খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

ইকো-ট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা: সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সেমিনার

বাদশা মিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৫৩ অপরাহ্ণ
ইকো-ট্যুরিজমে নতুন সম্ভাবনা: সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সেমিনার

দেশের পর্যটন খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে ইকো-ট্যুরিজমের প্রসারে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব এবং পারস্পরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল ১০টায় আগারগাঁওয়ের পর্যটন ভবনে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত ‘ইকো-ট্যুরিজম প্রসারে সরকারি-বেসরকারি খাতের অংশীদারিত্ব ও সচেতনতা বৃদ্ধি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. আব্দুর রউফ, এনডিসি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের পর্যটন খাতে প্রত্যাশিত উন্নয়নের নজির কম। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে কাজ করছে।

তিনি বলেন, সরকারের প্রথম পাঁচ মাসেই পর্যটন খাতের উন্নয়নে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠার পথ সহজ নয়। এ লক্ষ্য অর্জনে পর্যটন খাতের সব অংশীজনের সহযোগিতা প্রয়োজন।

মন্ত্রী আরও বলেন, উন্নয়ন পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা জরুরি। এ জন্য প্রতি মাসে বেসরকারি অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে তথ্যের ঘাটতি ও সমন্বয়হীনতা দূর করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।

দেশের গ্রামীণ পর্যটন সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের লক্ষ্যে রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার মিতিঙ্গাছড়ি, খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী এবং দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগরসহ বিভিন্ন গ্রামকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের ৬৪ জেলার পর্যটন সম্ভাবনাময় স্থানগুলো চিহ্নিত করে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।

সেমিনারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে তথ্যের ঘাটতি দূর করতে ইতোমধ্যে Tourism Satellite Account (TSA)-এর কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ইকো-ট্যুরিজম নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, অতীতে সমন্বয়হীনতার কারণে পর্যটন খাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। সরকারি ও বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় এই সমন্বয়হীনতা দূর করে দেশের পর্যটন খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

সেমিনারে বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা, উন্নয়নের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, কর্মপরিকল্পনা ও করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে ইকো-ট্যুরিজমের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা’ বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

সেমিনারে পর্যটন সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশেষজ্ঞ, অংশীজন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের রইদ

ঢাকার ডাক বিনোদন ডেস্ক: অস্কারের ৯৯তম আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমন পরিচালিত সিনেমা ‘রইদ’। অস্কারের ‘ইন্টারন্যাশনাল ফিচার ফিল্ম বিভাগে প্রতিযোগিতার জন্য সিনেমাটিকে বাংলাদেশ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। অস্কার বাংলাদেশ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজের (বিএফএফএস) সভাপতি ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বাংলাদেশের নির্বাচিত সিনেমা হিসেবে ‘রইদ’-এর নাম ঘোষণা করেন।

অস্কার বাংলাদেশ কমিটি জানিয়েছে, ৯৯তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসে অংশগ্রহণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে মোট পাঁচটি চলচ্চিত্র জমা পড়ে। এগুলো হলো—রেদওয়ান রনির ‘দম’, মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’, নূরুল আলম আতিকের ‘মানুষের বাগান’, মোহাম্মদ তৌকির ইসলামের ‘দেলুপি’ এবং মনিরুল আকাশ হকের ‘দ্য ইউনিভার্সিটি অব চাঁনখারপুল’।

তবে পরবর্তী সময়ে ‘মানুষের বাগান’ স্বেচ্ছায় প্রতিযোগিতা থেকে সরে দাঁড়ায়। ফলে বাকি চারটি চলচ্চিত্র নিয়ে পর্যালোচনা করে অস্কার বাংলাদেশ কমিটি। চলচ্চিত্রগুলোর বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণের পর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য ‘রইদ’ সিনেমাকে চূড়ান্ত করা হয়।

ড. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের অস্কার বাংলাদেশ কমিটিতে ছিলেন সাজ্জাদ শরিফ, শাহীন দিল-রিয়াজ, রাশেদ জামান, সাইয়্যিদ শাহজাদা আল কারীম ও শাহরীন আক্তার সুমি।

রইদ’ নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমনের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। এর আগে তার নির্মিত প্রথম সিনেমা ‘হাওয়া’ দেশ-বিদেশে আলোচিত হয়। এবার ‘রইদ’-এর মাধ্যমে অস্কারের আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্ম বিভাগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছেন এই নির্মাতা।

বাংলাদেশ থেকে অস্কারে সিনেমা পাঠানোর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘রইদ’। পরবর্তী ধাপে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে জমা পড়া চলচ্চিত্রগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করবে সিনেমাটি।অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের আয়োজনে ২০২৭ সালের ১৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৯তম অস্কারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে ২৪টি শাখায় দেওয়া হবে এই পুরস্কার।