খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

রাকসু ভবনে হামলা ঘিরে রাবিতে উত্তেজনা: জিএসসহ আহত ৪ প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাকসু নেতাদের অবস্থান, তদন্ত কমিটির আশ্বাস উপাচার্যের

রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
রাকসু ভবনে হামলা ঘিরে রাবিতে উত্তেজনা: জিএসসহ আহত ৪  প্রশাসনিক ভবনের সামনে রাকসু নেতাদের অবস্থান, তদন্ত কমিটির আশ্বাস উপাচার্যের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী পরিচয়ে এক ব্যক্তির হামলায় রাকসুর জিএসসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দফায় দফায় সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও বিক্ষোভ হয়েছে।

সোমবার [২৭ জুলাই] বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাকসু ভবন ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস এবং সংস্কৃত বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রক্টর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে সংস্কৃত বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগের বিষয়ে আলোচনা করতে প্রক্টর দপ্তরে আসেন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ও বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত আনাস। এ সময় প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবর রহমানের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। প্রক্টর তাকে দপ্তর থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। পরে তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে তাকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

আজ দুপুর ১২টার দিকে অভিযুক্ত মহসিন আলমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রক্টর দপ্তরে তলব করা হয়। এ সময়ও আনাস সেখানে উপস্থিত হন এবং প্রক্টরের সঙ্গে ফের বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তাকে মারধর করেন।

পরে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পুলিশ তাকে আটক করতে প্রক্টর দপ্তরে এলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে পুলিশকে ফিরিয়ে দেয়।

অভিযোগ উঠেছে, প্রক্টর দপ্তর থেকে ছাড়া পাওয়ার কিছুক্ষণ পরই আনাস কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রাকসু ভবনে অতর্কিত হামলা চালান। এতে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব আহত হন। হামলার পর উভয় পক্ষ কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের দিকে চলে যায়। সেখানে মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে আনাস ও তার সঙ্গীরা গ্রন্থাগারের রিডিং রুমে আশ্রয় নেন। পরে রাকসু ও শিবিরের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশ করে তাদের মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান ও জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে আহত আনাসকে হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তার ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনার পর সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘সেইফ এক্সিট’ দেওয়ার অভিযোগ তুলে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন রাকসু ও হল সংসদের নেতারা। পরে উপাচার্যের সঙ্গে তাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনাস বলেন,আজ আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারা শুরু করে। পরে আমরা লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর আম্মার লোকজন নিয়ে এসে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার ওপর ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে। তিনি নিজেকে সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী নন বলে দাবি করে বলেন, বন্ধুরা ছাত্রলীগ করতো বলে তাদের সঙ্গে ছবি থাকতে পারে, তবে ব্যানার-ফেস্টুনে তার ছবি নেই।

আহত রাকসুর তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক নাজমুস সাকিব বলেন,আনাস ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীসহ রাকসু ভবনে এসে জিয়া হলের জিএস আরিফকে খুঁজতে থাকে। আমি বলি, আরিফ জিয়া হলে থাকবে, রাকসু ভবনে কেন? এরপর আনাসসহ কয়েকজন রাকসু জিএসের কক্ষে গিয়ে তার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়ায় এবং হামলা করে লাইব্রেরির দিকে চলে যায়। প্রক্টর স্যার ওদের সেইফ এক্সিট দিয়েছেন।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ওই নেতাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানাই। তবে তারা কিছুই করেনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম বলেন,আমরা খুব দ্রুত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব। পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। আজকের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ জানানো হবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।