খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

স্বচ্ছ ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬, ৬:৫৬ অপরাহ্ণ
স্বচ্ছ ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন: পরিবেশমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা করে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর কার্বন মার্কেট গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’-এর ওপর আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফাহমিদা খানম।

পরিবেশমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক কার্বন মার্কেট বাংলাদেশের জন্য জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং পরিবেশবান্ধব বিনিয়োগের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তবে এ মার্কেটের কার্যক্রমে পরিবেশগত অখণ্ডতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্থানীয় জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের ন্যায্য সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা Nationally Determined Contributions (NDCs) বাস্তবায়নে কার্বন মার্কেট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এ জন্য গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ হ্রাস ও অপসারণ কার্যক্রমের সঠিক হিসাব, যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

প্যারিস চুক্তির আওতায় Article 6 Designated National Authority (A6 DNA) হিসেবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং বিশ্বব্যাংকের Partnership for Market Implementation (PMI) কর্মসূচির সহযোগিতায় ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেসরকারিভাবে বাংলাদেশ কার্বন ট্রেডিং সীমিত পর্যায়ে শুরু হলেও সরকারিভাবে আমরা এখনও শুরু করতে পারি নি। যতটা দ্রুত সম্ভব এটা শুরু করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।আগামী ডিসেম্বর- জানুয়ারি মাসে উপকূলীয় এলাকায় ২ কোটি বৃক্ষরোপন করা হবে। এখান থেকে কিভাবে বাংলাদেশ কার্বন ক্রেডিট পেতে পারে সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো: সাইমুম পারভেজ বলেন, কার্বন মার্কেটে আমরা এখনও প্রবেশ করতে পারি নি। দ্রুততম সময়ে কিভাবে কার্বন মার্কেটে প্রবেশ করা যায় সে বিষয়ে কাজ করতে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরামর্শ দেন।

সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে ফ্রেমওয়ার্কটি আরও কার্যকর ও বাস্তবায়নযোগ্য করা হবে। এর মাধ্যমে কার্বন ক্রেডিটের অনুমোদন, হিসাবরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও মুনাফা বণ্টনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে উঠবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ধরিত্রী কুমার সরকার ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ এর খসড়ার পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপন করেন।

সভায় অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, সেতু বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।সভায় অংশগ্রহণকারীরা প্রস্তাবিত ফ্রেমওয়ার্কের বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন। প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে ‘বাংলাদেশ কার্বন মার্কেট ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

ঢাকার ডাক নিউজ/এস

 

অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

ঢাকার ডাক বিনোদন ডেস্ক: অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। অস্কারের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য সিনেমাটিকে বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাংলাদেশের নির্বাচিত সিনেমা হিসেবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করেন।

অস্কার বাংলাদেশ কমিটি জানিয়েছে, ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এগুলো হলো—রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।

তবে পরবর্তী সময়ে ‘মানুষের বাগান’ স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে বাকি চারটি চলচ্চিত্র নিয়ে পর্যালোচনা করে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। চলচ্চিত্রগুলোর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য ‘রইদ’ সিনেমাকে চূড়ান্ত করা হয়।

ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটিতে ছিলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।

রইদ’ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়। এবার ‘রইদ’-এর মাধ্যমে অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এই নির্মাতা।

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে সিনেমা পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘রইদ’। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে সিনেমাটি।অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের আয়োজনে ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অস্কারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে ২৪টি শাখায় দেওয়া হবে এই পুরস্কার।