সম্পত্তি বিরোধ, দখল ও মামলায় স্থবির ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান
একসময় এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা ও ধর্মীয় কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান বর্তমানে মালিকানা বিরোধ, দখল এবং আইনি জটিলতার কারণে নানা সংকটে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ টাকার মেশিনারিজ সামগ্রী রয়েছে। উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মাসে এক থেকে দুইবার ৮ থেকে ১০ মণ পাট আমদানি করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির আওতায় একটি মাদ্রাসা, দুটি মসজিদ এবং একটি উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালিত হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে বিদ্যালয়টিকে তিনতলা ভবনে উন্নীত করা হয়। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফারুকের নেতৃত্বে এলাকার মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ফলাফল অর্জন করছে বলে স্থানীয়রা জানান।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে বসবাসরত প্রায় একশত পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অনেকে পুনরায় সেখানে ফিরে এসে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেছে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা স্বত্বাধিকারী প্রয়াত আব্দুর রবের মৃত্যুর পর প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তানদের মধ্যে মালিকানা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে তাঁর মালিকানার একটি অংশ দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও মার্কেন্টাইল ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. আহসান উল্লাহ (শহীদ) এবং চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র আক্তার হোসেন ফয়সলের কাছে বিক্রি করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক আব্দুস সোবাহান।
বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ভূ-সম্পত্তির মালিকের সংখ্যা প্রায় ৩০ থেকে ৪০ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে, প্রতিষ্ঠানের সার্বিক মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রয়াত আব্দুর রবের ছেলে টিটু আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় ক্রয়কৃত সম্পত্তির মালিকরা জমির পূর্ণ ভোগদখল কিংবা উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির প্রায় এক একর জমি অবৈধভাবে দখল হয়ে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের দাবি, চৌমুহনী হকার্স মার্কেটের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবুল কাশেম ওই জমি দখল করেছেন। তবে আবুল কাশেম অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি কোনো অবৈধ দখলের সঙ্গে জড়িত নন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধ, মামলা এবং দখলসংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সম্ভাব্য উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারা দ্রুত আইনি নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



আপনার মতামত লিখুন