উত্তরা রাজউক প্রকল্প
আবাসিক ভবনের পাশে অনুমোদন দেয়া হয়েছে নকশা বহির্ভূত স্কুলের
রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের প্রায় ৩০ শতাংশ কাজ এখনো অসমাপ্ত। এর মধ্যেই আগামী ৩০ জুন প্রকল্পের অ্যাপার্টমেন্টগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এ অবস্থায় অবকাঠামোগত দুর্বলতা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার অভাবে প্রকল্প এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ৫ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাসিন্দারা। নিরাপত্তা সঙ্কটে নির্ঘূম রাত পার করছেন বাসিন্দারা। সেই সাথে ডি১০ করোতোয়া ভবনের পাশেই নতুন করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে নকশা বহির্ভূত স্কুলের।
রাজউকের এমন নানা অনিয়ম নিয়ে বসবাসকারী এক বাসিন্দার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ৩০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত রেখে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক। আমরা ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা ছাড়াই বাস করছি। তার উপর স্কুলের জন্য আলাদা জায়গা বরাদ্দ থাকলেও নতুন করে আবাসক ভবনের সাথে নতুন করে স্কুল করার পরিকল্পনা চলছে। অথচ এখানে ফ্ল্যাট হওয়ার কথা। প্রকল্পের মূল নকশাতেও এই স্কুলের অস্তিত্ব নেই। এখানে স্কুল হলে হাজার হাজার শিক্ষার্থী আসবে। আবাসিক এলাকা বসাসের অনুপযুক্ত হয়ে যাবে। প্রকল্প নির্ধারিত পূর্বের স্থানেই স্কুল করার দাবি জানান এই বাসিন্দা। তিনি বলেন, প্রকল্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়ন, স্থায়ী সীমানা প্রাচীর নির্মাণ, সর্বত্র সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সহ আরও বিভিন্ন দাবি দীর্ঘদিন ধরে আমরা করে আসছি প্রকল্প পরিচালকের কাছে। কিন্তু আমাদের দাবি তিনি কর্ণপাতই করছেন না। আমাদের মূল দাবিগুলো হলো- ১. প্রকল্পের ১. প্রকল্পের এর অসমাপ্ত ৩০% কাজ অবিলম্বে সমাপ্ত করতে হবে। ২. প্রকল্পে বসবাসরত ৫০০০ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকারী হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র চালু করতে হবে। ৩. অত্র এলাকায় রাজউক স্কুল কলেজের শাখা স্থাপন করতে হবে। ৪. সার্বিক নিরাপত্তার জন্য পূর্ব দিকের রাস্তা ও লেকটিকে বøক এ এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৫. প্রকল্পের সার্বিক ব্যবস্থাপনা পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে প্রয়োজনীয় তহবিল বরাদ্দ করতে হবে। ৬. সমগ্র প্রকল্পের নিরাপত্তার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা পাশ এবং সকল সড়কে সিসি ক্যামেরা এবং গেট হতে রাউআপ এর মাধ্যমে এন্ট্রি কন্ট্রোল সিস্টেম করতে হবে। ৭. প্রকল্পের দক্ষিন পার্শে অরক্ষিত তারকাটার বেড়ার পরিবর্তে পার্মানেন্ট দেওয়াল বা সীমানা প্রাচীর দ্রæত নির্মান করতে হবে। ৮. সার্বিক পরিচালনা ও হতবিল সংগ্রহের জন্য মার্কেটের একটি ফ্লোর, রাউআপ কমিউনিটি সেন্টার, সুইমিং পুল, হেলথ ক্লাবকে সেন্ট্রাল কমিটির হাতে স্থানান্তর করতে হবে। ৯. প্রকল্পের কমার্শিয়াল বিল্ডিং এ সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের জন্য একটি ফ্লোর এবং কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি ও পাঠাগারের জন্য একটি ফ্লোর বরাদ্দ করতে হবে।
প্রকল্পে বসবাসকারী বিভিন্ন বাসিন্দাদের সাথে কথা বললে তারা জানান, আমরা বহু টাকা খরচ করে ফ্ল্যাট কিনেছি। এখন পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীন ও অসুবিধার মধ্যে আছি। দাবি বাস্তবায়ন না হলে আমরা বৃহত্তর কর্মসূচিতে যাব।

আপনার মতামত লিখুন