যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির প্রভাবে বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম, ঊর্ধ্বমুখী অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও
তেলের দাম কমতেই স্বর্ণবাজারে উল্লম্ফন, একদিনেই ঘুরে দাঁড়াল সোনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া প্রকাশ এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে স্বর্ণবাজারেও। টানা পতনের পর বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ বেড়ে আগের দিনের ক্ষতির একটি বড় অংশ পুষিয়ে নিয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৯৮ দশমিক ৪৮ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছর সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিলে স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে যায়।
অন্যদিকে, আগামী আগস্টে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৮ দশমিক ১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক দরপতনের পর অনেক বিনিয়োগকারী তাদের স্বল্পমেয়াদি অবস্থান সমন্বয় করায় স্বর্ণের বাজারে নতুন করে চাঙাভাব দেখা দিয়েছে।
ওএএনডিএর সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট কেলভিন ওয়াং বলেন, আগের দিনের বড় পতনের পর বিনিয়োগকারীরা বাজারে পুনরায় অবস্থান নিচ্ছেন। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা ইতিবাচক খবর এবং তেলের দাম কমে যাওয়ায় স্বর্ণের বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
গত বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির খসড়া প্রকাশ করে। এর আওতায় চলতি বছরের এপ্রিলে ঘোষিত যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৬০ দিন বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যাতে উভয় পক্ষ একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম কমলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির চাপও হ্রাস পায়। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ কিছুটা কমে। তবে বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি মূলত মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের ভবিষ্যৎ নীতির দিকে।
ফেডারেল রিজার্ভের সর্বশেষ নীতি নির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার ৩ দশমিক ৫০ থেকে ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশের বর্তমান সীমায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। তবে ১৯ জন নীতিনির্ধারকের মধ্যে ৯ জন চলতি বছর আরও সুদের হার বৃদ্ধির পক্ষে মত দিয়েছেন।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে ৮৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ফেডের সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ছিল ৬১ শতাংশ।
বিশ্লেষক কেলভিন ওয়াংয়ের মতে, স্বর্ণের দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও ফেডের সুদের হার সংক্রান্ত অবস্থান পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বাজার একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট সিলভারের দাম ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৬৯ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্ল্যাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪৫ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৬৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে।



আপনার মতামত লিখুন