গাজীপুরে আইনজীবী রেজাউল করিম রাজুর বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার ও সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রিটেইনার পদ থেকে অব্যাহতি পরও তদবিরের অভিযোগ, নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি
গাজীপুর জেলার আইন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক সুবিধা গ্রহণ ও বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আলোচনায় রয়েছেন আইনজীবী রেজাউল করিম রাজু। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গাজীপুর জেলার রিটেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেন। স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১২ সাল থেকে গাজীপুর জেলায় রিটেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তৎকালীন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে তিনি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করেন। বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবহার করে বিশেষ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, রাজধানীর উত্তরা ৬ নম্বর সেক্টরে একাধিক ফ্ল্যাট, গাজীপুর এলাকায় মাছের খামারসহ বিভিন্ন সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন রেজাউল করিম রাজু। এছাড়া ভালুকা এলাকায় সরকারি জমি একটি কোম্পানির নামে দখল ও ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গাজীপুরের গজারিয়া এলাকায় বন বিভাগের একটি পুকুর নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রায় ১৭ বিঘা আয়তনের ওই পুকুরটি আগে ভাওয়াল রাজ এস্টেটের নামে রেকর্ডভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে এটি বন বিভাগের গেজেটভুক্ত হয়। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগ পুকুরটি লিজ দেওয়ার পর গাজীপুর আদালতের রিটেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালনরত রেজাউল করিম রাজু কৌশলে তা লিজ নেন। পরে পরিবারের সদস্যের নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে সেখানে মৎস্য চাষ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে, ৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে প্রায় ছয় মাস তিনি জনসম্মুখে অনুপস্থিত ছিলেন বলে স্থানীয়দের দাবি। বর্তমানে তাকে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ ও তদবির করতে দেখা যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে মোবাইল রিসিভ করেনি এদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, গাজীপুর জেলার রিটেইনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর ইতোমধ্যে রেজাউল করিম রাজুকে ওই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, রেজাউল করিম রাজুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক ,একই সঙ্গে সরকারি সম্পদ, লিজ এবং তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের বৈধ উৎস ও মালিকানা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।



আপনার মতামত লিখুন