেনিয়ায় কয়লাখনি শ্রমিকদের আন্দোলনে গ্রেফতারকৃত ১০ জন নেতার ফাঁসি হয়। নিউইয়র্কে ‘প্রথম আন্তর্জাতিক’র সম্মেলন বাতিল হযে় যায় ১৮৭৬ সালে। ১৮৭৭ সালে

 

আমেরিকার রেল ও ইস্পাত শিল্পের শ্রমিকেরা ধর্মঘটে যোগ দেন।

১৮৮২ সালে জাপানের রাজধানী টোকিওর গাড়ী শ্রমিকেরা ধর্মঘট করে। রাশিয়ার মস্কোর বিখ্যাত কারখানা মারাজভের শ্রমিকেরা ধর্মঘট করে ১৮৮৪ সালে। ১৮৮৬ সালের প্রথম দিকে ফ্রান্সের কয়লা শ্রমিকেরা একটি দীর্ঘ ও তিক্ত ধর্মঘটে অংশ নেয়। ১৮৮৪ সাল থেকে ১৮৮৬ সাল পর্যন্ত মাত্র ২ বছরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ২০০টি শিল্প কারখানায় ৩০৯২টি ধর্মঘট সংঘটিত হয়। লন্ডন ও ব্রাসেলস-এ গ্লাস শ্রমিকেরা এ সময় ধর্মঘট শুরু করে। আমেরিকার সর্ববৃহৎ শ্রমিক সংগঠন ‘নাইটস অব লেবার এর কিছু নেতা শ্রমিকদের ন্যায্য দাবীর বিরোধিতা করে মালিকদের লেজুড়বৃত্তি শুরু করলে দ্রুত অবলুপ্তি ঘটে সংগঠনটির। শক্তিশালী হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন ‘আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার (AFL)। ১৮৮৪ সালের ৭ অক্টোবরে অনুষ্ঠিত শ্রমিক সম্মেলনে AFL ঘোষণা করে ১৮৮৬ সালের ১লা মে থেকে আমেরিকা ও কানাডার শ্রমিকেরা ৮ ঘন্টাকে কাজের দিন হিসেবে পালন করবে।

কিন্তু শাসক গোষ্ঠী ও মালিকপক্ষ এ ঘোষণার বিপরীতে অবস্থান নেয়ায় ১৮৮৫ সালে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকে AFL ১৮৮৬ সালের ১ মে দেশব্যাপী ধর্মঘটের ডাক দেয়। AFL- এর সাধারণ সম্পাদক গাব্রিয়েল এডমনস্টনের আহ্বানে ধর্মঘট সফল করার জন্য সবাই সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বেই এ আন্দোলনের প্রস্তুতি এমন এক পর্যায়ে পৌছায় যে- মালিকপক্ষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। সরকারের সহায়তায় মালিকপক্ষ ধর্মঘট বানচাল করার প্রস্তুতি নেয়। ১৮৮৬ সালের ১৭ এপ্রিল কয়েকটি শ্রমিক সংগঠনের সভায় প্রায় একুশ হাজার শ্রমিক অংশ নেয় । ২৫ এপ্রিলের সভায় প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিকের উপস্থিতিতে আলবার্ট পারসন্স, অগাষ্ট স্পাইজ প্রমুখ শ্রমিকনেতৃবৃন্দ বক্তৃতা রাখেন। আট ঘন্টা দাবির সমর্থন বাড়তে থাকে। উজ্জীবিত হয়ে ওঠে গোটা শ্রমিক সমাজ। ঘনিয়ে আসে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ১৮৮৬ সালের ১মে শনিবার।

আমেরিকা ও কানাডার শ্রমজীবিরা সর্বাত্মক ধর্মঘট পালন করে। আমেরিকার শিকাগো শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় প্রায় ৩ লাখ শ্রমজীবিদের ধর্মঘটে প্রায় অচল করে দেয় শিকাগো শহর। শ্রমিক নেতা আলবার্ট আর পারসন্স ও তার স্ত্রী লুসির নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ মিছিলে প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক অংশ নেয়। ১৩৫০ জন সশস্ত্র জাতীয় গার্ড থাকা সত্বেও উক্ত মিছিলটি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়। আন্দোলনের সাফল্য ও তীব্রতায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে মালিক পক্ষ। শিকাগো শহরে আয়োজিত ১ মে’র বিশাল সমাবেশ থেকে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ঘোষণা দেন যে- ৮ ঘন্টা দাবী না মানা পর্যন্ত লাগাতারভাবে ঘর্মঘট চলবে। আতংকিত হয়ে পড়ে মালিক পক্ষ। তারা গোপনে মেহনতী শ্রমজীবিদের ন্যায্য অধিকারের দাবী বানচাল করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে ওঠে। শিকাগো ট্রিবিউন, নিউইয়র্ক টাইমস শ্রমিক আন্দোলনের বিরুদ্ধে সম্পাদকীয় ও বিভিন্ন রিপোর্ট প্রকাশ করতে থাকে। ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন ছিল রবিবার ২মে। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় অনেক শ্রমিক বিশ্রামে থাকেন। তবে আন্দোলনকে ধরে রাখার জন্য সিনসিন্নাটির শ্রমিক সমাবেশে ঐদিন বক্তৃতা করেন আলবার্ট পারসন্স। ৩ মে সোমবার লাগাতর ধর্মঘটের মনোভাব নিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠানে আসতে থাকে শ্রমজীবীদের ঢল। বাঁধভাঙ্গা স্রোতের মত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মিছিল সভা-সমাবেশে এসে আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। শিকাগো শহরে ম্যাককার্মিক কৃষি যন্ত্রের কারখানায় শ্রমিকেরা শ্রমিক ছাঁটাইয়ের (পর্বে ছাঁটাইকৃত) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ধর্মঘট পালন করে আসছিল। উক্ত কারখানার দিকে অন্য শ্রমিকদের মিছিল আসতেই ধর্মঘটে পালনরত শ্রমিকেরা যোগ দিলে মালিকপক্ষের সহায়তায় পুলিশ আকস্মিক গুলি চালায়; রক্তের বন্যা বয়ে যায় মুহূর্তেই। মারা যান ৬ জন শ্রমিক।

হত্যকান্ডের প্রতিবাদে ঝড় ওঠে আমেরিকা, কানাডা এবং সর্বত্র। এ হত্যকান্ডের প্রতিবাদে প্রধান সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ৪ মে, মঙ্গলবার শিকাগো শহরের হে মার্কেট চত্বরে। সমাবেশ বানচাল করতে মালিকপক্ষ শিকাগো শহরের মেয়র কার্টার হারিসনের সহায়তায় পুলিশ বাহিনী ও গুন্ডাবাহিনী পাঠায়। শ্রমিকনেতা ফিলডেন এর বক্তৃতার সময় হঠাৎ পুলিশ লাঠিচার্জ করে। ঐ মুহূর্তে সংঘর্ষের মধ্যে পুলিশের মাঝে একটি বোমা বিস্ফোরিত হলে একজন পুলিশ সার্জেন্ট ঘটনাস্থলে নিহত হয় ও পরে আহত ৭ জন পুলিশ মারা যায়। শুরু হয় পুলিশ ও মালিকপক্ষের ভাড়াটিয়া গুণ্ডাবাহিনীর তাণ্ডব, বর্বরতা। যৌথ আক্রমণে রক্তাক্ত হয়ে ওঠে হে মার্কেট চত্বর। মারা যায় ৪ জন শ্রমিক এবং আহত হয় প্রায় ২০০ জন। সর্বত্র ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে গ্রেফতার করা হয় শ্রমিক নেতা স্পাইজ, ফিলডেন, মাইকেল স্কোয়ার, জর্জ এঞ্জেল, এডলফ ফিসার, লুইস লিঙ্গে এবং অস্কার নীবেকে। আন্দোলনের মূল নেতা আলবার্ট আর পারসন্সকে পুলিশ হাজার চেষ্টা করেও গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়।

গ্রেফতারকৃত নেতৃবৃন্দের নামে বোমা বিস্ফোরণসহ পুলিশ হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। বিচারের নামে শুরু হয় প্রহসন। আন্দোলনের বিরোধীতাকারীদের মনোনীত করা হয় বিচার কার্যের জুরী হিসেবে। ফলে বিচারের ফলাফল পূর্ব হতে সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

আদালতে বিচারকার্য শুরু হয় ১৮৮৬ সালের ২১ জুন। এক বছর ধরে বিচার কার্য চলে রায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার আদেশ দেয়া হয় স্পাইজ, ফিলডেন, মাইকেল স্কোয়ার, জর্জ এঞ্জেল, এডলফ ফিশার, লুইস লিঙ্গে ও আলবার্ট পারসন্সকে (পারসন্স নিশ্চিত মুত্যু জেনেও বিচার চলাকালীন সময়ে আদালতে আত্মসমর্পন করেন)। আজও প্রমাণিত হয়নি যে- শ্রমিক পক্ষই বোমা নিক্ষেপ করে পুলিশ হত্যা করেছিল। বিচারের বিরুদ্ধে ঝড় ওঠে বিশ্বের সর্বত্র। জনমতের প্রবল চাপে ইলিনয়ের তৎকালীন গভর্নর শ্রমিকনেতা ফিলডেন ও স্কোয়ারের ফাঁসীর আদেশ রহিত করে দীর্ঘমেয়াদী কারাদণ্ড দেন। জেলের ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় ২২ বছরের টগবগে শ্রমিক নেতা লুইস লিংগেকে। জেলখানা কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে- লুইস লিংগে আত্মহত্যা করেছেন। প্রবল চাপের মুখেও স্বৈরাচারী সরকার ন্যায়সঙ্গত দাবীর স্রষ্টা, সর্বকালের শ্রেষ্ঠনেতা আলবার্ট পারসন্স, স্পাইজ, জর্জ এঙ্গেল ও এডলফ ফিশারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর, শুক্রবার শিকাগোর কুক কাউন্টি জেলে। ইতিহাসের পাতায় রক্তাক্ত অক্ষরে রচিত হয় এক নব অধ্যায়, নব চেতনার। যে চেতনার কাছে হেরে যায় সকল কূচক্রী মহল। স্বর্ণচ্ছটায় মূল্যায়ণ করা হয় বীর শ্রমিকদের। বাস্তবায়ন হয় ন্যায্য দাবী। ঐক্য, সংহতি, সংগ্রাম, ত্যাগ ও বিজয় উজ্জীবিত শ্রমজীবীদের রন্দ্রে রন্দ্রে আজও প্রবাহমান। আমেরিকান ফেডারেশন অব লেবার ১৮৮৮ সালের ১লা মে থেকে প্রতিবছর মার্কিন দেশে শ্রমিকদের মিছিল ও সমাবেশের দিন হিসেবে ‘মে দিবস’ উদযাপন করার কথা ঘোষণা করে। ১৮৮৯ সালের ১৪ই জুলাই প্যারিসে সেকেন্ড সোস্যালিষ্ট ইন্টারন্যাশনালের (যা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নামে পরিচিত) প্রথম কংগ্রেসে ঘোষণা করা হয় যে, এখন থেকে প্রতিবছর মে মাসের প্রথম দিনটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস হিসেবে উদযাপিত হবে। সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৮৯০ থেকে আন্তর্জাতিক সংহতি ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন হিসেবে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশে ১মে পালন হয়ে আসছে। সোভিয়েত ইউনিয়নসহ প্রায় সব দেশেই ১ মে May Day বা মে দিবস হিসেবে পালন হলেও যুক্তরাষ্ট্র, ইংল্যান্ড, ইতালি, কানাডা, ও অস্ট্রোলিয়ায় ‘মে দিবস’ নেই, আছে Labour Day বা শ্রমিক Day দিবস। আর কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় এ দিবসটি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সোমবার, জাতীয় ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয়। ইংল্যান্ডে ১ মে’র পরের প্রথম রবিবার হাইউ পার্কে ‘লেবার ডে’ পালন করা হয়। ইটালিতে রোমের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে স্মরণ করা হয় শ্রমিকের অধিকার ও সংহতিকে।

১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর কুক কাউন্টি জেলখানায় যে চারজন নন্দিত শ্রমিক নেতাকে ফাঁসি দেয়া হয় তাঁরা হলেন- আলবার্ট আর পারসন্স, অগাষ্ট স্পাইজ, এ্যাডলফ ফিশার ও জর্জ অ্যাঙ্গেল।

উল্লেখ্য, আলবার্ট আর পারসন্সকে কোন ভাবেই গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়নি সরকার। কিন্তু বিচারের নামে যখন তাঁর সহযোদ্ধাদের ফাঁসিতে ঝোলানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো তখন পারসন্স নিজেই গিয়ে আদালতে হাজির হন এবং বিচারের মুখোমুখি হন। শ্রমিক নেতা লুইস লিংগেকে জেলখানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। মেহনতী মানুষের আকাঙ্খার জীবন্ত প্রতীক এসব শ্রমিক নেতা আজ চিরস্মরণীয় ও বরণীয়। মহাকালের অগ্নিগর্ভে হারিয়ে যায়নি মহান শ্রমিকদের অবদান, আত্মাহুতি। উজ্জীবিত বিশ্বের শ্রমজীবীরা অতি গর্বভরে স্মরণ করে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ অকুতোভয় সেসব শ্রমিক নেতৃবৃন্দকে যাঁদের রক্তে স্নান করে এক ন্যায়সঙ্গত দাবী ও অধিকার আজ প্রতিষ্ঠিত। কুক কাউন্টি জেলে ১১ নভেম্বর ১৮৮৭ শুক্রবার যাঁদের ফাঁসীতে হত্যা করা হয় সংক্ষেপে তাঁদের পরিচয় (সূত্র: উইকিপিডিয়া):

১) অ্যালবার্ট রিচার্ড পার্সনস-অ্যালবার্ট রিচার্ড পার্সনস
২০ জুন, ১৮৪৮ জন্ম গ্রহণ করেন এবং ১১ নভেম্বর, ১৮৮৭ শুক্রবার শিকাগোর কুক কাউন্টি জেলে ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। তিনি ছিলেন একজন অগ্রণী আমেরিকান সমাজতান্ত্রিক এবং পরবর্তীতে নৈরাজ্যবাদী সংবাদপত্র সম্পাদক, বক্তা এবং শ্রমিক কর্মী। কিশোর বয়সে, তিনি আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় টেক্সাসে কনফেডারেট স্টেটস অফ আমেরিকার সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছিলেন । যুদ্ধের পরে, তিনি টেক্সাসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং প্রাক্তন দাসদের অধিকারের জন্য একজন কর্মী এবং পরে পুনর্গঠনের সময় একজন রিপাবলিকান কর্মকর্তা হয়ে ওঠেন । তার স্ত্রী লুসি পার্সনসের সাথে , তিনি ১৮৭৩ সালে শিকাগোতে চলে আসেন এবং সংবাদপত্রে কাজ করেন। সেখানে তিনি শ্রমিকদের অধিকারের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ১৮৮৪ সালে, তিনি দ্য অ্যালার্ম সংবাদপত্র সম্পাদনা শুরু করেন । হেমার্কেট ঘটনা হিসাবে স্মরণ করা পুলিশের উপর বোমা হামলার পর বিতর্কিতভাবে দোষী সাব্যস্ত এবং ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া শিকাগোর চারজন নেতার একজন ছিলেন অ্যালবার্ট রিচার্ড পার্সনস।

২) জর্জ এঙ্গেল –
জর্জ এঙ্গেল ১৫ এপ্রিল, ১৮৩৬ ক্যাসেল , হেসের নির্বাচনী এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং ১১ নভেম্বর, ১৮৮৭ শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের শিকাগোর কুক কাউন্টি জেল খানায় ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়।মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৫১ বছর। তিনি ছিলেন একজন শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মী। তিনি খেলনার দোকানের মালিক ছিলেন। তার সাথে অ্যালবার্ট পার্সনস , অগাস্ট স্পাইস এবং অ্যাডলফ ফিশারকেও মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এঙ্গেলের জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে, তার আরও তিন সন্তান ছিল। তার বাবা কনরাড, যিনি একজন রাজমিস্ত্রি ছিলেন। তিনি মাত্র এক বছর বয়সে বাবা ও ১২ বছর বয়সে মাকে হারান। তাকে এতিম হিসেবে তিনি একটি পালিত পরিবারের সাথে বসবাস করেন। কিন্তু ১৪ বছর বয়সে তাকে কাজ খুঁজতে বাধ্য করা হয়। তিনি জুতা তৈরির কাজে নিযুক্ত হন। তবে স্থির হতে পারেননি। তিনি ফ্রাঙ্কফুর্টে ভ্রমণ করেন এবং অবশেষে একজন চিত্রশিল্পীর শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ খুঁজে পান। তিনি জার্মানির বিভিন্ন স্থানে কাজ করার জন্য ভ্রমণ করেন এবং ১৮৬৮ সালে নিজের একটি ব্যবসা শুরু করেন। একই বছর তিনি বিয়ে করেন, কিন্তু জার্মানির অর্থনৈতিক অবস্থার কারণে বেঁচে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে, তাই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের তার শৈশবের স্বপ্ন অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৮৭২ সালে জার্মানি ত্যাগ করেন এবং ১৮৭৩ সালের জানুয়ারিতে প্রথমে পেনসিলভানিয়ার ফিলাডেলফিয়ায় পৌঁছান , যেখানে তিনি একটি চিনি শোধনাগারে কাজ করেন। ১৮৭৪ সালে, তিনি ফিলাডেলফিয়া ছেড়ে শিকাগো, ইলিনয়ে চলে যান , যেখানে তিনি পরে ১৮৭৬ সালে নিজের খেলনার দোকান খোলেন। একটি কারখানায় কাজ করার সময়, এঙ্গেল প্রথম সমাজতন্ত্রের সাথে পরিচিত হন যখন তার একজন সহকর্মী তাকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সমিতির একটি সভায় নিয়ে যান । তিনি শীঘ্রই যোগ দেন। ১৮৭৮ সালে, সমাজতান্ত্রিক সংগঠনগুলির উপর কঠোর ব্যবস্থার ফলে আইডব্লিউএ ভেঙে যায়, কিন্তু এঙ্গেল আরেকটি সংগঠন, উত্তর আমেরিকার সমাজতান্ত্রিক লেবার পার্টি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অবশেষে, ১৮৮২ সালে তিনি নতুন আন্তর্জাতিক শ্রমিক গণ সমিতিতে যোগদান করেন। হে মার্কেটের ঘটনায় ফৌজদারি মামলায় ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর এঙ্গেলকে ফাঁসিতে ঝুলানো হয়।

৩) অ্যাডলফ ফিশার –
অ্যাডলফ ফিশার ১৮৫৮ ব্রেমেনের মুক্ত শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁকে ১১ নভেম্বর, ১৮৮৭ শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের শিকাগোর কুক কাউন্টি জেল খানায় ফাঁসীতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়। মৃত্যু কালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ২৮-২৯ বছর। তিনি ছিলেন একজন নৈরাজ্যবাদী এবং শ্রমিক ইউনিয়ন কর্মী। পেশায় তিনি একজন প্রিন্টার। তাঁকে হে মার্কেট দাঙ্গার পর দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ফৌজদারি বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল। ১৮৭৩ সালে ১৫ বছর বয়সে অ্যাডলফ ফিশার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসিত হন। তিনি আরকানসাসের লিটল রকে একটি ছাপাখানায় একজন শিক্ষানবিশ সুরকার হিসেবে নিযুক্ত হন । পরবর্তীতে, ১৮৭৯ সালে, তিনি মিসৌরির সেন্ট লুইসে চলে যান , যেখানে তিনি জার্মান টাইপোগ্রাফিক্যাল ইউনিয়নে যোগ দেন এবং ১৮৮১ সালে জোহানা ফাউন্টজকে বিয়ে করেন (তাদের তিনটি সন্তান ছিল – এক মেয়ে এবং দুই ছেলে)। অ্যাডলফ এবং তাঁর স্ত্রী ১৮৮১ সালে টেনেসির ন্যাশভিলে চলে যান, যেখানে তিনি জার্মান অভিবাসীদের জন্য একটি জার্নাল “আনজেইগার ডেস সুডেন্স” – এর সুরকার হিসেবে তার ভাইয়ের সাথে কাজ করেন । ১৮৮৩ সালে, তিনি তার পরিবারকে শিকাগোতে স্থানান্তরিত করেন , যেখানে তিনি অগাস্ট স্পাইস এবং মাইকেল শোয়াব পরিচালিত শ্রমিক-পন্থী সংবাদপত্র আরবেইটার-জেইটুং- এর একজন সুরকার হন। সেই সময় তিনি আন্তর্জাতিক ওয়ার্কিং পিপলস অ্যাসোসিয়েশন এবং লেহর আন্ড ওয়েহর ভেরেইন-এও যোগ দেন , যা শ্রমিকদের আত্মরক্ষার জন্য শেখানোর জন্য গঠিত একটি উগ্র শাখা ছিল।

১৮৮৬ সালের ৩রা মে ম্যাককরমিক রিপার প্ল্যান্টে দাঙ্গার পর, ফিশার লেক স্ট্রিটের গ্রিফস হলে একটি সভায় যোগ দেন, একটি প্রতিক্রিয়া তৈরি করার জন্য। এটি ছিল কুখ্যাত “সোমবার রাতের ষড়যন্ত্র” যা পরের দিন বোমা হামলার পূর্বজ্ঞান প্রমাণ করার জন্য প্রসিকিউশন ব্যবহার করেছিল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জর্জ এঙ্গেল এবং গডফ্রিড ওয়ালার, যিনি সভার সভাপতিত্ব করেছিলেন এবং পরে রাষ্ট্রের পক্ষে দায়মুক্তির বিনিময়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন (বোমা হামলার পরে ওয়ালারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল)। পরের রাতে হেমার্কেটে একটি সভার পরিকল্পনার মাধ্যমে সভাটি শেষ হয়। ফিশারকে সভার ঘোষণার জন্য হ্যান্ডবিল ছাপানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়। ইংরেজি এবং জার্মান ভাষায় মুদ্রিত প্রথম হ্যান্ডবিলগুলিতে “শ্রমিকরা, সশস্ত্র হও এবং পূর্ণ শক্তিতে উপস্থিত হও” এই লাইনটি ছিল। গুপ্তচরদের, যাদের সভায় বক্তৃতা দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তারা এই লাইনটি অপসারণ না করা পর্যন্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল, তাই ফিশার আপত্তিকর লাইন ছাড়াই আরেকটি বিজ্ঞপ্তি তৈরি করেছিলেন।

পরের রাতে ফিশার হে মার্কেটের সভায় যোগ দেন এবং স্পাইস, অ্যালবার্ট পার্সনস এবং স্যামুয়েল ফিল্ডেনের বক্তৃতা শোনেন । ফিল্ডেনের বক্তৃতার শেষের দিকে, তিনি স্থানীয় একটি সেলুন, জেফ’স হলে যান, যেখানে বোমা হামলা এবং এর ফলে দাঙ্গার সময় তিনি ছিলেন। হট্টগোলের পর, তিনি বাড়িতে চলে যান। পরের দিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের মতে, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছে একটি লোডেড রিভলবার, একটি ধারালো ফাইল এবং একটি ফুলমিনেটিং ক্যাপ ছিল , যা বোমা বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হত।বিচারে ফিশারের বিরুদ্ধে যে প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছিল, তার মধ্যে মূলত সোমবার রাতের ষড়যন্ত্রে তার ভূমিকা এবং হেমার্কেট সার্কুলার ছাপানোর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল। লেহর আন্ড ওয়েহর ভেরেইন- এ তার সদস্যপদও তুলে ধরা হয়েছিল। ওয়ালার সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে ফিশারই হেমার্কেট সভার প্রস্তাব করেছিলেন ( ফিশার দাবি করেছিলেন যে এটি ওয়ালার ছিলেন) এবং কোনও সমস্যা হলে তাদের পুলিশকে আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। তিনি আরও সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে ফিশার তাকে এক বছর আগে একটি বোমা দিয়েছিলেন, যা তিনি পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার কথা বলেছিলেন। অন্য একজন সাক্ষী দাবি করেছেন যে বোমা হামলার সময় ফিশার বোমা নিক্ষেপকারীর সাথে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

বাকি আটজনের সাথে ফিশারকেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং কারাদণ্ডপ্রাপ্ত একজন ছাড়া, তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তার দুই সহকর্মী আসামী ইলিনয়ের গভর্নর রিচার্ড জেমস ওগলেসবিকে চিঠি লেখার পর , ফিশার স্পষ্টভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে অস্বীকৃতি জানান। স্পাইস, পার্সনস এবং জর্জ এঙ্গেলের সাথে তাকেও ১৮৮৭ সালের ১১ নভেম্বর ফাঁসি দেওয়া হয় । তার শেষ কথা ছিল, “অরাজকতার জন্য হুররাহ! এটি আমার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত! তাকে এবং হেমার্কেটের অন্যান্য শহীদদের বেশিরভাগকে ইলিনয়ের ফরেস্ট পার্কের ফরেস্ট হোম কবরস্থানের হেমার্কেট শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে সমাহিত করা হয়েছে। অ্যাডলফের মৃত্যুর পর, তার স্ত্রী জোহানা এবং সন্তানরা সেন্ট লুইস এলাকায় ফিরে আসেন, মিসৌরির সেন্ট লুইসের শহরতলী ম্যাপলউডে তার ভাই রুডলফ ফাউন্টজের কাছে থাকতেন।

৪) আগস্ট ভিনসেন্ট থিওডোর স্পাইস –
আগস্ট ভিনসেন্ট থিওডোর স্পাইসের জন্ম ১৮৫৫ সালের ১০ ডিসেম্বর জার্মানির হেসের নির্বাচনী এলাকার ল্যান্ডেকারবার্গ পর্বতের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দুর্গে। যাকে সরকারি ভবনে রূপান্তরিত করা হয়েছিল। তাঁর বাবা ছিলেন একজন সরকারি বন কর্মকর্তা।
আগস্ট ভিনসেন্ট থিওডোর স্পাইস ছিলেন একজন আমেরিকান গৃহসজ্জার সামগ্রী প্রস্তুতকারক, একজন নৈরাজ্যবাদী উগ্র শ্রমিক কর্মী এবং সংবাদপত্র সম্পাদক। স্পাইসকে হে মার্কেট ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় একটি ঘটনায় পুলিশের উপর বোমা হামলার পর হত্যার ষড়যন্ত্রের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল । এই ঘটনার পর ফৌজদারি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে স্পাইস ছিলেন একজন। তাকে ১১ নভেম্বর, ১৮৮৭ শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের শিকাগো কুক কাউন্টি জেল খানায় ফাঁসীতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকর করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিলো ৩১ বছর। আগস্ট স্পাইসের পেশাগুলি ছিলো গৃহসজ্জার সামগ্রী প্রস্তুতকারক , সংবাদপত্র সম্পাদক, রাজনৈতিক দল, সমাজতান্ত্রিক লেবার পার্টি। তাঁর পত্নীর নাম নিনা ভ্যান জ্যান্ড্ট। স্পাইসের একটি আনন্দময় এবং সুবিধাজনক শৈশব কেটেছে, বিনোদন এবং পড়াশোনায় পরিপূর্ণ। তিনি ব্যক্তিগত শিক্ষকদের দ্বারা শিক্ষিত হয়েছিলেন এবং একজন সরকারি বনকর্মী হিসেবে তার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে ক্যারিয়ারের জন্য প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। তবে, ১৮৭১ সালে তার বাবা হঠাৎ মারা যান, যার ফলে তার মায়ের আরামদায়ক আর্থিক পরিস্থিতির অবসান ঘটে এবং আগস্ট আমেরিকায় একটি নতুন জীবনের জন্য যাত্রা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন, যেখানে তার বেশ কয়েকজন আর্থিকভাবে সফল আত্মীয়স্বজন ছিল।

স্পাইস আমেরিকায় শিকাগোতে স্থায়ী হন, যেখানে তিনি একজন গৃহসজ্জার সামগ্রী তৈরির কাজে নিযুক্ত হন এবং ট্রেড ইউনিয়নের কর্মকাণ্ডে নিজেকে জড়িত করেন। তিনি যে অবিচারগুলি প্রত্যক্ষ করেছিলেন তার কারণে, স্পাইস ১৮৭৭ সালে সোশ্যালিস্ট লেবার পার্টিতে যোগ দেন । তিনি এসএলপির উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন; এই গোষ্ঠী সামরিক পোশাক পরে এবং কাঁধে বন্দুক নিয়ে রাস্তায় কুচকাওয়াজ করে পার্টিতে বিভক্তি সৃষ্টি করে। ১৮৮০ সালে এসএলপির ইংরেজিভাষী অংশ সংস্কারবাদী গ্রিনব্যাক লেবার পার্টির সাথে একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করার পর , স্পাইস পার্টির নির্বাহী কমিটির ক্ষমতা দখলে সহায়তা করে এবং আপোষকারীদের বহিষ্কার করে। যখন এসএলপির জাতীয় নেতৃত্ব শিকাগোর উগ্রপন্থীদের নিন্দা করে এবং তাদের সংবাদপত্র আরবিটার-জেইতুংকে তাদের দলীয় অঙ্গসংগঠনের তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়, তখন স্পাইস এসএলপির একটি বিপ্লবী বিকল্প গঠনের নেতৃত্ব দেন। ১৮৮৩ সালে, স্পাইস পিটসবার্গে অনুষ্ঠিত বিপ্লবী কংগ্রেসের একজন নেতা ছিলেন যা আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকায় আন্তর্জাতিক কর্মরত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন চালু করে। স্পাইস ১৮৮০ সালে আরবেইটার-জেইতুং- এর কর্মীদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন এবং ১৮৮৪ সালে সম্পাদক হন। ১৮৮৬ সালের ৩রা মে ম্যাককরমিক হারভেস্টিং মেশিন প্ল্যান্টের বাইরে এক সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্পাইস ধর্মঘটী শ্রমিকদের “একত্রে থাকার, তাদের ইউনিয়নের পাশে দাঁড়ানোর, অন্যথায় তারা সফল হবে না” বলে পরামর্শ দেন। সুপরিকল্পিত এবং সমন্বিত, এই মুহূর্তে সাধারণ ধর্মঘট মূলত: অহিংস ছিল । তবে, কর্মদিবসের শেষ ঘণ্টা বাঁজলে, একদল শ্রমিক ধর্মঘট ভঙ্গকারীদের মোকাবেলা করার জন্য গেটে ছুটে যায় । স্পাইসের শ্রমিকদের শান্ত থাকার আহ্বান সত্ত্বেও, পুলিশ জনতার উপর গুলি চালালে গুলি শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত, দুইজন ম্যাককরমিক শ্রমিক নিহত হন (যদিও কিছু সংবাদপত্রের বিবরণে বলা হয়েছে যে ছয়জন নিহত হয়েছেন)।

স্পাইস পরে সাক্ষ্য দেন, “আমি খুবই ক্ষুব্ধ ছিলাম। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমি জানতাম যে আট ঘন্টার আন্দোলনকে পরাজিত করার জন্যই এই হত্যাকাণ্ড করা হয়েছিল। পরের দিন ৪ মে, হে মার্কেট স্কয়ারের সমাবেশে স্পাইস বক্তৃতা দেন। সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে এবং একটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণ এবং তৎপরবর্তী গুলিবর্ষণের ফলে আটজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অজ্ঞাত সংখ্যক বেসামরিক লোক নিহত হয়। স্পাইসসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, অ্যালবার্ট পার্সনস আত্মসমর্পণ করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে অভিযুক্ত আটজনের কেউই বোমা ছুঁড়ে মারেনি। দ্য প্রেস অন ট্রায়াল অনুসারে , স্পাইস তাঁর বক্তৃতা শেষ করেছিলেন। কিন্তু বোমাটি বিস্ফোরিত হওয়ার সময় তিনি তখনও মঞ্চে ছিলেন। তবে, আটজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল এবং সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। অস্কার নীবে নামে একজনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। বোমা হামলার আগের রাতে গ্রিফস হলের বেসমেন্টে একটি পরিকল্পনা সভায় যোগদানের অভিযোগে অভিযুক্ত চরমপন্থী আসামিরা ছিলেন। যাইহোক, প্রতিরক্ষা আইনজীবী উইলিয়াম এ. ফস্টার বিচারককে এই বলে তার সহকর্মীদের এবং স্পাইসদের হতবাক করে দেন যে বিচ্ছেদের প্রস্তাব বিচার বিলম্বিত করা উচিত নয় এবং এটি কেবল অযৌক্তিক ছিল। স্পাইস অন্য একজন আইনজীবীর কাছে একটি নোট পাঠিয়েছিলেন যাতে লেখা ছিল, “ফস্টারের অর্থ কী? আমি ভেবেছিলাম আমাদের প্রস্তাবটি গুরুত্ব সহকারে করা হয়েছিল।

অ্যালবার্ট পার্সনস পরে নিজেকে আত্মসমর্পণ করেন এবং আটজন আসামীকে দলবদ্ধভাবে বিচার করা হয়। স্পাইস তার নির্দোষতা বজায় রেখেছিলেন এবং আদালতের ব্যয়বহুল ভুল সত্ত্বেও, বিচার, আপিল এবং ফাঁসির মঞ্চে তার সহকর্মীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন। স্পাইস ছিলেন তিন আসামীর মধ্যে একজন, লিং এবং ফিশারের সাথে, যারা বোমা রাখার অভিযোগে জড়িত ছিলেন। স্পাইস সাক্ষ্য দিয়েছিলেন যে, তিনি প্রথমে কৌতূহলবশত: ডিনামাইটটি পেয়েছিলেন । “আমি যেমন রিভলবার নিয়ে অনুশীলন করতে যেতাম ঠিক তেমনই আমি ডিনামাইট নিয়ে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলাম।” তিনি সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার জন্য বিস্ফোরকগুলি হাতে রেখেছিলেন। “প্রতিবেদকরা আমাকে অনেক বিরক্ত করতেন, এবং তারা সর্বদা উত্তেজনার জন্য প্রস্তুত থাকতেন এবং যখন তারা অফিসে আসত তখন আমি তাদের এই জায়ান্ট কার্তুজগুলি দেখাতাম… তারা চলে যেত এবং কিছু বড় চাঞ্চল্যকর নিবন্ধ লিখত।” (জায়ান্ট পাউডার ছিল এক ধরণের ডিনামাইট)।

মুদি দোকানদার মালভার্ন থম্পসন সাক্ষ্য দিয়েছেন যে তিনি স্পাইসকে ক্রেনের অ্যালিতে হে মার্কেট সমাবেশের জন্য প্রস্তুতি নিতে দেখেছেন, যেখানে তিনি স্পাইসকে মাইকেল শোয়াবকে জিজ্ঞাসা করতে শুনেছেন, “আপনার কি মনে হয় একটি যথেষ্ট, নাকি আমাদের আরও বেশি করে নিয়ে আসা উচিত ছিল না?” এবং “পিস্তল” এবং “পুলিশ” এর উল্লেখ করেছেন। থম্পসন সাক্ষ্য দেন যে স্পাইস স্নাউবেল্টের হাতে কিছু দিয়েছিলেন, যিনি তা তার পকেটে ভরে রেখেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী হ্যারি গিলমার সাক্ষ্য দেন যে তিনি স্পাইসকে ওয়াগন থেকে নেমে স্নাউবেল্টের নিক্ষিপ্ত বোমার ফিউজ জ্বালাতে দেখেছেন। তাঁর সাজা ঘোষণার সময় স্পাইস পুলিশ এবং প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের নিন্দা করেছিলেন- “রাষ্ট্র কর্তৃক এমন কোনও প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি যা দেখায় যে বোমা নিক্ষেপকারী ব্যক্তির সম্পর্কে আমার কোনও জ্ঞান ছিল, অথবা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের সাথে আমার নিজের কোনও সম্পর্ক ছিল, যদি না, অবশ্যই, আপনি রাষ্ট্রের আইনজীবী এবং ইন্সপেক্টর জন বনফিল্ডের সহযোগীদের সাক্ষ্য, থম্পসন এবং গিলমারের সাক্ষ্য, এর জন্য তাদের যে মূল্য দেওয়া হয়েছিল তার সাথে তুলনা করেন। স্পাইস আরও অভিযোগ করেছেন যে একজন সাক্ষী গুস্তাভ লেগনার, তার দোষ প্রমাণ করতে পেরেছিলেন কিন্তু পুলিশ তাকে হুমকি দিয়েছিল এবং শিকাগো ছেড়ে যাওয়ার জন্য অর্থ প্রদান করেছিল। স্পাইসের ঘুষের দাবি পুনরাবৃত্তি করার জন্য লেগনার আরবিটার-জেইটুং-এর বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছিলেন , তাকে শহর ছেড়ে যেতে বলা হয়েছিল তা অস্বীকার করেছিলেন। লেগনার বলেছিলেন যে শহর ছেড়ে যাওয়ার আগে তিনি স্পাইসকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে তাকে সাক্ষ্য দেওয়া উচিত কিনা এবং তাকে বলা হয়েছিল যে তার প্রয়োজন হবে না।, আরবিটার-জেইটুং একটি প্রত্যাহার মুদ্রণ করতে সম্মত হয়েছিল। ১৮৮৭ সালে, স্পাইস এবং তার সহ-আসামিরা ইলিনয় সুপ্রিম কোর্টে (১২২ ইল. ১) আপিল করেন, তারপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে , যেখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করেন জন র‍্যান্ডল্ফ টাকার , রজার অ্যাটকিনসন প্রাইর , জেনারেল বেঞ্জামিন এফ. বাটলার এবং উইলিয়াম পি. ব্ল্যাক । মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে (১২৩ ইউএস ১৩১) সার্টিওরারি (ভুলের রিট) আবেদনটি খারিজ করে দেয় ।

১৮৮৭ সালের জানুয়ারিতে, কারাগারে থাকাকালীন, স্পাইস নিনা ভ্যান জ্যান্ড্টকে (১৮৬২-১৯৩৬) বিয়ে করেন। তিনি ভাসার কলেজের স্নাতক এবং একজন ধনী শিকাগো রসায়নবিদ এর একমাত্র সন্তান ছিলেন। তিনি শিকাগো নাইটস অফ লেবারের বিচারের উপর একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন । আগস্ট ভিনসেন্ট থিওডোর স্পাইস, অ্যালবার্ট পার্সনস, অ্যাডলফ ফিশার এবং জর্জ এঙ্গেলকে পরের দিন, ১১ নভেম্বর, ১৮৮৭ সালে ফাঁসি দেওয়া হয় । ফাঁসির মঞ্চে যখন তিনি মৃত্যুর মুখোমুখি হচ্ছিলেন , তখন স্পাইস চিৎকার করে বলেছিলেন , “এমন দিন আসবে যখন আমাদের নীরবতা আজ তোমরা যে কণ্ঠস্বরকে শ্বাসরোধ করেছো তার চেয়েও শক্তিশালী হবে।

সহায়ক গ্রন্থঃ
(ক) ভট্টাচার্য, কেদারনাথঃ মে দিবসের কাহিনী ও ঐতিহ্য, কোলকাতা
(খ) দত্ত, শেখরঃ যে দিবসের কথা ও বাংলাদেশের শ্রমিক শ্রেণী, ঢাকা
(গ) ঘোষ, শিভদাসঃ শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গ, কোলকাতা (ঘ) পান্না, মোস্তফাঃ বাংলাদেশের শ্রমজীবি মানুষ, একাডেমী, ঢাকা (ড) চট্টোপ্যাধায়, গৌতমঃ বিশ্ব শ্রমিক আন্দোলনের গোড়ার কথা, ঢাকা- কোলকাতা (চ) সাহা, ডাঃ পঞ্চাননঃ বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের ইতিহাস, কলকাতা (ছ) এঙ্গেলস মজুরী প্রথা- মস্কো। (জ) বক্তৃতা- বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ বিলস। ঝ) উইকিপিডিয়া।

ফিচার রাইটার
খান আখতার হোসেন
পরিচালক (অব.),
শ্রম অধিদপ্তর, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।