জাল জালিয়াতির অভিযোগ: নওগাঁয় মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের এমপিও স্থগিত
নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ধামইরহাট সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রবিউল আলমের বিরুদ্ধে গুরুতর জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর বেতন-ভাতা (এমপিও) সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে এবং স্থায়ীভাবে কেন তা বন্ধ করা হবে না, সেই মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখা থেকে গত ২৭ জুলাই, ২০২৬ তারিখে এই সংক্রান্ত পত্রটি জারি করা হয়। মাদ্রাসার জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬-এর ১৭.২.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জুলাই/২০২৬ মাসের এমপিও যাচাই-বাছাইকালে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রবিউল আলম নিয়োগ বোর্ড গঠনপূর্বক ভুয়া ফলাফল শিট তৈরি করেন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে জালিয়াতির আশ্রয় নেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে সুরাইয়া আক্তার নামে একজনের নতুন এমপিওভুক্তির আবেদন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। পরবর্তীতে অধিদপ্তরের যাচাই-বাছাই কমিটি আবেদনটি পরীক্ষা করে মহাপরিচালকের প্রতিনিধির নাম ও স্বাক্ষর জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হয় এবং আবেদনটি বাতিলের সুপারিশ করে। এ বিষয়ে গভর্নিং বডির সদস্য শাহান চৌধুরী অভিযোগ করে বলেন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম লিটন নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত আছেন। এদিকে, এই বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী তাহমিমা শারমিনের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এই বিষয়ে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) ও এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মাদ শুকুর আলম মজুমদার স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৩ (তিন) কার্যদিবসের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে জালিয়াতির বিষয়ে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়া না গেলে বা জবাব সন্তোষজনক না হলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



আপনার মতামত লিখুন