অব্যাহতির পর একই পদে ফের যোগদান, বিএমডিএ সহকারী প্রকৌশলীকে ঘিরে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ
রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)-তে এক সহকারী প্রকৌশলীর চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়ার পর একই পদে পুনরায় যোগদানকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির অভ্যন্তরে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
অভিযোগে জানা যায়, বিএমডিএর সহকারী প্রকৌশলী এএসএম দেলোয়ার হোসেন ২০১০ সালে তানোরে কর্মরত অবস্থায় স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি চান। সে সময় তিনি কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ জমা দিয়ে অব্যাহতি গ্রহণ করেন বলে নথিপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্মারক অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১১ মে জারি করা এক অফিস আদেশে তার অব্যাহতির আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে একই বছরের ২৯ জুলাই আরেক আদেশে তাকে পঞ্চগড় রিজিয়নের বোদা জোনে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিএমডিএর চাকরি বিধিমালায় বলা আছে, স্বেচ্ছায় অব্যাহতি নেওয়া কোনো কর্মকর্তা পুনরায় চাকরিতে যোগ দিতে চাইলে তা বোর্ড সভার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনুমোদিত হতে হবে এবং পদাবনতি কার্যকর হওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, সে সময় কোনো বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাকে পুনরায় নিয়োগ দেওয়া হয়।
এছাড়া আরও অভিযোগ উঠেছে, পুনঃযোগদানের পর তিনি সহকারী প্রকৌশলী পদে বহাল থাকার পাশাপাশি পরবর্তীতে নির্বাহী প্রকৌশলী (সেচ) পদে পদোন্নতি পান, যা নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে নিয়মবহির্ভূতভাবে তাকে পুনর্বহাল করা হয়েছিল এবং এটি প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।
এ বিষয়ে বিএমডিএর নির্বাহী পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আবু সাঈদ মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, “সে সময় কীভাবে নিয়োগ বা পুনঃযোগদান হয়েছে, সে বিষয়ে আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রকৌশলী এএসএম দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিএমডিএর একাধিক প্রকৌশলী জানান, বিষয়টি নিয়ে সংস্থার ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



আপনার মতামত লিখুন