খুঁজুন
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২ আশ্বিন, ১৪৩৩

মাস্তানি, চাঁদাবাজি, হুমকি-ধামকি ও লুটপাটের অভিযোগ- নীরব হাইকমান্ড

টংগীতে ভয়ংকর বিএনপি নেতা মামলাবাজ জিএস স্বপন

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ মে, ২০২৫, ৮:৪০ অপরাহ্ণ
টংগীতে ভয়ংকর বিএনপি নেতা মামলাবাজ জিএস স্বপন

গত ৫ অগাস্ট বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গাজীপুর মহানগরের টঙ্গীতে সারাদেশের মতো জ্বালাও পোড়াও এর মতো ঘটনা বিএনপির নাম ব্যবহার করে এলাকার নিরিহ ব্যবসায়ীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে লুটপাটের অভিযোগ টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্রদলের সাবেক জি এস স্বপনের বিরুদ্ধে। বেশ কিছুদিন ধরে শুরু করেছেন নতুন ব্যবসা মামলা বাণিজ্য। গত ৫ আগস্টের পর ঢাকার বিভিন্ন থানায় নামে বেনামে যত মামলা হয়েছে সব মামলার বাদি এই জিএস স্বপন মনোনিত লোকজন। তার মামলা থেকে বাদ যায়নি আওয়ামী লীগ, বিএনপি, এমনকি এলাকার সাধারণ জনগণও। উদ্দেশ্য একটাই, আসামি দের কাছ থেকে টাকা নিয়ে মামলায় নাম কাটানোর ব্যবসা।

গাজীপুরের টঙ্গীর শান্ত জনপদকে অশান্ত করে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছেন পদহীন টঙ্গী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস স্বপন। ৭ তারিখের পর থেকে টঙ্গীতে আওয়ামী লীগ সমর্থককদের বাড়িঘর ছাড়াও সাধারণ ব্যবসায়ীদের মালামাল লুটপাট চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন। পাইলট মার্কেটে এক নিরিহ ব্যবসায়ীর দোকান দখলসহ তার দোকানে থাকা ১৫ লক্ষ টাকা ক্যাশ, ৪টা ফ্রীজসহ সকল মালামাল নিয়ে গেছে। কেউ কিছু বললেই বলে আমি এই এলাকায় বিএনপির সব থেকে বড় নেতা। তার রয়েছে নিজস্ব একটা বাহিনী। আওয়ামী লীগের ১৬ বছরে সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে এমন কোন সুবিধা নাই যা তিনি গ্রহণ করে নাই। বিএনপি ১৬ বছরের অপেক্ষাকে ম্লান করে দিয়েছে এই জিএস স্বপন। গভীর রাতে সাত্তার মোল্লার পুকুর থেকে মাছ ডাকাতির প্রমান রয়েছে। এছাড়া বিপুল পরিমান টাকা না দেওয়ায় ৬ জনের নামে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগ ও রয়েছে।

স্থানীয় এক ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ মোল্লা জানান, আওয়ামী লীগ সরকার থাকাকালীন দীর্ঘ ১৬ বছর জি এস স্বপন আমাদের সাথেই আড্ডা দিয়েছে। সরকার পতনের পর ৭ অগাস্ট থেকে আমাকে এবং আমার স্ত্রীকে ফোন দিয়ে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। টাকা না দেয়ায় আমার এবং আমার বড় ভাইয়ের নামে টঙ্গী পশ্চিম থানায় দুই মামলায় আমাদের নাম দিয়ে আসামী করছে। প্রতিদিন তার ফোনের অত্যাচারে আমরা বাড়ি ছাড়া রয়েছি। টঙ্গী পাইলট স্কুল মার্কেটের ব্যবসায়ী রিপন জানান, আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত না। তার পরও জি এস স্বপন আমার ঐতিহ্যবাহী স্টার হ্যাভেন ফাস্ট ফুডের দোকানে হামলা চালিয়ে আমার দোকান থেকে নগদ অর্থসহ ৫০ লক্ষ টাকার মালামাল নিয়ে দোকান দখল করে নিয়েছে। আমার একটি কাগজ ও দোকান থেকে নিতে দেয়নি। এছাড়াও গাজীপুর টঙ্গীর বিভিন্ন ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ, সাধারণ জনগণদের নামে- বেনামে একের পর এক মামলা করে যাচ্ছেন এই স্বপন। তার মামলা থেকে বাদ যাচ্ছে না বিএনপি নেতারাও। ইতোমধ্যে অনেকে তার সাথে সমঝোতা করে মামলা থেকে মুক্তি পেয়েছে। মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মাধ্যমে সমঝোতার জন্য হুমকি ধামকি প্রদান করে আসছে। টাকা না দিলে তাদের বিরুদ্ধে আরো মামলা দেয়ার হুমকিও দিচ্ছে সে।

জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপন

‎রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মামলায় ২৭১ জনকে একযোগে আসামি করা হয়। ওই মামলার ১৬৫ নম্বর আসামি গাজীপুর বিএনপির নেতা মুরাদ হোসেন বকুল অভিযোগ করেছেন, তাঁকে মামলায় জড়ানো হয়েছে চাঁদা না দেওয়ার কারণে। মুরাদের ভাষ্য, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হক ওরফে জি এস স্বপন তাঁর কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন। না দেওয়ায় তাঁকে রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।
‎ব্যবসায়ী হামিদ মোল্লার অভিযোগ আরও ভয়ংকর। তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের ছেলেকে ১৯ বছর বয়সী ছাত্রলীগ সদস্য বানিয়ে মামলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে! এমন নির্দয় ঘটনা কেবল বিচারহীনতার সংস্কৃতিতেই সম্ভব।

‎‎মামলার প্রকৃত বাদী বা ভুক্তভোগী নারী শিলা আক্তার নিজেও মামলার আসামিদের চেনেন না। মামলার ব্যাপারে প্রশ্ন করায় তিনি বলেন, ‘স্বপন ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেন। শিলা আক্তারের এই জবাবেই স্পষ্ট, কে প্রকৃত বাদি এই মামলার। যিনি মামলার মাধ্যমে বিচার চেয়েছেন, তিনি নিজেই জানেন না কারা অভিযুক্ত। প্রহসন আর কাকে বলে!

টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের অধ্যক্ষ আলাউদ্দিন মিয়া, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক হানিফ উদ্দিন, পরিদর্শক আবু জাফর আহম্মেদ, টঙ্গীর সিরাজউদ্দিন সরকার বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান, সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান, সহকারী প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম, ক্রীড়া শিক্ষক মোস্তফা কামাল, গাছা বঙ্গবন্ধু কলেজের অধ্যক্ষ মনির হোসেন অভিযোগ করেছেন, চাঁদা না পেয়ে তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করিয়েছেন জিয়াউল ওরফে জি এস স্বপন।

এছাড়াও টঙ্গীর দত্তপাড়া এলাকায় ময়লা ও ডিশ এর ব্যবসা নিজের নিয়ন্ত্রনে নিতে ব্যবসায়ীদের স্ত্রী দেরকে হুমকি-ধামকি এমনকি প্রকাশ্যে টাকা দাবির অভিাযোগ ও প্রমাণ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। কিন্তু তার এই মামলাবাজির ভয়ে কেউ মুখ খুলছেন না। এমন এক ছেচড়া উকিল সমাজে বিরল উল্লেখ করে এলাকাবাসীর অনেকে জানিয়েছেন যে, এই জি এস স্বপন সমাজে উকিল নামের কলঙ্ক। কথিত আছে যে, গাজীপুরের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর ছিল তার ধর্ম পিতা। যার ছত্রছায়ায় বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সে চাঁদাবাজি, মাদক, লুটপাট ও অসামাজিক কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিল।

জাহাঙ্গীরের সাথে জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপন

গত ৪ আগষ্ট উত্তরা হাউসবিল্ডিং এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের উপর যখন জাহাঙ্গীর বাহিনী আক্রমন করে তখন জাহাঙ্গীরের সাথে এই জিএস স্বপনও ঐ স্থানে উপস্থিত ছিল। পরে জনরোষে পিটুনি খেয়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সেখান থেকে পালিয়ে যায় স্বপন। ফ্যাসীস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দিন থেকেই ভোল পাল্টে প্রকাশ্যে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে এই মামলাবাজ জি এস স্বপন।

টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকার রড ব্যবসায়ী মো. কামাল ও তাঁর ছেলে মাসুদ রানা এবং জাপান স্টিল নামের অপর একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. নূরানীও অভিযোগ করেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হওয়া মামলায় আসামি করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন জিয়াউল। জনপ্রতি ২০ হাজার টাকা করে নিয়ে মামলার বাদী আসামিদের চেনেন না উল্লেখ করে হলফনামা করে আদালতে পেশ করেন তিনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর ও রাজধানীর বিভিন্ন থানায় মামলা দিয়ে আসামিদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

টঙ্গীর দত্তপাড়া হাসান লেনের বাসিন্দা কবির হোসেন পেশায় ঠিকাদার। তিনি অভিযোগ করেন, ৫ জুলাই স্থানীয় একটি মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে কৌশলে তার আইফোন ও নগদ ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন জিয়াউল হক স্বপন। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ করেন কবির। পরে বাধ্য হয়ে শুধু মুঠোফোন ফেরত দেন জিয়াউল। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে কবিরকে ফোন করেন স্বপন। আগের ঘটনার জেরে হুমকি দিয়ে নতুন একটি আইফোন কিনে দিতে বলেন। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে মামলায় আসামি (১৫৬ নম্বর) করা হয় বলে অভিযোগ কবিরের। এ ঘটনায় মুঠোফোনে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডেও স্বপনকে হুমকি দিতে শোনা গেছে। কবির হোসেন বলেন, বাদী তাকে চেনেন না, দেখেনওনি। জিয়াউল হাসান ওরফে জিএস স্বপনকে আইফোন কিনে না দেওয়ায় তিনি সুকৌশলে মামলায় নাম জড়িয়ে দেন।

ফ্যাসিস্ট সরকারের সকল অপকর্মের প্রত্যক্ষ মদদকারী সাবেক আইজিপি বেনজিরের সাথে জিএস স্বপন

গত ৪ আগস্ট রাজধানীর উত্তরায় বিএনএস সেন্টারের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে চোখে গুলিবিদ্ধ হন টঙ্গীর সফিউদ্দিন সরকার একাডেমি অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন। এ ঘটনায় ১৩ নভেম্বর ২০৩ জনের নামে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন তার বাবা আসান উল্লাহ। আসামিদের নামগুলো কে দিয়েছেন, জানতে চাইলে বাদী মো. আসান উল্লাহ বলেন, ‘আমি এ ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না।’ তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের সাংবাদিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আসান উল্লাহ বলেছিলেন, পুরো মামলাটি স্বপন ভাই (জিয়াউল হাসান) করিয়েছেন। আর মামলায় এতো নাম দেওয়া হবে, তা তিনি জানতেন না।

ভূক্তভোগীদের অভিযোগ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে এক শিক্ষার্থীর চোখে গুলিবিদ্ধ হওয়ার অভিযোগে করা মামলা নিয়ে স্বপন বাণিজ্য শুরু করেন। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও চাঁদা না পাওয়ায় আইনজীবী হিসেবে তিনি অনেকের নাম আসামির তালিকায় ঠুকে দিয়েছেন। এখন মামলা থেকে আসামিদের নাম বাদ দিতে চাঁদা দাবি করছেন। এভাবে গত ৭-৮ মাসে তিনি প্রচুর অর্থবিত্তের মালিক হয়ে গেছেন।

একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আশরাফুল আলম তালুকদার বলেন, প্রতিটি আসামির ব্যাপারে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। অপরাধের সঙ্গে কারও সংশ্লিষ্টতা না পেলে তদন্ত শেষে নাম বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপন

গাজীপুর মহানগরী পুলিশের অপরাধ (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘মামলায় আসামি করে টাকা আদায়ের বিষয়টি জেনেছি। জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপনের বিরুদ্ধে দুটি চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি জামিনে রয়েছেন। মামলা দুটি তদন্তাধীন।

টঙ্গীর মূলধারায় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই অনুরোধ করে জানান, দলের সুনাম ধরে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে এমন নেতাদের আইনের আওতায় আনার দাবি এবং দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানান।

‎উল্লেখ্য, করোনা মহামারির সময় দেশ বরেণ্য চিকিৎসক এবং মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরীর করোনা সনাক্তকরণ কীট আবিষ্কারের বিষয় নিয়ে অশালীন এবং কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের তোপের মুখে পড়ে জ এস স্বপন।

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘স্বপনের (জিয়াউল হক) এসব অনিয়মের কথা আমরাও শুনেছি। অনেকে অভিযোগও করেছেন। সে একসময় দলীয় পদ পদবীতে ছিল, এখন তার কোন পদ নেই। বিএনপিতে তার মতো লক্ষ কোটি সমর্থক। সমর্থকদের অপকর্মের দায় তো সংগঠন নিতে পারে না। স্বপন কমিটিতে না থাকায় তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। তবে, আমরা আদালতে সবাইকে বলে দিয়েছি, যেন তার এ ধরনের কোনো মামলা এন্ট্রি করা না হয়।’

এসব অভিযোগের ব্যাপারে জানতে জিয়াউল হক ওরফে জিএস স্বপনের সাথে ঢাকার ডাক এর প্রতিনিধি মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, “আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ধুয়ে পানি খান। কিছু করতে পারলে কইরেন” বলে মন্তব্য করেন।

গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

আলমগীর হোসেন
প্রকাশিত: শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
গজারিয়ায় দূর্ভোগ লাগবে সাঁকো নির্মাণ করে দিলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজিম লাভলু

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বর্ষার পানিতে পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ায় চরম দূর্ভোগে পরেছিল ২০টিরও অধিক পরিবার। এ পরিবার গুলোর স্কুল,কলেজ, ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে বিড়ম্বনায় পড়ছিল, কর্মজীবী ‘রা প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পেয়ে হেটে কর্মস্থলে থেকে বসত বাড়িতে আশা যাও করতে হতো। তাদের এই দুর্ভোগ লাগবে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন আসন্ন বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু।

 

জানা যায় তাঁর উদ্যোগ ও নিজস্ব অর্থায়নে উপজেলার বালুয়াকান্দী ডাঃ আব্দুল গাফফার স্কুল এন্ড কলেজের পশ্চিম পার্শ্বে তাঁর উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে কালভার্টের পাশে বালুয়াকান্দী পশ্চিম পাড়া বায়তুল নুর জামে মসজিদের পাশ দিয়ে প্রায় ১০০ মিটার দীর্ঘ বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে,শুক্রবার দিনব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে এই সাঁকো নির্মাণ করেন স্থানীয়’রা।

সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার বালুয়াকান্দী ইউনিয়ন এর প্রধান সড়ককের পার্শ্বে সংযোগ সড়ক না থাকায় পায়ে হাটার পথ তলিয়ে গেছে, পাশেই মসজিদ,মাদ্রাসা,হাই স্কুল অদূরে প্রাথমিক বিদ্যালয়।

বিষয়টা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পায়ে হাটার পথ ডুবে যাওয়ার পর থেকেই আমরা এখানে বসবাস করা পরিবার গুলো দূর্ভোগে পরেছিলাম,লাভলু ভাই সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় আমাদের সেই দূর্ভোগ লাগব হয়েছে।

মাদ্রাসা ছাত্র আরাফাত, মাহাদী, বলেন,রাস্তা ডুবে যাওয়ায় দুই মিনিট এর পথ আধা ঘন্টা ঘুরে মাদ্রাসায় আসতে হতো এখন সাঁকো নির্মাণ করে দেওয়ায় সহজেই আবার আসা যাওয়া করা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নাজিম লাভলু বলেন,আমি প্রতিশ্রুতি না,কাজে বিশ্বাসী।মানুষের দূর্ভোগের খবর পেয়েই সাঁকো নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করি,সুযোগ পেলে এখানে সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে দিব।