১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর
ইসরায়েল এবং হামাসের যুদ্ধবিরতি চুক্তি
ইসরায়েল এবং ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে অবশেষে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতার, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং হামাস। দীর্ঘ ৪৬০ দিন ধরে চলা সংঘাতে গাজায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান আল থানি এক বিবৃতিতে জানান, চুক্তিটি আগামী ১৯ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
তবে চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে এখনো কিছু বিষয়ের সমাধান প্রয়োজন। ইসরায়েল জানিয়েছে, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বৃহস্পতিবার তাদের মন্ত্রিসভায় ভোটাভুটি হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতে গাজায় প্রায় ৪৭ হাজার মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু
এই চুক্তির আওতায় একটি অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। এতে গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের অবসান এবং বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে উভয়পক্ষের বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিজ নিজ ঘরে ফেরার অনুমতি দেওয়া হবে। যদিও ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের কারণে অসংখ্য বাড়ি আর বাসযোগ্য নেই।
প্রথম ধাপযু
> যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে ছয় সপ্তাহ।
> হামাস ৩৩ জন ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এদের মধ্যে থাকবে নারী, শিশু ও ৫০ বছর বয়সোর্ধ্ব বেসামরিক মানুষ।
> ইসরায়েল বিপুল সংখ্যক ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। এদের অনেকেই যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন। মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্য থাকবেন ৭ অক্টোবরের পর আটক হওয়া প্রায় এক হাজার ফিলিস্তিনিও।
> ইসরায়েল গাজার জনবহুল এলাকা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে সীমান্তের ৭০০ মিটারের বেশি দূরে অবস্থান করবে। তবে নেটজারিম করিডরের নিয়ন্ত্রণ পরবর্তী পর্যায়ে ধাপে ধাপে হস্তান্তর হতে পারে।
গাজার উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দারা ঘরে ফেরার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি, প্রতিদিন ৬০০টি পর্যন্ত ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করতে পারবে।
রাফাহ সীমান্ত সাতদিনের মধ্যে খোলা হবে এবং আহত ফিলিস্তিনিরা চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে যেতে পারবেন।
মিশর-গাজার মধ্যকার ফিলাডেলফি করিডোর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী ৫০ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সরে যাবে।



আপনার মতামত লিখুন