খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

লটকন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত

হাবিব হাসান, ভালুকা(ময়মনসিংহ)
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ৩:২০ অপরাহ্ণ
লটকন চাষে সফলতার দৃষ্টান্ত

যে মানুষটি একসময় বিভিন্ন মসজিদ ও মাদ্রাসায় ইমামতি করে সংসারের হাল ধরতেন, আজ তিনি পরিচিত একজন সফল লটকন চাষি হিসেবে। ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার নয়নপুর গ্রামের হাফেজ রোকনউদ্দিন প্রমাণ করেছেন, আন্তরিক চেষ্টা আর সঠিক পরিকল্পনা থাকলে কৃষিও হতে পারে সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা।

প্রায় আট বছর আগে মাত্র ৩০টি লটকনের চারা রোপণ করে শুরু হয়েছিল তাঁর পথচলা। প্রথমদিকে কাঙ্ক্ষিত ফলন না পাওয়ায় নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল। কিন্তু হতাশ না হয়ে তিনি ফলনশীল গাছ নির্বাচন, কলম তৈরি ও পরিচর্যার নানা কৌশল নিজেই রপ্ত করেন। সেই প্রচেষ্টার ফলেই আজ তাঁর চার বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে দুটি বাণিজ্যিক লটকনের বাগান। তাঁর নির্বাচিত উন্নত জাতটি স্থানীয়ভাবে ‘নয়নপুরী লটকন’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
সরেজমিনে বাগানে গিয়ে দেখা যায়, গাছগুলো থোকায় থোকায় পাকা লটকনে ভরে আছে। ফলের ভারে অনেক ডাল মাটির দিকে ঝুঁকে পড়েছে। বাগানের এমন দৃশ্য দেখতে যেমন মন ভরে যায়, তেমনি ব্যবসায়ীদের কাছেও এটি আকর্ষণের কেন্দ্র। মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা বাগানে এসে ফল কিনে নিচ্ছেন। পাশাপাশি উন্নত জাতের কলম সংগ্রহে প্রতিদিনই আসছেন বিভিন্ন এলাকার কৃষক।
হাফেজ রোকনউদ্দিন বলেন, “শুরুতে অনেক গাছ পুরুষ হওয়ায় ভালো ফলন পাইনি। তখন নিজেই কলম করার পদ্ধতি শিখি। পরে ভালো ফলন দেওয়া গাছ থেকে কলম তৈরি শুরু করি। এখন শুধু ফল নয়, কলম বিক্রিও আমার আয়ের বড় উৎস হয়ে উঠেছে।”
তিনি জানান, এক বছরের কলম ১০০ টাকা এবং দেড় থেকে দুই বছরের কলম ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে প্রতি মণ লটকন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০০ টাকায়। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ হাজার টাকার লটকন বিক্রি করেছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক আব্দুস সালাম বলেন, “রোকনউদ্দিনের বাগানের লটকনের ফল বড়, মিষ্টি এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই তাঁর কাছ থেকে ১০০টি কলম কিনেছি। ভবিষ্যতে আরও বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে।”
ভালুকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুসরাত জামান বলেন, “লটকন চাষে ভালুকার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার মাটি ও জলবায়ু এই ফলের জন্য উপযোগী। রোকনউদ্দিনের মতো উদ্যোক্তারা উন্নত জাতের কলম উৎপাদন করে অন্য কৃষকদের উৎসাহিত করছেন। কৃষি বিভাগ নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।”
ইমামতির পেশা থেকে কৃষি উদ্যোক্তা—হাফেজ রোকনউদ্দিনের এই পথচলা এখন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। তাঁর বাগান দেখেই অনেক কৃষক বাণিজ্যিকভাবে লটকন চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। স্থানীয়দের আশা, এমন উদ্যোগ বাড়লে ভালুকা একসময় উন্নত মানের লটকন উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পাবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।