দুর্নীতির অভিযোগে ভরা শুনানিতে পুলিশের নাম নেই তালিকায়
জনআস্থার প্রতীক দিনাজপুর পুলিশ
দিনাজপুর আজ এক নতুন আলোয় উদ্ভাসিত। কারণ এখানে নীরবে চলছে এক বিপ্লব—সততা, আস্থা ও সেবার বিপ্লব, যার নেতৃত্বে আছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফত হোসেন। তাঁর যোগদানের পর থেকেই দিনাজপুরে আইন-শৃঙ্খলার চিত্র পাল্টে গেছে। অতীতের ভয়ভীতির শহর আজ নিরাপত্তার প্রতীকে রূপ নিয়েছে। দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার বাইরে গোটা জেলার পরিবেশ আজ অনেক বেশি শান্ত, সুশৃঙ্খল ও মানবিক। মানুষ আবার বিশ্বাস করতে শিখেছে—‘পুলিশ জনগণের বন্ধু’।
এই আস্থারই বাস্তব প্রমাণ মিলেছে দিনাজপুরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আয়োজিত গণশুনানিতে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিরুদ্ধে মোট ১৬৯টি অভিযোগ দায়ের হলেও, দিনাজপুর জেলা পুলিশের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও ওঠেনি। এটি শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি ন্যায় ও সেবার পথে পুলিশের অটল নিষ্ঠার প্রতিচ্ছবি।
সোমবার (১০ নভেম্বর) সকালে দিনাজপুর শিশু একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয় এই গণশুনানি। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন দুদক কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মোহাম্মদ আলী আকবর আজিজি। বিশেষ অতিথি ছিলেন দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) মো. আক্তার হোসেন, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. নুরুল হুদা এবং জেলা পুলিশ সুপার মো. মারুফত হোসেন।
শুনানিতে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীরা বিআরটিএ, পাসপোর্ট অফিস, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, শিক্ষা বোর্ড, গণপূর্ত অধিদপ্তর, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, জেলা কারাগার, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নানা প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেন। তাৎক্ষণিকভাবে কিছু অভিযোগের সমাধান করা হয় এবং বাকি অভিযোগগুলোর তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হয়।

দুদক সূত্র জানায়, মোট ১৬৯টি অভিযোগ জমা পড়ে, যার মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১২৮টির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় হলো—এত অভিযোগের মাঝেও পুলিশের নামে একটি অভিযোগও আসেনি। এটি দিনাজপুর জেলা পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থার এক অসামান্য উদাহরণ।
গণশুনানিতে কাহারোল থেকে আগত ইন্দ্রনাথ রায় বলেন, “আজকের দিনটা আমাদের গর্বের দিন। সরকারি অনেক দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও, পুলিশের নামে কোনো অভিযোগ নেই। জেলার মানুষ আজ বুঝতে পারছে, পুলিশ সত্যিই পরিবর্তিত হয়েছে—তারা এখন জনগণের পাশে আছে।”
পুলিশ সুপার মো. মারুফত হোসেন বলেন, “দিনাজপুর জেলা পুলিশ শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাই নয়, জনগণের আস্থা ও সেবার মানোন্নয়নে নিরলস কাজ করছে। আমাদের এই অর্জন পুলিশ বাহিনীর সম্মানকে আরও উঁচু করেছে। এই স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসই আমাদের আসল শক্তি।”
দুদক কমিশনার মিঞা মোহাম্মদ আলী আকবর আজিজি বলেন, “গণশুনানির মূল লক্ষ্য হলো জনগণের অভিযোগ শোনা ও দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করা। দিনাজপুর পুলিশের এই উদাহরণ অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার।”
দিনাজপুর আজ শুধু একটি জেলার নাম নয়, এটি একটি মূল্যবোধের প্রতীক—যেখানে কর্তব্যই শ্রেষ্ঠ ধর্ম। পুলিশ সুপার মো. মারুফত হোসেন ও তাঁর টিম প্রমাণ করেছেন, যখন সেবার মানসিকতা সততার সঙ্গে মিশে যায়, তখন প্রশাসনই পরিণত হয় আস্থার প্রতিমূর্তিতে।
দিনাজপুরের মানুষ এখন গর্বের সঙ্গে বলতে পারে—“আমাদের পুলিশ আমাদের গর্ব, আমাদের নিরাপত্তা।



আপনার মতামত লিখুন