খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ভয়াবহ থাবা, পথে বসার শঙ্কায় শত’ খামারি

মোঃ আবু হুরাইরা মিয়া
প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫৪ অপরাহ্ণ
গবাদি পশুর ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ ভয়াবহ থাবা, পথে বসার শঙ্কায় শত’ খামারি

ঝিনাইদহ ছয়টি উপজেলায় শৈলকুপায়, কালিগঞ্জ মহেশপুর, কোটচাঁদপুর, হইনাকুন্ডু ও ঝিনাইদা সদরে গবাদি পশুর মরণব্যাধি ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ বা এলএসডি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা স্থানীয় খামারিদের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এই ভাইরাসজনিত চর্মরোগে আক্রান্ত হয়ে শ’ শ’ গরু অসুস্থ হচ্ছে, আর খামারিরা দেখছেন সর্বনাশের অশনি সংকেত। এমন এক বিপর্যয়কর মুহূর্তে যখন দ্রুত ভ্যাকসিন ও চিকিৎসার প্রয়োজন, তখন খামারিদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত অর্থ চেয়ার-টেবিল আর দুধের ক্যান বিতরণে ব্যয় হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে। এলএসডি, এক নীরব ঘাতক সিনিয়র ভেটেরিনারিয়ান ডা. আব্দুল হাক মিয়া (জিল্লু) এই পরিস্থিতিকে ‘উদ্বেগের কারণ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এলএসডি গরুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং এটি খামারিদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। তিনি আক্রান্ত গরুর যে বিভীষিকাময় লক্ষণগুলো তুলে ধরেন, তা রীতিমতো গা-শিউরে ওঠার মতো। উচ্চ তাপমাত্রার জ্বর: গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৫-১০৭ডিগ্রি ফারেনহাইট হবে। খাবারে অরুচি ও দুর্বলতা: জ্বর আর যন্ত্রণায় গরু খাওয়া-দাওয়া ছেড়ে দিবে, ফলে দ্রুতই হয়ে পড়বে কঙ্কালসার। ভয়াবহ ক্ষত ও পিন্ড: মাথা, ঘাঢ়, পা, ওলান এবং যৌনাঙ্গসহ সারা শরীরে চামড়া ফুলে পিন্ড বা ফোসকা তৈরি হবে, লোম উঠে গিয়ে দগদগে ক্ষত সৃষ্টি হবে। এই পিন্ডগুলো এতটাই বেদনাদায়ক যে গরু নড়াচড়াও করতে পারবে না। অন্ধত্ব ও অসহায়ত্ব: চোখ, নাক ও মুখ দিয়ে অনবরত পানি ও লালা ঝরবে, অনেক সময় গরুর চোখ অন্ধ হয়ে যেতে পারে। পায়ে ফোলা ও পুঁজ রক্ত বের হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে। ডা. মেহেরুল হাসান আরও জানান, এই পক্স ভাইরাস মূলত মশা, মাছি ও অন্যান্য রক্তচোষা কীটপতঙ্গের মাধ্যমে ছড়ায়। এছাড়া আক্রান্ত গরুর লালা, দূষিত সরঞ্জাম, এমনকি আক্রান্ত ষাঁড়ের বীজ এবং গাভীর দুধের মাধ্যমেও এটি ছড়িয়ে পড়তে পারে। যদিও এই রোগের মৃত্যুহার কম বলা হলেও গত কয়েক বছর থেকে এ রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক বাছুর মারা গেছে। এছাড়া আক্রান্ত পশু এতটাই দুর্বল ও শীর্ণ হয়ে যায় যে এর উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়, যা খামারিদের পথে বসিয়ে দেয়। এ রোগে আক্রান্ত পশুর চামড়ার মানও কমে যায়। ও ভ্যাকসিনের বদলে চেয়ার-টেবিল! খামারিদের ফুঁসে পাইকপাড়া গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষক পলাশ হোসেন ও মসলেম মিয়া ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, যখন তাদের চোখের সামনে গরুগুলো প্রতিবছরই ধুঁকে ধুঁকে মরছে, যখন একটি ভ্যাকসিনের জন্য তারা হাহাকার করছেন, ঠিক তখনই পিজি সদস্যদের ১৯টি গ্রুপের জন্য লক্ষ লক্ষ টাকার চেয়ার-টেবিল এবং ৭০০ ডেইরি সদস্যের জন্য অ্যালুমিনিয়ামের বড় আকারের হাইজেনিক ক্যান বিতরণ করা হয়েছে! তাদের প্রশ্ন, এই টাকা দিয়ে যদি এলএসডি রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হতো, তাহলে কি খামারিরা এত বিপদে পড়তেন? যদিও গত ফেব্রুয়ারী মাসে শৈলকুপায় এসে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেস্টা ফরিদা আখতার সুললীত কণ্ঠে খামারীদের অনেক আশ্বাস দিয়েছিলেন”।এই ঘটনা স্পষ্টতই প্রমাণ করে যে, মাঠ পর্যাযের বাস্তবতা এবং খামারিদের প্রকৃত চাহিদা সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা কতটা প্রকট। যখন একটি মহামারির মতো রোগ কৃষকদের জীবিকা ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে এসেছে, তখন এ সকল সামগ্রী বিতরণে সরকারি অর্থ ব্যয় করা চরম দাত্রিত্বহীনতার পরিচয়। এ কারণে শৈলকুপার কৃষকরা এখন দিশেহারা। একদিকে এলএসডির তান্ডব, অন্যদিকে কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা তাদের ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকারের তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জীবন রক্ষাকারী ভ্যাকসিন নাকি বিলাসী চেয়ার-টেবিল? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে ঝিনাইদহের শৈলকুপাসহ ছয়টি উপজেলায় দেশের প্রতিটি প্রান্তে এলএসডি মোকাবেলায় জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রম এবং আক্রান্ত পশুর সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। অন্যথায়, দেশের পশুপালন খাত এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে। সরকারের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, নয়তো এই নীরব ঘাতক শুধু গরুর জীবন নয়, হাজারো খামারির স্বপ্ন ও জীবিকাও কেড়ে নেবে।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।