৪ শিক্ষার্থীর ইমামতিতে কক্সবাজার মেডিকেলে খতমে তারাবীহ পরিচালিত
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে (কক্সএমসি) তে বিভিন্ন বর্ষে অধ্যয়নরত চারজন শিক্ষার্থীর ইমামতিতে প্রথবারের মতো শুরু হয়েছে খতমে তারাবীহ। মেডিকেল কলেজের মসজিদে এ তারাবীহ চলছে। ইমামতি করছেন কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ আহসান শাকীক, ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিম।
হাফেজ তাউসিফ করীম বলেন, ‘হাফেজ হওয়ার পর থেকে টানা নয় বছর তারাবীহ পড়িয়েছি। সারাবছরের একাডেমিক পড়াশোনার চাপে হিফজুল কুরআনের পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয় না। তারাবীহ হলো একজন হাফেজের কাছে আল কুরআন রিচার্জের মতো। তারাবীহ ছাড়া কুরআন আয়ত্বে রাখা কষ্টসাধ্য। মেডিকেলে টিকে যাওয়ার পর এই আশঙ্কায় ছিলাম যে, রমাদানে তারাবীহ পড়াতে পারবো কিনা। মেডিকেলে ক্লাস আর পরীক্ষার পাশাপাশি তারাবীহর জন্য আলাদা প্রস্তুতি নেওয়া আসলেই কঠিন। আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর অশেষ রহমতে এইবার রমাদানে কক্সএমসিতে সিনিয়র হাফেজ ভাইদের সাথে খতমে তারাবীহর ইমামতিতে অংশ নিয়েছি। এজন্য আমি প্রথমত আল্লাহর দরবারে এবং দ্বিতীয়ত কক্সএমসি পরিবারের কাছে কৃতজ্ঞ।’
হাফেজ ইমতিয়াজ জানান, ‘প্রকৃতপক্ষে হাফেজ হওয়ার পিছনে আল্লাহ তায়ালার রহমত তো ছিলই, তার পাশাপাশি আম্মুর ইচ্ছা এবং প্রচেষ্টা ছিল অন্যতম সহায়ক। হাফেজ হবার পাশাপাশি মাদ্রাসা বিভাগ থেকে মেডিকেলে চান্স পাওয়া ছিল আমার জন্য অন্যতম সৌভাগ্যের বিষয়, আলহামদুলিল্লাহ। প্রতিবারের ন্যায় এবারও খতমে তারাবির আয়োজন করা করে নামাজ পড়ানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন ইমতিয়াজ।
কক্সবাজার মেডিকেলের ১৬তম ব্যাচের একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বলেন, ‘বসন্তে কোকিল যেমন, রমাদানে হাফেজ তেমন। তিনি বলেন, ‘তারাবীর প্রথম দিন প্রথম রাকাআতে পঞ্চম বর্ষের হাফেজ শাকিক ভাইয়ের হৃদয়স্পর্শী তিলাওয়াত শুনে অজান্তে আমার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকে, আমি বুঝতেও পারিনি কেন এমন হয়েছে। এ হয়ত মহামহিম খোদাতায়ালার বাণীর প্রভাব, যা ভাইয়ার কণ্ঠনিঃসৃত হয়ে আমার অন্তর প্রকম্পিত করেছে। কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ মসজিদে হাফেজ আহসান শাকীক, হাফেজ হাসানাত আব্দুল্লাহ, হাফেজ ইমতিয়াজ হোসেন ও হাফেজ মাওলানা তাউসিফ করিমের সুমধুর-সুরেলা কন্ঠে টানা ২৭ রমজান পর্যন্ত পরিচালিত হবে এই খতমে তারাবিহ।



আপনার মতামত লিখুন