আবারো বিসিবিতে খালেদ মাহমুদ সুজন
ঢাকার ডাক স্পোর্টস ডেস্ক: বোর্ড পরিচালক না হলেও আবার বিসিবির সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এবার বিসিবির বয়সভিত্তিক দলগুলোর কনসালটেন্ট হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কনসালটেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সুজন। এরই মধ্যে টুকটাক কাজও শুরু করেছেন।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু বিসিবির নতুন এইজ গ্রুপ ক্রিকেটের চেয়ারম্যান। সেই তিনটি দলের (অনূর্ধ্ব-১৪, অনূর্ধ্ব-১৬ ও অনূর্ধ্ব-১৮) প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করবেন দেশের ক্রিকেটের পরিচিত মুখ সুজন।
২০০৬ সালে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও সুজন ক্রিকেটের সঙ্গেই সম্পৃক্ত ছিলেন। এরপর তিনি নানা পরিচয়ে ক্রিকেটের হয়ে কাজ করেছেন। প্রাথমিক অবস্থায় জাতীয় দলের সহকারী ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন।
তারপর পর্যায়ক্রমে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন। পাশাপাশি তিনি ক্লাব কোচিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের প্রধান শক্তি আবাহনী এবং অন্যতম বড় দল প্রাইম ব্যাংকের হয়ে টানা ১৪/১৫ বছর ক্লাব কোচিং করেছেন সুজন।তাকে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ হিসেবেও দেখা গেছে। কখনো কখনো আবার টেকনিক্যাল ডিরেক্টর এবং ভারপ্রাপ্ত কোচের দায়িত্বও পালন করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি বোর্ড পরিচালকও হন। নাজমুল হাসান পাপনের অধীনে শেষ দুই পরিচালক পর্ষদের অন্যতম সদস্যও ছিলেন খালেদ মাহমুদ।ওই সময়ে বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্টের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি গেম ডেভেলপমেন্টের প্রধান থাকাকালীন ২০২০ সালে বাংলাদেশ বিশ্ব যুব (অনূর্ধ্ব-১৯) ক্রিকেটে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়। বিসিবির পরিচালক ও গেম ডেভেলপমেন্ট চেয়ারম্যানের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি সিরিজে তাকে বাংলাদেশ জাতীয় দলের টিম ডিরেক্টরের ভূমিকায়ও দেখা গেছে।
তারপর রাজনৈতিক পটভূমির পরিবর্তনের পর সুজন আবার নিজের পুরোনো জায়গা, অর্থাৎ ক্লাব কোচিংয়ে যুক্ত হন। দীর্ঘ এক যুগ আবাহনীর মতো বড় দলের কোচিং করানো খালেদ মাহমুদ সুজন গত দুই বছর ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে ছিলেন নতুন ক্লাব গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের কোচ।
তার অধীনে আজিজুল হাকিম তামিম, জাওয়াদ আবরার, ইফতিখার হোসেন ইফতি, খালেদ হাসান ও মেহেদি হাসানের মতো বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ খেলেছেন। একঝাঁক তরুণকে নিয়ে গড়া সেই গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ২০২৫ সালের প্রিমিয়ার লিগে দুটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী ও বড় ক্লাবকে পিছনে ফেলে সুপার লিগে জায়গা করে নিয়েছিল।
বলে রাখা ভালো, ওই ক্লাবের অন্যতম স্বত্বাধিকারী বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল। খুব স্বাভাবিকভাবেই খালেদ মাহমুদ সুজন যে অল্পবয়সী তরুণদের পরিচর্যা ও বেড়ে ওঠার কাজটা ভালো পারেন, তা তামিম বেশ ভালোভাবেই দেখেছেন, জেনেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখান থেকেই খালেদ মাহমুদ সুজনকে বয়সভিত্তিক দলগুলোর পরামর্শক নিয়োগ দিয়েছেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল।
সুজন জানান, বিসিবির এইজ গ্রুপ ক্রিকেটের কনসালটেন্ট পদে নিয়োগ পেলেও বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তাকে অন্যত্র কোচিং করার অবাধ সুযোগ দিয়েছেন। সুজন ক্লাব ক্রিকেট, বিপিএল এবং রাজশাহীতে পরিচালিত তার ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন। মাসে ১০-১২ দিন সেখানে কাটাতে হয়, সেগুলোও করতে পারবেন।



আপনার মতামত লিখুন